Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ৭, ২০২৫

খগেন মুর্মুকে আক্রমণের ঘটনায় রাজ্যের রিপোর্ট তলব স্পিকারের । বিলম্বে আইনি পদক্ষেপের হুমকি কিরেন রিজিজু, শুভেন্দুর । বিপর্যয় ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক তর্জা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
খগেন মুর্মুকে আক্রমণের ঘটনায় রাজ্যের রিপোর্ট তলব স্পিকারের । বিলম্বে আইনি পদক্ষেপের হুমকি কিরেন রিজিজু, শুভেন্দুর ।  বিপর্যয় ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক তর্জা

জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায় দুর্যোগ কবলিত এলাকায় বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর উপর হামলার ঘটনার জেরে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কেন্দ্র । রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা । এই তথ্য উত্তরবঙ্গ সফরে এসে সাংবাদিকদের জানালেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু।

মঙ্গলবার বাগডোগরা বিমানবন্দরে অবতরণের পরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রিজিজু জানান, তিনি উত্তরবঙ্গে এসেছেন দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বচক্ষে দেখতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতিনিধি হিসাবে মৃতদের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলেও জানান তিনি ।
রিজিজুর সফরের শুরুতেই তাঁর সঙ্গে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । সেখান থেকে তাঁরা সড়কপথে মিরিকের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রিজিজুর সফরসূচি অনুযায়ী, দিনভর তাঁর একাধিক কর্মসূচি রয়েছে এবং তিনি রাত কাটাবেন শিলিগুড়িতে । বুধবার তিনি যাবেন বিজনবাড়ি, সেখানকার পরিস্থিতিও সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন ।

সোমবার, উত্তরবঙ্গের দুর্যোগ-বিপর্যস্ত জলপাইগুড়ির নাগরাকাটা এলাকায় পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মালদহ উত্তর আসনের সাংসদ খগেন মুর্মু এবং শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ । সেই সময় সেখানে উপস্থিত কিছু বিক্ষোভকারী তাঁদের উপর চড়াও হয় । প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ইট ছোড়া হয়, যার আঘাতে রক্তাক্ত হন সাংসদ খগেন মুর্মু। বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে ধাক্কা দিয়ে মারধরের চেষ্টা করা হয়। । দুজনেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন । আহত সাংসদ খগেন মুর্মুর চোখের নিচের হাড় ভেঙেছে । হাসপাতাল সূত্রে খবর তাঁর অস্ত্রপচার করতে হবে, প্রয়োজনে তাঁকে দিল্লির এইমসে স্থানান্তরিত করা হতে পারে ।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সোমবার নাগরকাটায় পৌঁছেই জনপ্রতিনিধিদের ওপর আক্রমণের ঘটনা অনভিপ্রেত এবং দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী । রাজনীতি ভুলে, উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়ে সকলে মিলে একসঙ্গে কাজ করার বার্তাও দেন তিনি । পাশাপাশি রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন । উত্তরবঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক এবং প্রশাসনিক সহায়তা দানের ঘোষণার পরই কেন্দ্র বিঁধে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, দুর্যোগে সহায়তা দানের কোনো প্রতিশ্রুতি বা সদিচ্ছা কেন্দ্রের তরফে দেখানো হয়নি ।

গতকাল রাতেই উত্তরবঙ্গের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজ্য সরকার এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেছেন এবং দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁর এক্স পোস্টে । মোদি তাঁর এক্স পোস্টে অভিযোগ করেছেন, রাজ্য সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে দুর্যোগের পরিস্থিতি ব্যবহার করছে । তিনি এও লিখেছেন, ‘‘বিপর্যয়ের মধ্যে রাজনীতি করার চেষ্টা করা ঠিক নয় ।’’ স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে মোদির এই পোস্টার নিশানা তৃণমূল অর্থাৎ রাজ্যের শাসক দল ।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালক্ষেপ না করে সেই এক্স হ্যান্ডেলেই মোদির সমালোচনার পাল্টা জবাব দিয়ে মোদিকে তীব্র আক্রমণ করেছেন । তিনি তাঁর এক্স পোস্টে লিখেছেন, ‘‘প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে রাজনীতি করার কোনও অধিকার নেই।’’ তৃণমূলের বক্তব্য, বিজেপি নেতারা কোনও ত্রাণ বা সহায়তা না নিয়ে শুধুমাত্র নির্বাচনী ফায়দা তোলার জন্য নাগরাকাটা গিয়েছিলেন। মমতা আরও লিখেছেন, ‘‘যারা ক্ষতিগ্রস্ত, তাদের পাশে দাঁড়ানোর বদলে বিজেপির নেতারা রাজনীতি করছেন।’’

মঙ্গলবার বাগডোগরায় সাংবাদিক সম্মেলনে রিজিজু বলেন, “লোকসভার স্পিকার সোমবারই এই ঘটনায় রাজ্য সরকারকে নোটিস দিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছেন। যদি রিপোর্ট দিতে রাজ্য বিলম্ব করে, তবে স্বাধিকারভঙ্গের প্রস্তাব অনুযায়ী যথোপযুক্ত সাংবিধানিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
রিজিজুর মতে, এই ঘটনা কেবল একজন সাংসদ বা বিধায়কের উপর আক্রমণ নয়, এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুতর ইস্যু। তিনি আরও বলেন, রাজ্য সরকার স্পিকারের নোটিসের প্রেক্ষিতে রিপোর্ট জমা দিলে তবেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার যখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু মিরিকে দুর্যোগ পরিদর্শনে যাচ্ছেন, তখন একই রাস্তায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও দেখা যাচ্ছে একই কর্মসূচিতে অংশ নিতে। ফলে এই সফর ঘিরে রাজনীতির উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে আবারও সংবিধানিক এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েন চরমে উঠেছে। একজন সাংসদের উপর আক্রমণ নিঃসন্দেহে গুরুতর এবং তা কেন্দ্রীয় স্তরে লোকসভার স্পিকারের হস্তক্ষেপে পৌঁছে যাওয়াই তার প্রমাণ। তবে এই ঘটনায় কতটা আইনত ও সাংবিধানিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, আর কতটা তা রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে ব্যবহৃত হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয় ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!