- এই মুহূর্তে দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
বেলডাঙা অশান্তি কাণ্ডে এনআইএ তদন্তে হস্তক্ষেপ নয়, ইউএপিএ ১৫ ধারা প্রয়োগে সিদ্ধান্ত নেবে হাই কোর্ট—জানাল সুপ্রিম কোর্ট
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনার তদন্ত করছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। এই তদন্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তবে বুধবার শুনানিতে দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এনআইএ-র তদন্তে তারা এ মুহূর্তে হস্তক্ষেপ করবে না। পাশাপাশি বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ)-এর ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগ করা যুক্তিযুক্ত কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব কলকাতা হাই কোর্টের ওপরই ছেড়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
বেলডাঙার হিংসার ঘটনায় কলকাতা হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। সে মামলার অন্যতম আবেদনকারী ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে এনআইএ-কে দিয়ে তদন্ত করাতে পারে। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারকে প্রয়োজনে আরও কেন্দ্রীয় বাহিনী চাওয়ার কথাও বলা হয়। হাই কোর্টের এই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রায় এক মাস আগে এনআইএ-কে তদন্তভার দেওয়া হয়েছে এবং তারা ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের করেছে। ফলে এই পর্যায়ে তদন্তে হস্তক্ষেপ করার প্রশ্ন ওঠে না। তবে ইউএপিএ-র ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগের বিষয়টি নিয়ে শীর্ষ আদালত এখনই কোনও মত দিতে চায় না।
সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, এনআইএ-কে আপাতত কলকাতা হাই কোর্টে মুখবন্ধ খামে তদন্ত-সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্টে উল্লেখ করতে হবে, প্রাথমিকভাবে ইউএপিএ-র ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগের মতো উপাদান রয়েছে কি না। শুনানিতে এনআইএ-র আইনজীবী অভিযোগ করেন, হাই কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও রাজ্য পুলিশ এখনও তদন্তের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পূর্ণভাবে হস্তান্তর করেনি। এর জবাবে রাজ্য জানায়, বেলডাঙার ঘটনায় পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করেছে। ইতিমধ্যে ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত কাউকেই জামিন দেওয়া হয়নি। রাজ্যের দাবি, পশ্চিমবঙ্গই একমাত্র রাজ্য যেখানে এনআইএ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
অন্যদিকে কেন্দ্র ও এনআইএ আদালতে জানায়, বেলডাঙা বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা। অশান্তির সময় বহু দোকানপাটে আগুন লাগানো হয় এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তাই মামলাটি গুরুত্ব সহকারে স্বাধীনভাবে তদন্ত করছে এনআইএ। সংস্থার অভিযোগ, রাজ্য পুলিশ তদন্ত-সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে না। শুনানিতে ইউএপিএ-র ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, প্রত্যেক আবেগঘন বা উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার হুমকি জুড়ে দেওয়া যায় না। যদি বিস্ফোরক ব্যবহার না হয়ে থাকে এবং দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিপন্ন করার উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে প্রমাণিত না হয়, তবে ইউএপিএ-র ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগের প্রশ্ন উঠতে পারে। অভিযোগ উঠেছে, সমস্ত নথিপত্র খতিয়ে না দেখেই এনআইএ এই ধারা প্রয়োগ করেছে। এই সিদ্ধান্তের যথার্থতা বিচার করবে কলকাতা হাই কোর্ট।
উল্লেখ্য, ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গত মাসে বেলডাঙায় উত্তেজনা ছড়ায়। দফায় দফায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর, রেল অবরোধ, জাতীয় সড়কে বিক্ষোভ এবং সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। তবে হাই কোর্টের নির্দেশের পর মামলার তদন্তভার যায় এনআইএ-র হাতে। এখন ইউএপিএ-র ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগের যথার্থতা এবং তদন্তের পরবর্তী দিকনির্দেশের দিকে নজর থাকবে কলকাতা হাই কোর্টের।
❤ Support Us






