- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ২৮, ২০২৩
১৯ বছর পর কোন অপরাধে প্রাণ গেল সিঙ্গাপুরের মহিলার ? রাষ্ট্রীয় হিংসা বন্ধের দাবিতে মুখরিত শহর
কঠোর মাদক আইনের বলি হলেন ৪৫ বছরের এক মহিলা। ঘটনাটি ঘটেছে সিঙ্গাপুরে। গত ১৯ বছরে কোনো নারীকে হেরোইন পাচারে জন্য চরম শাস্তি দেয়নি সে দেশ। কিন্তু দেশে হেরোইন পাচার রুখতে এমন পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করেন সে দেশের প্রশাসনিক কর্তারা। আন্তর্জাতিক মহল থেকে এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে। তা সত্ত্বেও নিজেদের অবস্থান বদল করেনি সে দেশের সরকার।আগামী সপ্তাহেও রয়েছে আর একটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা। বার বার চূড়ান্ত শাস্তির খাঁড়া অপরাধীদের ওপর নেমে আসায় দেশের নাগরিকদের মধ্যে প্রবল অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। জায়গায় জায়গায় প্ল্যাকার্ড হাতে দেশের সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। যোগ দিয়েছেন বহু সাধারণ মানুষ। প্রত্যেকের দাবি, অবিলম্বে বন্ধ হোক রাষ্ট্রীয় হিংসা।
মাদক পাচার মামলায় দোষী সাব্যস্ত মহিলার নাম সারিদউই জামানি। আদালতের রায়ে শুক্রবার ভোরে তাঁকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। ২০১৮-য় হেরোইন পাচারের সময় হাতে নাতে ধরা পড়ে ওই মহিলা। তল্লাশি চালিয়ে তার কাছে থেকে ৩১ গ্রাম ডায়মরফিন পাওয়া যায়। সেন্ট্রাল নারকোটিক্স ব্যুরোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই পরিমাণ হেরোইন এক সপ্তাহের মধ্যে ৩৭০ জনকে মাদকাশক্তে পরিণত করতে যথেষ্ট। এক্ষেত্রে বলা দরকার, এক সপ্তাহের মধ্যেই দুজনকে একই মামলায় ফাঁসিকাঠে ঝোলাল সিঙ্গাপুর সরকার। দুদিন আগেই মহম্মদ আজিজ হুসেন নামের বছর ৫৬-র এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ৫০ গ্রাম হেরোইন রাখার অভিযোগে।
মাদকের বিরুদ্ধে যত গুলো দেশ অত্যন্ত কড়া, তার মধ্যে অন্যতম হল সিঙ্গাপুর। সে দেশের আইন অনুযায়ী ১৫ গ্রামের বেশি হোরোইন ও ৫০০ গ্রামের বেশি গাঁজা নিয়ে কেউ ঘোরাঘুরি করলেই তার ওপর নেমে আসতে পারে মৃত্যুর খড়গ। তাই নিয়ম মেনেই আজিজ ও জামানির ফাঁসি হয়েছে। তবে, আন্তর্জাতিক মহলে এমন ঘটনাকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশে গত এক বছরে মাদক পাচারের অপরাধে ফাঁসির সাজা কার্যকরের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েছে। মোট ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কার্যকর করা হয়েছে। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ মানবাধিকার সংগঠনগুলি। তাঁদের মতে, কম পরিমাণ মাদক নিয়ে ঘুরলে তাকে কোনোভাবেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যায় না। বরং আসক্তদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর চেষ্টাই মাদক পাচার প্রতিরোধে কার্যকর পন্থা হতে পারে।
❤ Support Us






