Advertisement
  • দে । শ
  • অক্টোবর ১৫, ২০২৪

চৈতন্যদেবের জীবনীকারের সৃষ্টি-স্মৃতি-ভিটে সংরক্ষণের উদ্যোগ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
চৈতন্যদেবের জীবনীকারের সৃষ্টি-স্মৃতি-ভিটে সংরক্ষণের উদ্যোগ

চৈতন্যদেবের প্রামাণ্য জীবনীগ্রন্থ ‘শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত’র রচনাকার কৃষ্ণদাস কবিরাজের সৃষ্টি ও স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ শুরু। কেতুগ্রামের ঝামটপুরের জন্মভিটেয় কৃষ্ণদাস কবিরাজের ব্যবহার করা কাঠের খড়ম, তাঁর প্রতিষ্ঠা করা গোপাল মূর্তি আর তুলোট কাগজে লেখা ‘শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে’র অনুলিপি রয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ জানান, ‘এই মূল্যবান সম্পদ সংরক্ষণে রাজ্য সরকার যাতে উদ্যোগী হয়, সেই চেষ্টা করব।’ আগেই বিধানসভার অধিবেশনে এই দুটি সম্পদ বৈজ্ঞানিকভাবে সংরক্ষণের জন্য দাবি পেশ করেছেন কেতুগ্রামের বিধায়ক শেখ শাহনেওয়াজ। ‘শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত’ই শুধু নয়, কৃষ্ণদাসের লেখা গোবিন্দলীলামৃত, অদ্বৈতসূত্র কড়চা, স্বজপর্বনম, কৃষ্ণকথামৃত গ্রন্থগুলিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কবির বসতভিটের গায়েই গড়ে উঠেছিল ‘কৃষ্ণদাস কবিরাজ স্মৃতি পাঠাগার’। সেটিরও দৈন্যদশা। আশ্বিন মাসের শুক্লা দ্বাদশী তিথিতে কৃষ্ণদাসের ভিটের সামনে ফি-বছর বসে ৪ দিনের কীর্তন মেলা। রাজ্য-ভিনরাজ্য, এমনকী বাংলাদেশের কীর্তনিয়া ও বৈষ্ণব ভক্তরা এই মেলায় যোগ দেন।

কাটোয়ার প্রাচীন ইতিহাস ও সংস্কৃতি গবেষক রণদেব মুখোপাধ্যায়ের দাবি, ‘এ এমন মেলা, যেখানে কীর্তনের বিভিন্ন বিভাগ নামকীর্তন, রেনেটি কীর্তন, পদাবলি কীর্তন, মনোহরশাহি কীর্তন, লীলা কীর্তনের মত বিভিন্ন ঘরানার কীর্তনের সমাহার দেখা যায় এক ছাতার নীচে।’ মেলায় অন্নভোগ, চিঁড়া ভোগের আয়োজন হয়। মেলায় মানুষের জমায়েত সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবক, পুলিশ, প্রশাসন।

এখানে কৃষ্ণদাসের কাষ্ঠপাদুকা, তাঁর আরাধ্য গোপাল মূর্তি আর তুলোট কাগজে লেখা ‘শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত’ গ্রন্থ দেখতে বৈষ্ণবপ্রাণ ভক্তজনতো বটেই, বৈষ্ণব সাহিত্য গবেষকরাও ভিড় জমান। বৈষ্ণব ভক্তদের বিশ্বাস, ‘কৃষ্ণদাস গোঁসাইয়ের ভিটের মাটি অঙ্গে ধারণ করলে সারা বছর সুখে-শান্তিতে কাটে।’ এখানকার সেবাইতদের দাবি, ‘গ্রন্থ, পাদুকা, গোপাল মূর্তির পাশাপাপাশি কৃষ্ণদাসের ভিটেটাও সংরক্ষণ করা হোক।’

কৃষ্ণদাসের চৈতন্যজীবনী গ্রন্থ রচনার কাহিনীটিও বেশ আকর্ষক। ৮০ বছর বয়সে ১৫৯০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ ঝামটপুরে বসেই এই মহাগ্রন্থ রচনা শুরু করেন কৃষ্ণদাস। মাঝপথে শ্রীজীব গোস্বামীর ডাকে বৃন্দাবন রওনা হন তিনি। সেখানে বসেই ৩ খণ্ডে ৬২ অধ্যায়ে বিন্যস্ত ১২ হাজার ৫১টি শ্লোক সমৃদ্ধ ‘শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত’ গ্রন্থটি শেষ করেন ১৬১৫ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ। গ্রন্থ শেষ হওয়ার পর সেটি চৈতন্যদেবের জন্মস্থান নবদ্বীপে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। গ্রন্থ-সহ বেশকিছু মূল্যবান নথি নিয়ে নবদ্বীপে আসছিলেন তিন মহা-বৈষ্ণব শ্রীনিবাস আচার্য, শ্যামানন্দ আর নরোত্তম দাস। পথে হাম্বীর রাজার এলাকায় পোঁটলাবন্দি সেই গ্রন্থ ও নথি ছিনিয়ে নেয় একদল দস্যু। মূলত শ্রীনিবাসের চেষ্টায় জীবনী-নথি শেষমেশ উদ্ধার হয়। তবে তা দেখে যেতে পারেননি কৃষ্ণদাস। তার আগেই প্রয়াত হন কৃষ্ণদাস কবিরাজ। ফি-বছর কৃষ্ণদাসের তিরোভাব তিথি উপলক্ষ্যে আয়োজিত মহোৎসবে যোগ দেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের কীর্তনপ্রেমীরা। তাঁদের জিজ্ঞাসা, ‘এক ছাতার তলায় বিভিন্ন আঙ্গিকের কীর্তন আর কোথায় দেখতে পাব?’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!