- এই মুহূর্তে দে । শ
- নভেম্বর ৫, ২০২৫
রাজ্যে থামছে না এসআইআর ‘আতঙ্ক’, এবার ভাঙড়ে আত্মঘাতী যুবক
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা এবং রাজ্যে এসআইর–এনআরসি সংক্রান্ত বিভ্রান্তি ও আতঙ্কের আবহের মধ্যে ফের আত্মহত্যার ঘটনা। এ নিয়ে মোট ৯ জনের প্রাণ গেল। বুধবার সকালে ভাঙড়ের জয়পুরে নিজের ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় রফিক গাজি নামে এক যুবকের দেহ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ও স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রফিক এনআরসি ও এসআইআর নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্কে ভুগছিলেন। রাজ্যে এসআইআর চালু হওয়ার পর তার ভয় আরো বেড়ে যায়। তিনি ভাবছিলেন, হয়তো তাঁকে ভিটেমাটি হারাতে হবে। সে ভয় আর মানসিক চাপ একত্রে মিলিয়ে তাকে চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ ভাঙড়ে পৌঁছান তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা। তিনি মৃত ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রফিকের মৃত্যুর পেছনে পারিবারিক সমস্যা এবং মানসিক চাপও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে মৃত ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলা হবে।
জানা যাচ্ছে, কয়েক দিন ধরে খাওয়া–দাওয়া বন্ধ রেখেছিলেন মৃত ব্যক্তি। তাঁর স্ত্রী মদিরা বিবি জানিয়েছেন, ‘ও বারবার বলছিল, আমার কাছে কোনো কাগজ নেই। আমায় এখান থেকে বের করে দেবে। এই আতঙ্কে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল।’ রফিকের শ্বশুরবাড়ি ভাঙড়ে, সেখানে তিনি বসবাস করলেও তাঁর মূল ঠিকানা উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়া ব্লকের কুলটি পঞ্চায়েত। বিধায়ক শওকত মোল্লা বলেন, ‘ওর বাবা-মায়ের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। কিন্তু নিজের নামে কোনো দলিল ছিল না। সে হতাশা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’ একেরপর এক আত্মহত্যার ঘটনায় রাজনীতির আঙিনাও সরগরম। বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা মন্তব্য করেন, ‘এসআইআর নিয়ে তৃণমূলের অবস্থান পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। এখন মৃতদেহকেও ওরা রাজনীতির অংশ বানাচ্ছে।’ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গতকালই জানিয়েছেন, ‘কেউ আতঙ্কিত হবেন না। দলের পক্ষ থেকে পাশে থাকা হবে এবং প্রয়োজনে লিগ্যাল সেলের মাধ্যমে সবরকম সাহায্য করা হবে’। তবুও ভয় আর বিভ্রান্তি কমছে না। প্রশ্ন ও উদ্বেগে দিশেহারা সাধারণ লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ।
❤ Support Us






