- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- জুলাই ১৬, ২০২৬
ক্লাস নাইনে তৃতীয় ভাষা নয়, চাপ কমাতে পঞ্চম বা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই শুরু হোক: কেন্দ্রকে বার্তা শীর্ষ আদালতের
বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছাত্রছাত্রীদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তাই নবম শ্রেণি থেকে তৃতীয় ভাষা পড়ানো শুরু করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য কেন্দ্রকে পরামর্শ দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট মত, নতুন কোনো ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নিতে হলে, তা অনেক আগে, পঞ্চম বা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই শুরু করা উচিত। নবম শ্রেণিতে এসে নতুন ভাষা সংযোজন পড়ুয়াদের জন্য অযথা মানসিক চাপের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
বৃহস্পতিবার, বিচারপতি বি ভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চ এ মন্তব্য করেছে। তামিলনাড়ুতে জওহর নবোদয় বিদ্যালয় স্থাপন সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানির সময় কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারপতি নাগরত্ন বলেন, ‘কেন্দ্র সরকারকে বলুন, ক্লাস নাইনে তৃতীয় ভাষা চালু না করতে। এতে ছাত্রছাত্রীদের উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ বাড়বে। যদি নতুন ভাষা শেখাতেই হয়, তা হলে পঞ্চম বা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শুরু করা হোক। নবম শ্রেণি অত্যন্ত চাপের সময়। অষ্টম শ্রেণি থেকেই সে চাপ শুরু হয়ে যায়।’
এদিন যদিও আদালত ‘সিবিএসই’-র ‘তৃতীয় ভাষানীতি’র বৈধতা নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি, তবুও শিক্ষাব্যবস্থায় ভাষানীতির বাস্তব প্রভাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে বেঞ্চ। বিচারপতি নাগরত্নের বক্তব্য, নবম শ্রেণি থেকেই মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির চাপ বাড়তে থাকে। সে সময় নতুন একটি ভাষা সংযোজন পড়ুয়াদের জন্য অতিরিক্ত বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিচারপতি নাগরত্ন আরও বলেন, ‘তৃতীয় ভাষা ক্লাস নাইনে শুরু হওয়ার কথা নয়, বরং সেখানেই তার সমাপ্তি হওয়া উচিত।’ নিজের ছাত্রজীবনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, ১৯৭৬ সালেই দশম শ্রেণির পাঠ অষ্টম শ্রেণি থেকে শুরু হয়ে যেত। বর্তমান সময়ে প্রতিযোগিতা ও শিক্ষার চাপ যে বহুগুণ বেড়েছে, সে কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এ মামলার সূত্রপাত তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের ভাষানীতির বিতর্কে। রাজ্যে বরাবরই দুই-ভাষা নীতি অনুসরণ করা হয়। সে কারণে জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ের ত্রিভাষা সূত্র নিয়ে আপত্তি জানিয়ে এসেছে বিভিন্ন সরকার। পূর্ববর্তী ডিএমকে সরকার আদালতে যুক্তি দিয়েছিল, নবোদয় বিদ্যালয় প্রকল্প কার্যত রাজ্যের ভাষানীতির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। তাদের অভিযোগ ছিল, ত্রিভাষা সূত্রের আড়ালে হিন্দিকে বাধ্যতামূলক করার চেষ্টা চলছে। এদিনের শুনানিতে, বিচারপতিরা সে আশঙ্কা অবশ্য খারিজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিচারপতি নাগরত্ন বলেন, তিনভাষা নীতিতে হিন্দি বাধ্যতামূলক নয়। ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের পছন্দমতো অন্য ভাষাও বেছে নিতে পারে। তাঁর প্রশ্ন, ‘দেশের প্রায় সব রাজ্যেই নবোদয় বিদ্যালয় রয়েছে। তা হলে তামিলনাড়ুর ছাত্রছাত্রীরা ভাষা শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে কেন?’ আদালতের আরও পর্যবেক্ষণ, কোনো রাজ্যের নিজস্ব শিক্ষানীতি থাকতেই পারে। কিন্তু তার ফলে ছাত্রছাত্রীদের কেন্দ্রীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। নবোদয় বিদ্যালয়গুলিকে গ্রামীণ এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবেই দেখছে শীর্ষ আদালত।
প্রসঙ্গত, ‘সিবিএসই’-র নতুন তিনভাষা নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার শুনানি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের অন্য একটি বেঞ্চে চলছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সে বেঞ্চ সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করেছে। ফলে ভাষানীতি নিয়ে আইনি বিতর্ক এখনো অব্যাহত। এ দিনের শুনানিতে তামিলনাড়ু সরকারকে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য তিন সপ্তাহ সময় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ১১ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানি। তবে তার আগেই দেশের শিক্ষানীতি নিয়ে শীর্ষ আদালতের এ পর্যবেক্ষণ নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল।
❤ Support Us






