Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ১৯, ২০২৫

এসএসসির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা কবে ? জল্পনার আবহে সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা শিক্ষা দফতরের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
এসএসসির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা কবে ? জল্পনার আবহে সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা শিক্ষা দফতরের

এসএসসির শিক্ষক নিয়োগের বহু প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় এসএলএসটি পরীক্ষা হতে পারে সেপ্টেম্বরের প্রথম এবং দ্বিতীয় রবিবার। সম্ভাব্য দিন ঠিক করে স্কুল সার্ভিস কমিশন জানিয়েছে, ৭ সেপ্টেম্বর নবম-দশম শ্রেণির জন্য এবং ১৪ সেপ্টেম্বর একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য নেওয়া হতে পারে নিয়োগ পরীক্ষা। যদিও এই পরীক্ষার দিন সরকারি ভাবে এখনো ঘোষণা হয়নি, তবে কমিশনের তরফে স্কুলগুলিকে ইতিমধ্যেই প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। স্কুলগুলোর প্রধান শিক্ষকদের পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট নির্দেশ—বিদ্যালয়, শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের প্রস্তুত রাখতে হবে।

একই সময়ে শুরু হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সেমিস্টার পরীক্ষা। ৭ সেপ্টেম্বরের পরদিন, অর্থাৎ ৮ সেপ্টেম্বর রয়েছে প্রথম ভাষার পরীক্ষা। ১৩ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ দ্বিতীয় এসএসসি পরীক্ষার আগের দিন রয়েছে কম্পিউটার সায়েন্স, পরিবেশবিদ্যা, ভিসুয়াল আর্ট, হেলথ এন্ড ফিজিক্যাল এডুকেশন সহ একাধিক বিষয়ের পরীক্ষা। এরপর, ১৫ সেপ্টেম্বর আবার রয়েছে ইতিহাস, সাইকোলজি, কমার্শিয়াল ল সহ গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। ফলে শিক্ষক মহলের একাংশের আশঙ্কা, উচ্চ মাধ্যমিকের মধ্যেই এ নিয়োগ পরীক্ষা নিতে গেলে, তা বিশাল প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। স্কুল সার্ভিস কমিশনের এক কর্তা জানিয়েছেন, ‘আমরা সরকারের কাছে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পরীক্ষা নেওয়ার অনুমতি চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। এখনো পর্যন্ত সরকার নির্দিষ্ট ভাবে কিছু জানায়নি। তারা জানালেই আমরা পরীক্ষার দিন ঘোষণা করব।’

এদিকে, বিপুল আবেদনের সংখ্যা থেকেই বোঝা যাচ্ছে, চাকরিপ্রার্থীদের উৎসাহ কতটা। নবম-দশম শ্রেণির জন্য আবেদন করেছেন প্রায় ৩ লক্ষ ৫৬ হাজার প্রার্থী। একাদশ-দ্বাদশের ক্ষেত্রে সেই সংখ্যা ২ লক্ষ ৬১ হাজার। প্রাথমিকভাবে আবেদনের শেষ দিন ছিল ১৪ জুলাই ছিল, পরে তা বাড়িয়ে ২১ জুলাই পর্যন্ত করা হয়। ওবিসি সংস্ক্রান্ত জটিলতা মেটাতে, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে, ওই ক্যাটাগরির সকল প্রার্থীকে ‘জেনারেল’-এর আওতায় আবেদন করবার নির্দেশ দেওয়া হয়। কমিশন সূত্রে খবর, মূল সময়সীমার মধ্যেই অধিকাংশ আবেদন জমা পড়ে গেছিল, বর্ধিত সময়সীমায় আবেদন তুলনায় অনেকটাই কম।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের এসএসসি দুর্নীতি মামলার জেরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাতিল হয় ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি। সুপ্রিম আদালতের নির্দেশ মেনে কমিশন নতুন নিয়োগবিধি প্রকাশ করে। গত ৩০ মে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এসএসসি জানায়, শিক্ষক নিয়োগ চাকরির অনলাইন আবেদন শুরু হবে ১৬ জুন রাত ১০টা ৩৫ মিনিট থেকে। সবেমাত্র শেষ হয়েছে আবেদন পর্ব, এর মধ্যেই পরীক্ষার সম্ভাব্য দিন নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। তবে, বিতর্কের এখানেই শেষ নয়, নতুন নিয়োগবিধি ঘিরে ইতিমধ্যেই একাধিক মামলা হয়েছে কলকাতা হাই কোর্টে। কমিশনের তরফে জানানো হয়, যাঁরা ‘অযোগ্য’ বলে চিহ্নিত হয়েছেন, তাঁরা পরীক্ষায় বসতে পারবেন না। কিন্তু চাকরি হারানো শিক্ষকদের পুনরায় পরীক্ষায় বসার অনুমতি দিয়েছে আদালত। প্রশ্ন উঠেছে, কেন পূর্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ১০ নম্বর বাড়তি দেওয়া হচ্ছে, কেন বয়সের অতিরিক্ত ছাড়? এসব প্রশ্ন কেন্দ্র করেই একাংশ চাকরিপ্রার্থী হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ (বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি স্মিতা দাস) এসএসসির নতুন বিধিকে বৈধতা দিলেও, সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ গিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টে। গত শুক্রবার দায়ের হয়েছে এসএলপি, শোনা যাচ্ছে, আগামী সপ্তাহেই মামলার শুনানি হতে পারে।

এ আবহে, শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার নির্ধারিত দিন নিয়ে তৈরি হয়েছে চাপা উত্তেজনা। অনেকের মতে, পুজোর আগেই যদি নির্ধারিত পরীক্ষা সম্পন্ন করা যায়, তা হলে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বহুদিন পরে হলেও একটি নিশ্চিত পথে এগোবে। অন্যদিকে, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার মাঝে এতো বড় মাপের একটি নিয়োগ পরীক্ষা আদৌ কতটা বাস্তবসম্মত—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন চাকরিপ্রার্থী আর শিক্ষামহলের একাংশ। তবে এসএসসির তরফে যে হারে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, তাতে আশার আলোও দেখছেন বহু চাকরিপ্রার্থী। একদিকে আইনি লড়াই, অন্যদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, দুই মিলিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মাঠে নেমেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!