Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জুন ১৯, ২০২৩

খোলা বাজার থেকে খাদ্য শস্য কিনতে পারবে না রাজ্য।কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের সমালোচনায় সরব বিরোধীরা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
খোলা বাজার থেকে খাদ্য শস্য কিনতে পারবে না রাজ্য।কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের সমালোচনায় সরব বিরোধীরা

খোলা বাজারে নিলামে তোলা খাদ্যশস্য ক্রয় থেকে বিরত থাকুক রাজ্য। সম্প্রতি, কেন্দ্রের এ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় কেন্দ্র ও রাজ্যে উভয়ের সংগৃহীত খাদ্যশস্যে অধিকার রয়েছে। সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র রাজ্যের ওপর এ নির্দেশ কেন তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

চলতি মাসে ১.৫ মিলিয়ন টন গম ইতিমধ্যে নিলামে বিক্রি করেছে কেন্দ্র। ধানের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। ভারতে এখনও পর্যন্ত ৭২.৫ মিলিয়ন টন খাদ্যশস্যের ভাণ্ডার রয়েছে। যার মধ্যে অনেকটাই উদ্বৃত্ত। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব যাতে খাদ্যশস্যের দামে না পড়ে সে কারণে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বাজারে শস্য বিক্রি করা হয়। একই সঙ্গে খাবারের ব্যবসায়ী ও বিক্রেতারা কতটা ফসল সঞ্চয় করতে পারবে তার সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়।

এবিষয়ে ৮ জুনের বৈঠকে কেন্দ্রের তরফে স্থির হয়েছিল যে, খোলা বাজারে চাল-গমের জোগান ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজ্য সরকারকে ওএমএসএস(ডি) প্রকল্পের আওতায় খাদ্যশস্য বিক্রি করা হবে না। তবে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে কিংবা উত্তর-পূর্ব এবং পার্বত্য এলাকার রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম করা হতে পারে। এই সিদ্ধান্ত হওয়ার পরে ১৩ জুন সব রাজ্যকে তা চিঠি দিয়ে জানানো হয়।

কেন্দ্রের এ সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে কর্ণাটকের নবগঠিত সিদ্দারামাইয়া সরকার। তাঁদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল খাদ্যশস্যে বরাদ্দের পরিমাণ ৫ থেকে ১০ কেজি বাড়িয়ে অন্নভাগ্য প্রকল্পটিকে আবার ফিরিয়ে আনা। ক্ষমতায় আসার পর সে লক্ষ্যে এগোতে উদ্যোগী হয় রাজ্য। গত ২৩ জুন ফুড কর্পোরেশন অফ ইণ্ডিয়াকে ৩৪ টাকা কেজি দরে (কেজি প্রতি ২.৬ টাকা পরিবহণ খরচ-সহ) প্রায় ২.৩ লক্ষ টন চাল চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। সম্মতি জানিয়ে পাল্টা চিঠিও দেয় এফসিআই। এখন কেন্দ্রের নির্দেশে তা স্থগিত। সিদ্দারামাইয়া বলেছেন, নির্দিষ্ট তারিখে প্রকল্প চালু করতে আমরা বদ্ধপরিকর। ছত্তিশগড় ও তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীদের অনুরোধ, তাঁরা যেন আমাদের রাজ্যকে চাল বিক্রি করেন। দু’-এক দিনের মধ্যেই ছবিটা স্পষ্ট হবে।

কংগ্রেসের অন্যান্য নেতারাও কেন্দ্রের নীতির সমালোচনা করেছেন। টুইটে বার্তায় কংগ্রেস মুখপাত্র জয়রাম রমেশ লিখেছেন, বিজেপি সভাপতি নড্ডাজি বলেছিলেন, তাঁদের দলকে ভোট না দিলে কর্নাটক মোদীজির আশীর্বাদ পাবে না। তার মানে তা এখন বোঝা যাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এফসিআই-কে খোলা বাজারে চাল-গম বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দিয়ে নরেন্দ্র মোদি সরকার সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক শ্রেণিকেই আঘাত করছে। কর্নাটকে হারের হতাশা থেকেই এমন পদক্ষেপ বলে জানিয়েছেন তিনি।

কেন্দ্রের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় জানানো হয়েছে, দেশের ৮০ কোটি মানুষকে খাদ্য নিরাপত্তা আইন, ২০১৩ -এর আওতায় এনে বিমামূল্যে খাদ্য সরবরাহ করতেই এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মুদ্রাস্ফীতির নেতিবাচক প্রভাব যাতে কোনোমতেই খাদ্যপণ্যের ওপর না পড়ে তাই এ ভাবনা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ব্যাখ্যা, বাজারে চাল ও গম বিক্রি ও সঠিক দাম স্থির করতে গেলে তা পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রাখতে হয়। নাহলে পরে রাজ্য সরকারের পক্ষে প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য বিক্রি করা সম্ভব হয় না। কেন্দ্রের এযুক্তিকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন বিরোধী নেতারা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!