- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৫
জাতীয় নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার সোনম ওয়াংচুক
রাজ্য মর্যাদা ও ষষ্ঠ তফসিলের দাবিকে কেন্দ্র করে লাদাখের পরিস্থিতি টালমাটাল, দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষোভের আগুন। আর চলমান এ বিক্ষোভের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর নেতৃত্বে রয়েছে তরুণ প্রজন্ম। স্থানীয়রা বলছেন, এটি নেপালের ‘জেন জি–এর আদলে বিদ্রোহ’। বহু পুরনো দাবি নিয়ে যখন প্রথাগত নেতৃত্ব ধীরেগতিতে কথা বলছে, তখন তরুণরা রাস্তায় নেমে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, ‘এ ভূমি আমাদের, এখানকার অধিকারও আমাদের চাই।’ এহেন পরিস্থিতির বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন পরিবেশ কর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। শুক্রবার গ্রেফতার করা হয়েছে আন্দোলনের মুখ সোনম ওয়াংচুককে।
জানা যাচ্ছে, শুক্রবার সকালে তাঁকে আটক করে লেহ পুলিশ। অভিযোগ, তাঁর ‘উস্কানিমূলক’ ভাষণ ও মন্তব্যের জেরেই বুধবারের হিংসাত্মক বিক্ষোভে প্রাণ গিয়েছে ৪ জনের, আহত হয়েছেন অন্তত ৯০ জন। শুধু গ্রেফতার নয়, ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করা হয়েছে। যদিও ওয়াংচুক সহিংসতায় নিজের ভূমিকা অস্বীকার করে আগেই বলেছিলেন, ‘এই ন্যায়সঙ্গত দাবির জন্য যদি আমাকে জেলে যেতে হয়, আমি প্রস্তুত।’
বছরের পর বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে চলা লাদাখের জনআন্দোলন হঠাৎ করেই ভয়াবহ মোড় নেয় গত বুধবার। কেন্দ্রের দাবি, সরকার লেহ অ্যাপেক্স বডি ও কার্গিল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স–এর সঙ্গে এ নিয়ে বারবার আলোচনা চালিয়েছে, এমনকী মে মাসে কয়েকটি বিষয়ে মৌখিক চুক্তিও হয়। কিন্তু তার পরেও আন্দোলন থামেনি। অক্টোবরে আবার আলোচনার কথা ছিল, তার মাঝেই ১০ সেপ্টেম্বর সোনম ওয়াংচুক অনশন শুরু করেন। দাবি, লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দিতে হবে। সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় আনতে হবে পার্বত্য অঞ্চলকে। প্রথমে ছিল শান্তিপূর্ণ ধর্না, কিন্তু ১৫ দিন পর, ২৪ সেপ্টেম্বর, রাস্তায় নামে শতাধিক যুবক। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে লেহ শহর। আগুন ধরানো হয় বিজেপির পার্টি অফিসে, ভাঙচুর চলে প্রশাসনিক ভবনে।
প্রশাসনের অভিযোগ, এই উত্তেজনার মূল জ্বালানি ছিল সোনম ওয়াংচুকের ভাষণ। তিনি তাঁর বক্তব্যে ‘আরব বসন্ত’, ‘নেপালের জেন-জি বিপ্লব’-এর মতো শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন, যার ফলেই জনতা সহিংস হয়ে ওঠে। যদিও ওয়াংচুক বারবার বলেছেন, ‘আমি কাউকে কোনোরকম হিংসার জন্য উৎসাহিত করিনি। আমি অহিংসায় বিশ্বাসী, এতদিন ধরে সে পথেই অধিকারের আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছি। আমি শুধু লাদাখবাসীর গণতান্ত্রিক অধিকারের কথা বলেছি।’ তিনি আরও দাবি করেছেন, তাঁর সংস্থা কোনো বিদেশি অনুদান নেয় না। বরং ইউনাইটেড নেশনস, সুইজারল্যান্ড ও ইতালির কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। সে সব লেনদেন যথাযথ কর বাবদ জমাও হয়েছে।
গতকাল, তাঁর সংস্থা হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অফ অলটারনেটিভস লাদাখ–এর বিরুদ্ধে এফসিআরএ অনিয়মের অভিযোগ তুলে বাতিল করা হয়েছে সংস্থাটির বিদেশি অনুদান গ্রহণের লাইসেন্স। বলা হয়, বিদেশি অর্থে পরিচালিত এ সংস্থার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। এরপরই শুক্রবার ওয়াংচুককে গ্রেফতার করা হল। ওয়াংচুকের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, ‘সরকার কথায় কথায় সংলাপের কথা বলছে, অথচ দেখা যাচ্ছে, কেউ সত্যি কথা বলতে গেলেই জেলে পাঠানো হচ্ছে। এটা শান্তির চেষ্টা নয়, প্রতিহিংসা।’
জানা যাচ্ছে, সোনম ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের হওয়ায়, সাধারণ মামলার মতো তাঁর জামিনে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ নেই। লাদাখ প্রশাসন সূত্রে খবর, এখনো পর্যন্ত ঠিক হয়নি তাঁকে স্থানীয় জেলেই রাখা হবে, না কি বাইরে কোথাও নিয়ে যাওয়া হবে। গোটা বিষয়টি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে রয়েছে। ওয়াংচুকের গ্রেফতার হবার ঘটনায় দেশজুড়ে শুরু হয়েছে প্রবল রাজনৈতিক চাপানউতোর। কংগ্রেসের জয়রাম রমেশ বলেছেন, ‘৬ বছর আগে কেন্দ্র বলেছিল, লাদাখের জন্য ‘স্বর্ণ যুগ’ আসবে। আজ তারা কেউ অধিকারের প্রশ্ন তুললে জেলে ঢোকাচ্ছে। এভাবে মানুষের কণ্ঠরোধ করা যায় না।’ তিনি আরো বলেন, ‘ওয়াংচুককে এনএসএ-এর আওতায় গ্রেফতার প্রমাণ দেয়, সরকার একজন চিন্তাশীল, শিক্ষিত নাগরিকের কণ্ঠকে ভয় পাচ্ছে।’ লেহ ও কার্গিলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, স্থানীয় ছাত্র সংগঠন ও পরিবেশবাদীরাও একজোট হয়ে এই গ্রেফতারের প্রতিবাদে পথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।
❤ Support Us






