- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- অক্টোবর ৫, ২০২৩
সিকিমের মেঘভাঙা বৃষ্টির জল তিস্তাকে প্লাবিত করে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, এখনও পর্যন্ত মৃত ১৪ নিখোঁজ ১০২, এর মধ্যে ২২ জন সেনা
সেনাবাহিনী এবং ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স বা এনডিআরএফ-এর নেতৃত্বে একাধিক উদ্ধারকারীদল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অনুসন্ধান অভিযান চালাচ্ছে। ভারতীয় বায়ুসেনাও প্রস্তুত রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ যে ভিডিও শেয়ার করছে সেই ছবি দেখে উত্তর-পূর্ব রাজ্যে ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা দেখে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে৷
হিমালয়ের পাদদেশে পূর্ব সিকিমের পাকিয়ং-থেকে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, এখানে মৃতের সংখ্যা ৭। এই জেলায় নিখোঁজ রয়েছে ৫৯ জন; এর মধ্যে রয়েছে ২৩ জন সেনা সদস্য। সিকিম পর্যটকদের কাছে একটি জনপ্রিয় ছুটির গন্তব্য। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবরে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে ৩ হাজারের এরও বেশি পর্যটক আটকা পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে, সিকিমের মুখ্য সচিব ভিবি পাঠক বলেছেন যে উত্তর-পশ্চিম সিকিমের লোনাক হ্রদের উপর একটি মেঘভাঙা বৃষ্টি একেবারে বিস্ফোরণের মতো করে আছড়ে পড়ে, ফলে ওই হ্রদের জলস্তর বেড়ে হ্রদটি উপচে পড়ে এবং সেই জল তিস্তা নদীর দিকে প্রবাহিত হয়। তিস্তা এখানে বাংলাদেশে প্রবেশের আগে সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তিনি বলেন, “এই ঘটনার পরই খুব দ্রুত তিস্তা অববাহিকার বিভিন্ন অংশে জল বৃদ্ধির খবর আসতে থাকে, বিশেষ করে চুংথাং-এ যেখানে তিস্তার ৩টি বাঁধ ভেঙ্গে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।”
তুস্তার প্লাবনে রাস্তা ভেসে যাওয়া এবং সেতুগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাজ্য প্রশাসন খাদ্য সরবরাহের ঘাটতির আশঙ্কা করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যোগাযোগ পুনরুদ্ধার করতে সেনাবাহিনী বেইলি ব্রিজ — বহনযোগ্য, প্রিফেব্রিকেটেড ব্রিজ — একত্রিত করছে।
তিস্তা সিকিম থেকে বাংলায় প্রবাহিত হওয়ায় রাজ্যের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার বাড়িতে কাদাজল ঢুকেছে। পশ্চিমবঙ্গের কালিম্পং জেলার তিস্তা বাজার এলাকায় নদী এতোটাই স্ফীত হয়েছে যে বাড়িঘরে কাদাজল জমা হয়ে রয়েছে এবং নদীর জলের তোড়ে গাছগুলি, ঘরবাড়ি সবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু বাড়িতে, ঘর ভরে গিয়েছে কাদায়। নদীতীরবর্তী অনেক বাড়ি ভেসে গেছে তিস্তার জলের দাপটে।
❤ Support Us





