Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ১৩, ২০২৫

১০০ দিনের কাজে কেন্দ্রীয় বকেয়া ৬৫০০ কোটি টাকা । বাজার থেকে ফের ২৯০০০ কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে রাজ্য

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
১০০ দিনের কাজে কেন্দ্রীয় বকেয়া ৬৫০০ কোটি টাকা । বাজার থেকে ফের ২৯০০০ কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে রাজ্য

১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে কেন্দ্রের কাছে এখনও প্রায় ৬৫০০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে রাজ্যের। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও লোকসভা দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, “১ অগাস্ট থেকে ১০০ দিনের কাজের টাকা দেওয়া শুরু করার নির্দেশ ছিল। কিন্তু বাংলাকে বঞ্চিত করে আগের পাওনা না মিটিয়েই মোদি সরকার সুপ্রিম কোর্টে চলে গেছে।” তাঁর দাবি, কেন্দ্রের এই বঞ্চনার ফলেই রাজ্য সরকারকে বাজার থেকে অতিরিক্ত ঋণ তুলতে বাধ্য হতে হচ্ছে।

ঋণের বোঝা বাড়ছে, ডিসেম্বরেই প্রায় পূর্ণ হবে ধার তোলার লক্ষ্য

চলতি অর্থবর্ষে (২০২৫–২৬) রাজ্য সরকার বাজার থেকে ঋণ তোলার বাজেট নির্ধারিত লক্ষ্য প্রায় পূরণ করে ফেলতে চলেছে। অর্থ দপ্তরের শীর্ষ সূত্রের খবর অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যেই মোট নির্ধারিত ঋণগ্রহণের প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়ে যাবে। রাজ্যের এই দ্রুত ধার তোলার প্রবণতা নিয়ে অর্থনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। মূলত কন্যাশ্রী, আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান এবং বাংলার আবাস প্রকল্পে ব্যয় করা হবে, নতুন করে নেওয়া ঋণের টাকা ।

তিন মাসে ২৯ হাজার কোটি টাকার ঋণ

সূত্রের দাবি, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর— এই তিন মাসে রাজ্য সরকার বাজার থেকে তুলবে প্রায় ২৯,০০০ কোটি টাকা।

মাস আনুমানিক ঋণগ্রহণের পরিমাণ

ডিসেম্বর ১৫,০০০ কোটি টাকা (সবচেয়ে বেশি)

নভেম্বর ১১,০০০ কোটি টাকা

অক্টোবর ৩,০০০ কোটি টাকা

ইতিমধ্যে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্য সরকার ৪৯,০০০ কোটি টাকা ধার নিয়েছে। ফলে এই ২৯,০০০ কোটি টাকা তোলা হলে, ডিসেম্বরের শেষে মোট ঋণ দাঁড়াবে প্রায় ৭৮,০০০ কোটি টাকায়, যা বাজেটে নির্ধারিত ৮১,৯৭২.৩৩ কোটি টাকার প্রায় ৯৫ শতাংশ।

রাজ্য সরকার ডিসেম্বরের মধ্যেই বার্ষিক ঋণগ্রহণ কার্যত সম্পূর্ণ করতে চাইছে। এর ফলে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ঋণ তোলার সুযোগ সীমিত থাকবে, সর্বাধিক ৪,০০০ কোটি টাকার মতো। তবে প্রয়োজনে FRBM আইনে নির্ধারিত ঋণসীমা অতিক্রমের সুযোগ সরকারের হাতে খোলা রয়েছে।

ঋণের ভার কতটা বাড়ছে

বাজেটের তথ্য অনুযায়ী—

২০২৫–২৬ অর্থবর্ষ শেষে রাজ্যের মোট ঋণ দাঁড়াবে প্রায় ৭.৭২ লক্ষ কোটি টাকা। যা ২০২৪–২৫ সালের সংশোধিত অনুমান ৬.৩০ লক্ষ কোটি টাকার তুলনায় ৯.২১% বেশি।

২০১০–১১ সালে (বামফ্রন্ট সরকারের শেষ বছরে) রাজ্যের ঋণ ছিল মাত্র ১.৯০ লক্ষ কোটি টাকা — অর্থাৎ গত এক দশকে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় চার গুণ।

চলতি বাজেটে ঋণ পরিশোধের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩২,৭৩২.০৮ কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদদের উদ্বেগ

অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজ্যের ঋণ বৃদ্ধির এই প্রবণতা এখন প্রায় অনিবার্য। “সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প ও অনুদানের খাতে ব্যয় ক্রমাগত বেড়ে চলেছে, অথচ রাজস্ব আয়ের পথ সীমিত। ফলে রাজ্যের আর্থিক ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে,” তাঁদের মতে, রাজস্ব বৃদ্ধির নতুন কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায়, সামাজিক প্রকল্পগুলির ব্যয় মেটাতে সরকারকে বারবার ঋণের আশ্রয়ই নিতে হচ্ছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!