Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৫

দ্বৈত সুবিধার সূচনা, সংশোধিত জিএসটি লাগু নিয়ে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দ্বৈত সুবিধার সূচনা, সংশোধিত জিএসটি লাগু নিয়ে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

সোমবার থেকে দেশজুড়ে ‘নতুন প্রজন্মের জিএসটি সংস্করণ’-এর সূচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এই সংস্কারকে একদিকে যেমন সঞ্চয় বৃদ্ধির উদ্যোগ বলা হচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে স্বদেশি, বা ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্যগুলির প্রতি নজর দেওয়ার নতুন মঞ্চ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই সংস্কারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যগুলির দাম কমবে, একই সঙ্গে বিলাসবহুল পণ্যগুলির ওপর কর বাড়ানো হবে। এটি বিশেষত দেশের মধ্যবিত্ত, নয়া মধ্যবিত্ত এবং গরীব জনগণের জন্য একটি ‘দ্বৈত সুবিধা’ বা ‘ডাবল বোনানজা’ এনে দেবে। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই সংস্কারের সূচনা উপলক্ষে বলেছেন, ‘এটি দেশের জন্য এক বড়ো সঞ্চয় উৎসব, যার ফলে সাধারণ মানুষ আরও বেশি সঞ্চয় করতে পারবেন।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি এবং চিনা পণ্যের বাজারে আধিপত্যের পরিস্থিতিতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এদিন দেশবাসীকে নতুন এক পথ দেখানোর ডাক দিলেন। রবিবাসরীয় বিকেলে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি ‘স্বদেশি আন্দোলন’-এর ডাক দিয়েছেন, একদিকে যেমন দেশের আত্মনির্ভরতার মন্ত্রে উজ্জীবিত, তেমনি অন্যদিকে তিনি জিএসটি সংস্কারকে ‘সাশ্রয়ের উৎসব’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমাদের দোকানপাট সাজুক স্বদেশি পণ্যে। গর্বের সঙ্গে বলুন, আসুন আমি স্বদেশি পণ্য কিনি, আমি স্বদেশি বিক্রি করি। যখন ভারতীয় পণ্য বিশ্বের বাজারে শীর্ষস্থানীয় হবে, তখনই প্রকৃত উন্নতি সম্ভব।’ তাঁর এহেন ডাকের পর প্রশ্ন উঠেছে, কেন এত দেরিতে এ সুর উঠেছে? ২০১৪ সালে ক্ষমতায় এসেছেন মোদি, তারপর ১০ বছরেরও বেশি সময় কেটে গেছে, এবং ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক একাধিকবার দোলাচলে পড়েছে, আবার, ভারত-চিন বাণিজ্য ঘাটতি এই মুহূর্তে ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে—যা প্রধানমন্ত্রীর শাসনকালেই বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে, বিরোধীরা বলছেন, ট্রাম্পের দাদাগিরি এবং চিনের বাজার দখলের বিরুদ্ধে মোদির এই সুর আসলে নতজানু কূটনীতি ঢাকার চেষ্টা।

স্বদেশি আন্দোলনের ডাকের মধ্যে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই দ্রোহকালের প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে, যখন ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বদেশি আন্দোলন উঠেছিল। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে শুরু হওয়া স্বদেশি আন্দোলনের মূল বিষয় ছিল—বিদেশি পণ্য বর্জন এবং দেশীয় পণ্য গ্রহণ করা। তখন মানুষ বিদেশি পণ্য পোড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিল, একইভাবে দেশীয় তাঁতের কাপড় বা হস্তশিল্পের ব্যবহার প্রচারিত হয়েছিল। সে সময়ের জাতীয়তাবাদী নেতা মহাত্মা গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বাল গঙ্গাধর তিলক, অরবিন্দ ঘোষসহ অন্যান্যরা দেশবাসীকে স্বদেশি শিল্প ও উৎপাদনের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাই প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘নয়া স্বদেশি আন্দোলন’কে কৌশলগত সিদ্ধান্ত বলেও দেখা হচ্ছে, কারণ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতা থেকে সরে গিয়ে, দেশবাসীকে আবার জাতীয়তাবাদের প্রেরণা দিয়ে রাজনীতির নয়া পর্বের সূচনা করতে চান নরেন্দ্র মোদি।

এদিন, প্রধানমন্ত্রী মোদি ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া নতুন জিএসটি স্ল্যাবের ঘোষণাকে তাঁর রাজনৈতিক কৃতিত্ব হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, ‘কাল সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই জিএসটি সাশ্রয় উৎসব শুরু হবে। এই উৎসবে আপনার সাশ্রয় বাড়বে এবং পণ্যের দাম সস্তা হবে। গরিব, মহিলা, ব্যবসায়ী, দোকানদার, নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণি সবাই এতে উপকৃত হবে।’ মোদি আরো বলেন, ‘উৎসবের এই মরশুমে সবার মুখ মিষ্টি হবে, এবং দেশবাসীকে অভিনন্দন জানাই ‘নেক্সট জেনারেশন জিএসটি রিফর্ম’-এর জন্য।’ প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার আগে ভারতে ছিল একাধিক ট্যাক্স ব্যবস্থা, নানা ধরণের টোল এবং বাধার পাহাড়। এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পণ্য পাঠাতে গেলে অসংখ্য ফর্ম ফিল আপ করতে হতো এবং কর দিতে হতো। এই পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে এবং ‘এক দেশ, এক কর’ ধারণা বাস্তবায়িত করতে তিনি জিএসটি সংস্কারের দিকে নজর দেন।

প্রসঙ্গত, সোমবার থেকে লাগু হওয়া, নতুন জিএসটি কাঠামোতে শুধুমাত্র ৫% এবং ১৮% স্ল্যাব থাকছে, যা দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরো কমাবে বলে দাবি কেন্দ্র সরকারের। সাবান, ব্রাশ, পেস্ট, স্বাস্থ্য বিমাসহ নানা পণ্য এখন সস্তা হবে বা কর মুক্ত হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদি এই সাশ্রয়কেই ‘ডবল বোনানজা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, ‘এ বছর আয়করে ছাড় এবং জিএসটি সংস্কারের ফলে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ প্রায় আড়াই লক্ষ কোটি টাকার সাশ্রয় করবেন। তাই আমি এটিকে সাশ্রয়ের উৎসব হিসেবে চিহ্নিত করছি।’ এরপরই স্বদেশি পণ্যের দিকে আমজনতাকে উৎসাহিত করতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বহু বিদেশি পণ্য আমাদের রোজকার জীবনে প্রবেশ করেছে। তবে এখন সময় এসেছে, আমরা সেগুলি থেকে মুক্তি পাবো। আমাদের সেই পণ্য কিনতে হবে যা আমাদের দেশের মানুষের ঘাম ও শ্রম দিয়ে তৈরি হয়েছে। আমরা গর্বের সঙ্গে বলব, আমি স্বদেশি কিনি, আমি স্বদেশি বিক্রি করি।’ দেশের সব রাজ্যকে স্বদেশি পণ্য উৎপাদনে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করবার ডাক দিয়েছেন তিনি। তাঁর এই আহ্বান থেকে পরিষ্কার, প্রধানমন্ত্রী চাইছেন যে দেশের ব্যবসায়ী, উৎপাদক, এবং রাজ্য সরকাররা একযোগে কাজ করে আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করুন। প্রধানমন্ত্রীর এ ডাকের পর ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক মহল কী প্রতিক্রিয়া আসে সেদিকে নজর রয়েছে সবার। বিশেষ করে মার্কিন চাপ এবং চিনের অর্থনৈতিক আধিপত্যের মধ্যে ভারতের পরবর্তী কৌশল কী হতে চলেছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!