- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ৯, ২০২৫
সমাজসেবায় অনন্য কীর্তি, রাষ্ট্রপতি পুরস্কারে সম্মানিত শিলিগুড়ির অনুপ
সমাজসেবার নিঃস্বার্থ ব্রতই তাঁকে এনে দিল দেশের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি। দুর্যোগে ঝাঁপিয়ে পড়া, রক্তদানে জীবন বাঁচানো, পরিবেশ বাঁচাতে পথে নামা — এমন নানা উদ্যোগেরই ফলস্বরূপ এ বার রাষ্ট্রপতির হাত থেকে ‘ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিম পুরস্কার’ পেলেন শিলিগুড়ির অনুপ বিশ্বাস। গত ৬ অক্টোবর নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে এই সম্মান গ্রহণ করেন অনুপ। এ বছর দেশের মধ্যে মোট ৪০ জনকে এই সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে ৩০ জন এনএসএস ভলান্টিয়ার, ১০ জন প্রোগ্রাম অফিসার। পশ্চিমবঙ্গ থেকে সম্মান পেয়েছেন মাত্র ২ জন, শিলিগুড়ির অনুপ এবং মুর্শিদাবাদের সৌভিক চট্টোপাধ্যায়। সূর্যসেন কলেজের প্রাক্তনী অনুপের সাফল্যে গর্বিত গোটা উত্তরবঙ্গ। কলেজের অধ্যক্ষ প্রণব কুমার মিশ্র বলছেন, ‘আমাদের কলেজ পরপর তিনবার এই সম্মান পেয়েছে, যা নজিরবিহীন। অনুপের মতো সমাজমনস্ক ছাত্ররা আমাদের প্রেরণা।’
২০২০ সালে তরাই তারাপদ আদর্শ বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে সূর্যসেন কলেজে বাণিজ্য বিভাগে ভর্তি হন অনুপ। কলেজে ঢুকেই যোগ দেন এনএসএস-এর ২ নম্বর ইউনিটে। শুরু থেকেই রক্তদান শিবির, ত্রাণ সংগ্রহ, পথসুরক্ষা সচেতনতা, বৃক্ষরোপণ — সর্বত্রই অনুপের সরব উপস্থিতি। ২০২২ সালের ময়নাগুড়ি ট্রেন দুর্ঘটনার সময় স্থানীয়দের উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি। কখনও ইসলামপুর, কখনও সোনাদা — যে কোনো বিপর্যয়ের খবর পেলেই ছুটে গিয়েছেন ঘটনাস্থলে। শুরু করেন নিখরচায় বাইক অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা, যা স্বীকৃতি পায় স্থানীয় মহল ছাড়িয়ে প্রশাসনিক মহলেও।
নয়াদিল্লির অনুষ্ঠান শেষে বেশির ভাগ পুরস্কারজয়ীরা যখন বিশ্রামে, তখন অনুপ ফিরে যান বন্যাপীড়িত উত্তরবঙ্গে। হাতের পুরস্কার ঝুলিতে রেখেই পৌঁছে যান জলডুমুরপাড়ায়, দুর্গতদের ত্রাণ বিলিতে। পাশে ছিলেন তাঁর দুই সহকর্মী পল্লব বিশ্বাস ও রিনা রায় বিশ্বাস, যাঁদের সঙ্গে মিলে চালান একটি অবৈতনিক স্কুল। সেখানে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিশুদের বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছেন তাঁরা। মাত্র ১৮ বছর বয়সে প্রথম রক্তদান করেছিলেন অনুপ। তাঁর দেওয়া রক্তে এক ব্যক্তির প্রাণ বাঁচে। সেটাই বদলে দেয় জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি। ‘এক সময় পরিবার আমার সমাজসেবার কাজে খুব একটা উৎসাহ দিত না। কিন্তু আজ তারা গর্ব করে। পুরস্কারের ই-মেল পেয়ে সবাই আবেগে ভেসে গিয়েছিলাম’ – বললেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত অনুপ। বর্তমানে মাস্টার অফ সোশ্যাল ওয়ার্ক নিয়ে পড়াশোনা করছেন তিনি। তার ফাঁকেই চালিয়ে যাচ্ছেন সমাজকল্যাণমূলক নানা কর্মকাণ্ড। প্রসঙ্গত, সূর্যসেন কলেজ এ নিয়ে পরপর ৩ বছর রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেল — যা রাজ্যে একমাত্র নজির। ২০২২ সালে পল্লব বিশ্বাস (ভলান্টিয়ার), ২০২৩ সালে প্রোগ্রাম অফিসার ববিতা প্রসাদ এবং এবার অনুপ বিশ্বাস — সকলেই সূর্যসেন কলেজের গর্ব।
❤ Support Us






