Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ২৮, ২০২৫

এসআইআর নিয়ে উত্তপ্ত রাজ্যরাজনীতি। নিরাপত্তার দাবিতে সরব বিএলওরা। পদক্ষেপে নির্বাচন কমিশন

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
এসআইআর নিয়ে উত্তপ্ত রাজ্যরাজনীতি। নিরাপত্তার দাবিতে সরব বিএলওরা। পদক্ষেপে নির্বাচন কমিশন

বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (Special Intensive Revision) শেষে নাম বাদ পড়েছে লক্ষাধিক ভোটারের। সেই ঘটনার জেরে সারা দেশে যেমন বিতর্ক ছড়িয়েছে, তেমনি এবার পশ্চিমবঙ্গেও শুরু হয়েছে সমীক্ষা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা। রাজ্যজুড়ে বুথ লেভেল অফিসারদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ভয় ও অনিশ্চয়তা। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবিতে সরব হয়েছে যৌথ সংগ্রাম কমিটি।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে খোদ বিএলওদের মধ্যে। এই আবহে সম্প্রতি বিভিন্ন মহকুমার মহকুমা শাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন বিএলও-দের যৌথ সংগ্রাম কমিটি। নেতৃত্বে ছিলেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ, যিনি উস্তি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন-এর প্রতিনিধিও।

তিনি জানান, “বর্তমানে রাজ্য ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের মধ্যে এসআইঅর নিয়ে যে টানাপোড়েন চলছে, তাতে মাঠে নেমে ভোটার তালিকার সমীক্ষা করা ভোট কর্মীদের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাই কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা ছাড়া কাজ করা অসম্ভব।”

প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনও একই দাবি তুলেছে। তাঁদের মতে, রাজ্যে যদি ভবিষ্যতে বিধানসভা নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হয়, তবে বিএলওদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মাধ্যমে। বিহারে এসআইআর চলাকালীন বিশাল অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছিল। অভিযোগ, বহু জায়গায় ভোটার তালিকা থেকে বৈধ নাম বাদ পড়েছে। কাজের গাফিলতি ও নিয়মভঙ্গের অভিযোগে ৫৩ জন বিএলওকে গ্রেফতারও করেছে বিহার প্রশাসন।

এখন সেই একই এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। তবে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই এর বিরোধিতা করছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, “এসআইআর-এর নামে কেন্দ্রীয় সরকার ভোটার তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক খেলা খেলছে।” এদিকে সোমবারের সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সংবিধান মেনে SIR করা হচ্ছে। আশা করবো, যে সব রাজ্যে SIR হচ্ছে সেইসব রাজ্যের শাসক সাংবিধানিক গন্ডির মধ্যে থেকে যা করার করবে।

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “বিএলওদের মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং হুমকি দিচ্ছেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে নিরপেক্ষ ভোট সম্ভব নয়।”

এই পরিস্থিতিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্যের প্রত্যেক বিএলও-র নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তাঁদের কাজে পাঠানো যাবে না। কাজের সময় তাঁদের কাজে যদি কোনও প্রকার হস্তক্ষেপ বা বাধা দেওয়া হয়, তা সঙ্গে সঙ্গে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে রিপোর্ট করতে হবে। যারা কাজের বাধা দেবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!