- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ৪, ২০২৩
ময়নায় জাতীয় এসসি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান। প্রশাসনিক গাফিলতি নিয়ে অরুণ উষ্মা। গ্রামবাসীর ক্ষোভে এলাকা ছাড়ল পুলিশ
বিজেপি নেতা বিজয় কৃষ্ণ ভূঁইয়ার খুনের ঘটনার তদন্তের এসে রাজ্য পুলিশকে তীব্র ভর্ৎসনা করলেন জাতীয় এসসি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান অরুণ হালদার। এমনকি তিনি বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভোটে জিতে আজ মুখ্যমন্ত্রী সেই ভেটের মধ্যে এসসি ভেটও আছে। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়িত্ব এসসিদের নিরাপত্তা দেওয়া। প্রশাসনিক গাফিলতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছছে এই রাজ্যে,তাই এতো খুন,ধর্ষণ হচ্ছে। এসব নিয়ে দিল্লিতে প্রশাসনকে ডেকে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দেন কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান।
বৃহস্পতিবার প্রথমে জাতীয় এসসি কমিশনের ভাইস চপয়ারম্যান অরুণ হালদার বাকচায় যেখানে বিজয়কৃষ্ণ ভুঁঞা খুন হন সেই জায়গায় পৌঁছন। ঘটনাস্থলে পৌঁছেই পুলিশের আইসির কাছে প্রশ্ন করেন কেন এখানে এসপি হাজির হননি? ডিএম কেন নেই? তিনি বলেন এই জাতীয় খুন বা ধর্ষণের ঘটনা হলে ঘটনাস্থলে যদি জাতীয় এসসি কমিশনের প্রতিনিধিদল আসে তখন সেখানে সংশ্লিষ্ট জেলার এসপি,ডিএম দের উপস্থিত থাকার কথা। কার নির্দেশে এভাবে জাতীয় এসসি কমিশনকে অপমান করা হচ্ছে? এই প্রশ্নের মুখে পড়ে, রীতিমত ধমক খেয়ে স্থানীয় থানার আইসি আমতা আমতা করে বলেন, পটাশপুর এ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমস্যা হচ্ছে, তাই এসপি আসতে পারেননি। এরপর জাতীয় এসসি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান অরুণ হালদার বলেন, কার নির্দেশে ঘটনাস্থলে, যেখানে রক্তের দাগ রয়েছে, সেই জায়গাটা ঘিরে রাখা হয়নি? অরুণ হালদারের তোপের মুখে পড়ে রীতিমতো থতোমতো খেয়ে যায় স্থানীয় পুলিশ। অরুণ হালদার ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে গ্রামবাসীদের সামনেই পুলিশকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, অন্য রাজ্যে এই জাতীয় ঘটনার তদন্তে গেলে ডিএম, এসপি উপস্থিত থাকেন। কার নির্দেশে এই নিয়ম ভঙ্গ করা হচ্ছে?
এরপর অরুণ হালদার স্পষ্ট বলেন, প্রশাসনিক গাফিলতি চূড়ান্ত পর্যায়ে গেলেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। ডিএম,এসপি কোন সাহসে সাংবিধানিক এই নিয়ম ভঙ্গ করার সাহস দেখান? কার নির্দেশে এসব হচ্ছে? রাজ্যে কোন আইন শৃংখলার নাম নেই দেখেই এই হারে খুন-ধর্ষণ চলছে বলেও অরুণ হালদার স্পষ্ট প্রকাশ্যে গ্রামবাসীদের সামনে দাঁড়িয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন এই বিষয়টি নিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে যাবেন এবং সেখানে তিনি অভিযোগ জানাবেন। অরুণ হালদার স্পষ্ট বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ যে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, যাদের ভোটে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন তার মধ্যে এসসিদের ভোটও আছে। তাই তাদের নিরাপত্তা দেওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়িত্ব। অথচ সেটা হচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখানে প্রমাণ লোপের চেষ্টা চলছে। পুলিশ চূড়ান্ত ভাবে গাফিলতি করেছে। কেন রাতে বিজয়কৃষ্ণবাবুর মৃতদেহ পেয়ে পুলিশ মৃতের বাড়ির লোকেদের খবর না দিয়ে দেহ নিজেরা নিয়ে গেল? কোন প্রমাণ লোপের চেষ্টা করছে পুলিশ?
এদিন জাতীয় এসসি কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয় কৃষ্ণ ভূঁঞার কন্যার সঙ্গে কথা বলেন। বিজয়কৃষ্ণ ভুঁঞার কন্যা অরুণ হালদারের কাছে তাঁর বানার খুনের ঘটনা তুলে ধরেন।
অরুণ হালদারের কাছে বিজয়কৃষ্ণ ভুঁঞার মেয়ে বলেন, যে রাস্তা দিয়ে বাবা আসছিল, সেখানে একটা ঘর ভাড়া করে ছিল তৃণমূলের লোকজন। মধু সাহা বলে একজন মুগুড় দিয়ে বাবার মাথায় মারে। শিয়াল, কুকুরের মতো বাবাকে ওরা মারে। রক্ত,মাংস ওই জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। আমি,আমার মা পুলিশের পায়ে ধরি। পুলিশ আমাদের সাহায্য করেনি। কুকুরের মতো আমাদের সঙ্গে ব্যবহার করেছে। এরপর বাইকে করে তৃণমূলের লোকেরা বাবাকে তুলে নিয়ে যায়।
এই কথা শোনার পরই জাতীয় এসসি কমিশনের চেয়ার পার্সন বেরিয়ে যান পুলিশ ক্যাম্প দেখতে। তারপরই পুলিশকে গ্রামবাসীরা ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখায়। পুলিশ এক প্রকার গাড়ি নিয়ে গ্রাম ছেড়ে পালায়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, তৃণমূল ও পুলিশ দেহ নিয়ে চলে যায়। পরিবারের হাতে দেও দেয়নি। পুলিশ প্রমাণ লোপের চেষ্টা করছে।
❤ Support Us






