Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ২৩, ২০২৫

শবরীমালায় সোনা ‘উধাও’ কাণ্ডে গ্রেফতার প্রাক্তন প্রশাসনিক কর্মকর্তা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
শবরীমালায় সোনা ‘উধাও’ কাণ্ডে গ্রেফতার প্রাক্তন প্রশাসনিক কর্মকর্তা

কেরালার শবরীমালা মন্দিরের সোনা-উধাও কেলেঙ্কারির মামলায় বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) বুধবার রাতেই গ্রেপ্তার করেছে প্রাক্তন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বি. মুরারি বাবুকে। কোট্টায়ম জেলার নিজের বাসভবন থেকে তাঁকে আটক করে তিরুবনন্তপুরমের ক্রাইম ব্রাঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হলেও, কথায় অসংগতি মেলায় তাঁকে গ্রেফতার করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর আত্মীয়-স্বজনও দফতরে উপস্থিত হন।

২০১৯ সালে সাবারিমালা মন্দিরে ঘটে যাওয়া সোনা-উধাও কেলেঙ্কারির সঙ্গে প্রথম থেকেই মুরারি বাবুর নাম জড়িয়ে আছে। অভিযোগ, তিনি যখন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন, প্রধান অভিযুক্ত উণ্ণিকৃষ্ণন পোট্টির সঙ্গে মিলে মন্দিরের দেবতার সোনা-প্রলেপকৃত ফলক এবং শ্রীকোভিলের কাঠের ফ্রেম নিয়ে দুর্নীতি করেছিলেন। এও অভিযোগ যে, তিনি সরকারি নথি জাল করবার বিষয়েও জড়িত ছিলেন। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছে, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিশাল এক ষড়যন্ত্রে বাবু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তদন্তে উঠে এসেছে, তিনি ২০১৯ সালে পোট্টির প্রস্তাব টিডিবির কাছে পাঠিয়েছিলেন যাতে দ্বারপালক দেবতার ফলক ইলেকট্রোপ্লেটিং করে তামার পরিবর্তে সোনা দেওয়া হয়। অভিযোগ, একই প্রক্রিয়া ২০২৫ সালে পুনরায় প্রয়োগের চেষ্টা করেন তিনি।

মন্দিরের সোনা-উধাও সংক্রান্ত দুইটি পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, যেখানে মোট ১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত উণ্ণিকৃষ্ণন পোট্টি ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন। বাবু উভয় মামলার অভিযুক্ত। স্থানীয় আদালত ইতিমধ্যেই পোট্টিকে নভেম্বরের ৩০ তারিখ পর্যন্ত এসআইটির হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া, বাবু এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, যারা সোনা-প্রলেপকৃত ফলক সরানোর সময় মন্দিরের নিরাপত্তা ও পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন।

ত্রিবাঙ্কুর দেবস্বম বোর্ডের ভিজিলেন্স বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে ধৃত প্রাক্তন কর্মকর্তা সহ ৭ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ উঠে। বাবু তখন হরিপাদে ডেপুটি দেবস্বম কমিশনার পদে ছিলেন। তদন্তে ‘শিট’ উল্লেখ করেছে যে, কিছু ফলক এবং ফ্রেম পোট্টির হাতে হস্তান্তরের সময় যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। ওয়াকিবহালদের মতে, এটি শুধু মন্দিরের অর্থনৈতিক ক্ষতির নয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আস্থা ও সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুতর মামলা। জানা যাচ্ছে, তদন্তকারী দল ইতিমধ্যেই সোনা চুরির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের সংযোগ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!