- এই মুহূর্তে দে । শ
- মার্চ ১০, ২০২৬
বিধানসভা ভোটের আগে কুড়মি ভোটে নজর, শাহের সঙ্গে বৈঠক অজিত মাহাতোর
বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে জঙ্গলমহলের কুড়মি ভোটব্যাঙ্ককে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে। এই আবহেই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করলেন আদিবাসী কুড়মি সমাজের প্রতিনিধিরা। সোমবার সংসদ ভবনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দফতরে এই বৈঠক হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
গত অক্টোবরে পুরুলিয়ার শিমুলিয়া ময়দানে একটি সামাজিক সভা থেকে আদিবাসী কুড়মি সমাজের পক্ষ থেকে ‘নো ভোট টু তৃণমূল’ স্লোগান তোলা হয়েছিল। পরবর্তীতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কোটশিলায় অনুষ্ঠিত আরেকটি সামাজিক জমায়েত থেকেও সংগঠনের নেতারা স্পষ্ট করে দেন যে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয়নি। এই পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে তাদের বৈঠক জঙ্গলমহলের রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে জানা গেছে, পুরুলিয়ার কুড়মি সমাজের মন জয় করতে পুরুলিয়া থেকে দিল্লি পর্যন্ত সরাসরি একটি নতুন ট্রেন চালু করার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। রেল মন্ত্রক সূত্রে খবর, খুব শিগগিরই চালু হতে পারে পুরুলিয়া–আনন্দবিহার এক্সপ্রেস। এই ট্রেন চালু হলে পুরুলিয়া জেলার যাত্রীদের জন্য দিল্লি যাতায়াত অনেকটাই সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সোমবারের বৈঠকে আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিত মাহাতো, সংগঠনের সভাপতি শশাঙ্ক মাহাতো, সহ-সভাপতি সঞ্জয় কুমার মাহাতো, কার্যকরী কমিটির সদস্য শশধর মাহাতো, কমলেশ মাহাতো এবং প্রেমচাঁদ মাহাতো উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ছিলেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো এবং রাজস্থানের একজন সাংসদ। পশ্চিমবঙ্গ কুড়মি সমাজের প্রাক্তন মুলুকদার রাজেশ মাহাতো, যিনি গত ১ মার্চ বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, তিনিও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
বৈঠকের পর অজিত মাহাতো জানান, কুড়মি সমাজের দীর্ঘদিনের তিনটি দাবির বিষয়েই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। দাবিগুলি হল— কুড়মিদের জনজাতি হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, সংবিধানের অষ্টম তফসিলে কুড়মালি ভাষার অন্তর্ভুক্তি এবং সারনা ধর্মের জন্য পৃথক ধর্মীয় কোড। অজিতের দাবি, অমিত শাহ এই বিষয়গুলি নিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন এবং সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিল আনার কথাও বলেছেন।
তবে অজিত স্পষ্ট জানিয়েছেন, শুধুমাত্র আশ্বাসে সন্তুষ্ট নয় কুড়মি সমাজ। তাদের দাবি বাস্তবে কার্যকর করার পদক্ষেপ দেখতে চায় সংগঠন। পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদি এই দাবিগুলিতে সবুজ সঙ্কেত মেলে, তাহলে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে কুড়মি সমাজ সরাসরি বিজেপির পাশে দাঁড়াতে পারে।
অন্যদিকে এই বৈঠক নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক ও পুরুলিয়া জেলা চেয়ারম্যান শান্তিরাম মাহাতো বলেন, কুড়মি সমাজের দাবির সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই কেন্দ্রকে চিঠি লিখেছেন। তাঁর প্রশ্ন, একটি সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে রাজনীতিকে জুড়ে দেওয়া কতটা সঙ্গত, তা নিয়েও ভাবা দরকার। পাশাপাশি তিনি বলেন, বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কোনও সামাজিক নেতা বলে দিলে মানুষ অন্ধভাবে সেই অনুযায়ী ভোট দেয় না; প্রত্যেক ভোটারের নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ রয়েছে।
❤ Support Us






