- দে । শ
- নভেম্বর ১১, ২০২৩
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জামিন পেলেন “মিডলম্যান” প্রসন্ন কুমার রায়
রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার মিডলম্যান প্রসন্ন কুমার রায়কে জামিন দিল সুপ্রিম কোর্ট। এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতিতে অযোগ্যদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় এই প্রসন্নেরও ভূমিকা ছিল বলে জানা গিয়েছিল সিবিআই তদন্তে। প্রসন্ন কুমার রায়ের জামিনের পর এই নিয়ে রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর তিনজন জামিন পেলেন। এর আগে মানিক ভট্টাচার্যের স্ত্রী শতরূপা ভট্টাচার্যকে প্রাথমিকের নিয়োগ মামলায় জামিন দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। এসএসসি নিয়োগ মামলায় জামিন পেয়েছিলেন নীলাদ্রি ঘোষ। এসএসসি মামলায় দ্বিতীয় জামিন হল প্রসন্ন কুমার রায়ের। প্রসঙ্গত এই প্রসন্ন কুমার রায়ের বাড়িতেই বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষের দলিলের প্রতিলিপি পাওয়া গিয়েছিল, তা নিয়ে চাঞ্চল্য হতেই দিলীপ ঘোষ ব্যাখ্যা দিয়ে জানিয়ে দেন কি কারণে প্রসন্নর বাড়িতে তাঁর দলিল পাওয়া গিয়েছিল।
প্রসন্ন কুমার রায় ছিলেন এসএসসি নিয়োগের উপদেষ্টা কমিটির প্রধান শান্তিপ্রসাদ সিংহের ঘনিষ্ঠ। আবার তাঁর সঙ্গে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল বলে শোনা গিয়েছিল নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত চলাকালীন। নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত দু’টি মামলার তদন্তে নেমে প্রসন্নর নাম পেয়েছিল সিবিআই। গ্রুপ ডি নিয়োগ মামলা এবং নবম-দশমের শিক্ষক নিয়োগ মামলায় অভিযুক্ত প্রসন্নকে গ্রেফতারও করেছিল সিবিআই। তবে গ্রেফতার করা হলেও প্রসন্নের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত ট্রায়াল শুরু হয়নি। এমনকি চার্জশিট দেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও তার প্রেক্ষিতে কোনও পদক্ষেপ না করায় বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন প্রসন্ন কুমার রায়। জামিনের আবেদন করে মামলা করেন। তাঁর হয়ে ওই মামলা লড়েন বর্ষীয়ান আইনজীবী মুকুল রোহতগি এবং আইনজীবী অনির্বাণ গুহঠাকুরতা। শুক্রবার সেই মামলারই রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট।
প্রসন্ন কুমার রায়ের আইনজীবী অনির্বাণ গুহঠাকুরতা জানান, ‘‘২০২২ সালে গ্রেফতার করা হয়েছিল প্রসন্ন কুমার রায়কে। চার্জশিটও দেওয়া হয়েছিল। অথচ তার পরও সেই চার্জশিটে কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। কোনও ট্রায়ালও শুরু করা যায়নি। ফলে এই অভিযুক্তেরা জানতেই পারছেন না তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিটে আসলে অভিযোগ কী। সেটা অবিচার হচ্ছে।’’ এই শর্তেই জামিনের আবেদন করা হয়েছিল প্রসন্নের। আইনজীবী অনির্বাণ গুহঠাকুরতা কথায়, আমরা বিষয়টি বিচারপতিকে জানিয়েছিলাম। শুনানির সময় সিবিআইকে বিচারপতি বলেন, “তোমরা হোমরাচোমরাদের বাইরে রেখে এই সব ব্যবসায়ীদের আটকে রেখেছো! কেন আটকে রাখা হয়েছে এঁকে?’’ শুনানিতে এর জবাবে সিবিআই জানিয়েছিল, “তদন্তের প্রয়োজনে আটকে রাখা হয়েছে।” জবাবে বিচারপতি পাল্টা প্রশ্ন করেন, “তা হলে সিবিআই এত দিন ধরে কী করছিল?” শেষ পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর হয় প্রসন্নের।
কিছু শর্ত দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রসন্নকে জামিন দিয়ে জানিয়েছে, জামিনের শর্ত নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে নিম্ন আদালতে। তারাই ঠিক করবে, প্রসন্নকে জামিন দেওয়ার পরিবর্তে তাকে কী কী শর্ত মেনে চলতে হবে।
তবে প্রসন্ন কুমার রায়ের জামিনের পর রাজ্যের শাসক দলের অভিযোগ স্পষ্ট হয়ে গেল যে ইডি, সিবিআই আসলে রাজনৈতিক অভিসন্ধি নিয়ে বিরোধীদের রাজনৈতিক ভাবে হেনস্থা করছে।
❤ Support Us





