- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ২৪, ২০২৫
নভেম্বরেই শুরুতেই বঙ্গে এসআইআর, শেষ জানুয়ারিতে। নিরাপত্তার বিষয়ে বিএলওদের সঙ্গে কথা বলবে ইসি
নভেম্বরেই পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের নির্বাচনী ময়দানে শুরু হতে চলেছে এক গুরুত্বপূর্ণ কাজ— ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা এসআইআর। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ধাপে ধাপে শুরু হবে এই প্রক্রিয়া, যা জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। বিহারে এই কাজ শেষ হওয়ার পর এবার পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরল, তামিলনাড়ু ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে আগে এই সংশোধন কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। কারণ, আগামী বছর এই ৫ রাজ্যে রয়েছে বিধানসভা নির্বাচন।
গত দু–দিন ধরে দিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকটোরাল ম্যানেজমেন্টে দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেছে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিশনার ড. সুখবীর সিং সান্ধু এবং ড. বিবেক জোশি। বৈঠকের শেষে জানানো হয়েছে, রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অক্টোবরের মধ্যেই ‘ম্যাপিং’-এর কাজ শেষ করতে হবে।
‘ম্যাপিং’ অর্থাৎ ২০০২ সালের শেষ এসআইআর তালিকার সঙ্গে বর্তমান ভোটার তালিকার মিল খোঁজা। এই তুলনামূলক যাচাইয়ের মাধ্যমে বোঝা যাবে, কতজন ভোটারের নাম আগের তালিকার সঙ্গে মিলে, আর কতজনের ক্ষেত্রে নতুন করে নথিপত্র যাচাই করতে হবে। কমিশন সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গে এই কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের হিসেবে, গড়ে ৫২ থেকে ৫৪ শতাংশ ভোটারের নাম ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে মিলে গিয়েছে। ফলে রাজ্যের প্রায় ৪৬ শতাংশ ভোটারকে এসআইআর চলাকালীন নতুন করে পরিচয়পত্র বা প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। ইতিমধ্যেই সবচেয়ে বেশি মিল পাওয়া গিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরে— প্রায় ৬৮ শতাংশ। পূর্ব বর্ধমানে মিলের হার ৬১.৫৬ শতাংশ, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৬৫.৬৯ শতাংশ, বীরভূমে ৫৫ শতাংশ। তবে উত্তর ২৪ পরগনায় এই হার মাত্র ৪২ শতাংশ। দার্জিলিং ও জলপাইগুড়িতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কাজ কিছুটা পিছিয়ে আছে, কিন্তু বাকি জেলাগুলিতে ম্যাপিং প্রক্রিয়া অক্টোবরের শেষ সপ্তাহেই শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এসআইআর কার্যকর করার জন্য বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও), ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও)-দের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের কাজও শেষ পর্যায়ে। ঘোষণার সাত দিনের মধ্যে বিএলওদের প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘোষণার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বিএলওদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা যাচাই এবং তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ করতে হবে। যাঁদের নাম পুরনো তালিকার সঙ্গে মিলবে না, তাঁদের কাছে নোটিস পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় নথি চাওয়া হবে। যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকবেন সংশ্লিষ্ট ইআরও ও এইআরও। তাঁদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত তালিকায় কার নাম থাকবে বা বাদ যাবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কমিশনের তরফে ডেপুটি ডিরেক্টর আর পবন বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, সব রাজ্যকেই এসআইআর-এর প্রস্তুতি দ্রুত শেষ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের মূল লক্ষ্য— ভোটার তালিকায় যেন একটিও ভুল না থাকে। তাই রাজ্যগুলিকে ম্যাপিং-এর পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের বাস্তব অবস্থা নিয়মিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।
কমিশন সূত্রে খবর, আগামী ২৭ অক্টোবর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ইআরওদের বৈঠক শুরু হবে, যেখানে বিএলওদের সঙ্গে একযোগে কাজের পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। বিএলওদের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা নিয়ে আশ্বস্ত করেছে কমিশন। কারণ, ভোটের আগেই এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘দুই দশক আগের ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমান তালিকা মেলানো সহজ কাজ নয়। কিন্তু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখার জন্য এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আমরা চাই, সংশোধিত এই তালিকাই আগামী বছরের ভোটের ভিত্তি হোক।’ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে কমিশন একদিকে যেমন ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে চাইছে, তেমনই পুরনো তালিকায় থাকা অসঙ্গতি বা মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ারও চেষ্টা হচ্ছে। তবে এই প্রক্রিয়া চলাকালীন রাজ্যে ভোটের কাজ যাতে থমকে না যায়, সেটিও কমিশন মাথায় রাখছে। সব মিলিয়ে একথা স্পষ্ট— আসন্ন নির্বাচনের আগে দেশের নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি সক্রিয়। ম্যাপিং থেকে মাঠপর্যায়ের এনুমারেশন— সব কাজ শেষ হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর শুরুর দিন। কমিশন চাইছে, সংশোধিত ও যাচাইকৃত ভোটার তালিকাকেই ধরে আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের আয়োজন করা হোক, যেমনটি ইতিমধ্যেই বিহারে হচ্ছে।
❤ Support Us






