Advertisement
  • দে । শ
  • জুলাই ১৭, ২০২৩

সপ্তাহব্যাপী বর্ষণে বিপর্যস্ত দক্ষিণ কোরিয়া, এখনো পর্যন্ত মৃত ৪০। নিরুদ্দেশ একাধিক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সপ্তাহব্যাপী বর্ষণে বিপর্যস্ত দক্ষিণ কোরিয়া, এখনো পর্যন্ত মৃত ৪০। নিরুদ্দেশ একাধিক

টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দক্ষিণ কোরিয়ার জনজীবন। সপ্তাহব্যাপী বর্ষণে এখনো পর্যন্ত ৪০ জন মারা গিয়েছেন। সোমবারও জলযন্ত্রণার বলি আরো ১৩। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল। এখানে অধিকাংশ এলাকাই এখন জলমগ্ন। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, বিপদাপন্নদের উদ্ধারের জন্য সবরকমভাবে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বহু মানুষ বন্যায় মারা গিয়ে থাকতে পারে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে, যতক্ষণ না তাঁদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে এ নিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো কিছু বলা সম্ভব নয়।

রবিবার, ৯ জুলাই থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবল বর্ষণ শুরু হয়েছে। দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ এখন জলের তলায়। শহরের বহু আন্ডারপাসে জল জমে গিয়েছে। যে কারণে গাড়ি চলাচলে সমস্যা দেখা দিয়েছে। দেশের উত্তরাংশে অবস্থিত গিয়ংসাং প্রদেশ পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় সেখানে ভূমিধসের কারণে বহু মানুষ মারা গিয়েছেন। বন্যার কারণে ৯ জন সম্পূর্ণ নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছিলেন। তাদের সন্ধান মিলেছে সোমবার। উদ্ধারকারীরা নিরাপদে তাদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। এখনো পর্যন্ত ৬৪০০ জন বাসিন্দাকে বন্যা উপদ্রুত অঞ্চল থেকে তবে, আজ নতুন করে সুড়ঙ্গের নিচে ১২ জনের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে। যা ঘিরে আরো উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, এখনো বহু মানুষ জলবন্দি অবস্থায় দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন । তাঁদের কাছে এখনো পৌছাতে বিপর্যয় পারেনি মোকাবিলা বাহিনীর আধিকরা। সে চেষ্টাই চালাচ্চছেন তাঁরা।

গ্রীষ্মের অবসানে দক্ষিণ কোরিয়ায় মৌসুমি বর্ষার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। কিন্তু ক্রমশ ভয়াল রূপ ধারণ করছে সে। আবহবিদদের পূর্বাসভাস, বুধবার পর্যন্ত দেশের নানাক প্রান্তে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি ইয়ুন সামরিক বাহিনীকে নামিয়েছেন উদ্ধারকার্যের জন্য। সেই সঙ্গে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, যে এলাকাগুলোর অবস্থা খারাপ, সেগুলোকে বিশেষ বিপর্যয় অঞ্চল রুপে ঘোষণা করা হোক, যাতে সেখানে সরকারি সাহায্য দ্রুত পৌছে যেতে পারে। সেই সঙ্গে তিনি আরো জানিয়েছেন, জলবায়ু ক্রমশ পরিবর্তন ঘটছে, তাঁর প্রভাব জনজীবন ও জীব জগতের ওপর পড়ছে। একে অনিবার্য মেনেই কাজ করতে হবে। অন্যদিকে, দেশের বহু অংশে কেন এখনো ত্রাণ পৌছায়নি, সে নিয়ে জনমানসে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ অঞ্চলগুলো অত্যন্ত দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। সেখানে উদ্ধারকারীদের পৌছাতে স্বাভাবিক কারণেই সময় লাগেছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। ইতিমধ্যে অতি বৃষ্টিপাতের কারণে সারা দেশে ভ্রমণ ব্যাহত হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে প্রায় ২০টি বিমান এবং নিয়মিত রেল পরিষেবাসহ কয়েকটি বুলেট ট্রেন স্থগিত করা হয়েছে। দেশের ২০০ টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এখন সম্পূর্ণ বন্ধ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!