- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ৬, ২০২৫
দুই দফায় বিধানসভা ভোটের ঘোষণা, গণনা ১৪ নভেম্বর। বিহারে স্বচ্ছতার নজির গড়তে চায় নির্বাচন কমিশন
বিহারে নির্বাচনী যুদ্ধের দামামা বেজে গেল । চলতি বছরের নভেম্বরে ২ দফায় হবে ভোটগ্রহণ। প্রথম দফায় ৬ নভেম্বর এবং দ্বিতীয় দফায় ১১ নভেম্বর। ফল ঘোষণা ১৪ নভেম্বর। সোমবার বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলনে গণতান্ত্রিক মহোৎসবের দিনক্ষণ ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, নির্ধারিত তারিখে ২ দফায় ২৪৩টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ হবে। প্রথম দফায় ১২১টি, দ্বিতীয় দফায় ১২২টি। মনোনয়ন জমার শেষ দিন ১৭ অক্টোবর, আর প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ অক্টোবর। দ্বিতীয় দফার ১২২টি আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত এবং প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৩ অক্টোবর। এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়েছে সংশোধিত ভোটার তালিকা। সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, ‘এই নির্বাচন হবে সবচেয়ে সহজ, নিরাপদ এবং স্বচ্ছ। বিহার এবার দেখিয়ে দেবে কীভাবে প্রযুক্তি ও সুশাসনের সহায়তায় গণতন্ত্র আরও মজবুত করা যায়।’
বিহারের চলতি বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২২ নভেম্বর। সে সময়সীমার মধ্যেই ভোট প্রক্রিয়া শেষ করতে তৎপর কমিশন। বিশেষ করে এবারের ভোটে নির্বাচন কমিশন বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে, তা নজর কেড়েছে জাতীয় স্তরে। কমিশনের বক্তব্য, বিহারই এবার গোটা দেশের সামনে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চলেছে। রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যা ৭ কোটি ৪২ লক্ষ। এর মধ্যে ৩ কোটি ৯২ লক্ষ পুরুষ, ৩ কোটি ৫০ লক্ষ মহিলা এবং প্রথমবার ভোট দিতে চলেছেন প্রায় ১৪ লক্ষ তরুণ-তরুণী। ভোটার তালিকায় এমনো আছেন প্রায় ১৪ হাজার প্রবীণ নাগরিক, যাঁদের বয়স ১০০ বছরেরও বেশি। বিহার বিধানসভার ২৪৩টি আসনের মধ্যে ২০৩টি সাধারণ, ৩৮টি তপশিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত এবং ২টি তপশিলি উপজাতির জন্য সংরক্ষিত আসন। রাজ্যজুড়ে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৯০ হাজার ৭১২টি। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বাধ্যতামূলকভাবে ‘ওয়েবকাস্টিং’ করতে হবে। যেসব এলাকায় রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ, সেসব জায়গায় ২৫০টি কেন্দ্রে ঘোড়ায় করে টহল দেবে পুলিশ এবং ১৯৭টি কেন্দ্রে নৌকায় করে পৌঁছবেন ভোটকর্মীরা।
কমিশনের দাবি, বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫ হতে চলেছে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর ভোট। এবারে প্রথমবারের জন্য ইভিএম-এ প্রার্থীদের রঙিন ছবি থাকবে। আগের মতো সাদাকালো ছবি নয়। প্রতিটি কেন্দ্রে মোবাইল ফোন জমা রাখার ব্যবস্থা থাকবে। ভোটারদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো, ভোটার তথ্য স্লিপে স্পষ্টভাবে দেওয়া থাকবে সিরিয়াল ও পার্ট নম্বর, যাতে ভোটার চিহ্নিতকরণ হয় সহজ ও দ্রুত। প্রযুক্তিগত দিক থেকেঅ রয়েছে একাধিক নতুনত্ব। কমিশনের নিজস্ব অ্যাপে রিয়েল টাইম ভোটার টার্নআউট দেখা যাবে। একটি কেন্দ্রের ভোটারের সংখ্যা ১২০০-র বেশি হবে না, এমন নিয়মও জারি করা হয়েছে। মনোনয়ন থেকে গণনা পর্যন্ত সমস্ত প্রক্রিয়া এবার ডিজিটাল ভাবে ট্র্যাক করা যাবে। এছাড়াও, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো খবর রুখতে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করেছে কমিশন। যেসব ভোটারদের নাম নতুন করে তালিকায় যুক্ত হয়েছে, তাঁদের ভোটার কার্ড আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই পৌঁছে যাবে।
পাশাপাশি এবারের নির্বাচনে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য থাকবে একজন করে সাধারণ পর্যবেক্ষক, এবং ৩৮টি জেলায় থাকবে ৩৮ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক। সঙ্গে থাকবেন ৬৭ জন ব্যয় পর্যবেক্ষক, যারা নির্বাচন চলাকালীন প্রচার খরচের উপর নজরদারি চালাবেন। দিন ঘোষণার আগেই নির্বাচনী প্রেক্ষাপটেও জমে উঠেছে লড়াই। একদিকে রয়েছে বিজেপি ও জেডিইউ-এর পুরনো জোট, যার নেতৃত্বে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। অপরদিকে, কংগ্রেস ও আরজেডি নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ জোট। কংগ্রেস নেতারা লাগাতার নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। এমন আবহেই রাজ্যের শাসনভার নির্ধারণের মহাযজ্ঞ শুরু হচ্ছে। যদি সঠিক ও স্বচ্ছ নির্বাচন হয়, তাহলে বিহারে সরকার গড়বে ‘ইন্ডিয়া’ জোট, আত্মবিশ্বাসী কংগ্রেস। বর্তমানে ২৪৩ আসনের মধ্যে এনডিএ জোটের দখলে রয়েছে ১৩১টি আসন— বিজেপি ৮০, জেডিইউ ৪৫, এইচএএম(এস) ৪ এবং ২ জন নির্দল। ওপারে বিরোধী শিবিরে রাজনীতির ব্যাটন আরজেডির হাতে। তাদের সঙ্গে রয়েছে কংগ্রেস, সিপিআই(এমএল), সিপিআই(এম) ও সিপিআই। মোট ১১১টি আসন নিয়ে মাঠে নেমেছে এই মহাজোট। যার মধ্যে আরজেডি-র ঝুলিতে ৭৭টি, কংগ্রেসের ১৯টি, আর বামেদের সম্মিলিত ভাবে ১৫টি আসন। যুযুধান দুই শিবিরের বাইরে এবারের নির্বাচনে আত্মপ্রকাশ করছে প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ দল। তাঁরা ২৪৩টি আসনেই প্রার্থী দিচ্ছে। একই পথে হেঁটেছে আম আদমি পার্টিও। কমিশনের সাংবাদিক বৈঠকের আগেই নিজেদের ১১ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে আপ। তাদেরও লক্ষ্য— পূর্ণ শক্তিতে লড়াই। ৬ এবং ১১ নভেম্বর— দুটি তারিখেই বিহারের জনমত ঠিক করবেন, আগামী ৫ বছর রাজ্য শাসন করবে কোন দল। ১৪ নভেম্বর রায় প্রকাশ্যে এসে জানিয়ে দেবে বিহারের ভবিষ্যৎ।
❤ Support Us






