Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৫

ইউএসটিএম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বাঙালি শিক্ষাদ্যোগী মাহবুবুল হককে গ্রেপ্তার করল আসাম পুলিশ। ছাত্র বিক্ষোভের জের না কি রাজনৈতিক অভিসন্ধি?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ইউএসটিএম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বাঙালি শিক্ষাদ্যোগী মাহবুবুল হককে গ্রেপ্তার করল আসাম পুলিশ। ছাত্র বিক্ষোভের জের না কি রাজনৈতিক অভিসন্ধি?

গতকাল রাতে ইউএসটিএম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মাহবুবুল হককে তাঁর গৌহাটি ছয়মাইলের বাড়ি থেকে এসটিএফ ও শ্রীভূমি পুলিশ আটক করেছে। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাথরকান্দির সেন্ট্রাল পাবলিক স্কুলের পরীক্ষা কেন্দ্রে অনাকাঙ্খিত ঘটনার প্রেক্ষিতে এই গ্রেপ্তার না কি রাজনৈতিক অভিসন্ধি? প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।

শুক্রবার রাতে গৌহাটির উপকণ্ঠে, মেঘালয়ে অবস্থিত ইউএসটিএম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তথা কর্ণাধার মাহবুবুল হককে তাঁর গৌহাটি ছয়মাইলের বাড়ি থেকে এসটিএফ ও শ্রীভূমি পুলিশ আটক করেছে। পাথরকান্দির সেন্ট্রাল পাবলিক স্কুলের পরীক্ষা কেন্দ্রে অনাকাঙ্খিত ঘটনার প্রেক্ষিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে বহুদিন ধরে ঠাণ্ডা যুদ্ধ চলছে মাহবুবুল হকের। গ্রেপ্তারির পিছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। নিরপত্তা সুনিশ্চিত করতে ও অপ্রতিকর পরিস্থিতি ঠেকাতে ইউএসটিএম বিশ্ব বিদ্যালয় চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে।
কিন্তু হঠাৎ কেন এই গ্রেপ্তারি? আসাম পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে শুক্রবার শ্রীভূমি জেলায় নথিভুক্ত একটি মামলাযর ভিত্তিতেই হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার শ্রীভূমি জেলার পাথরকান্দি এলাকার সেন্ট্রাল পাবলিক স্কুলে সিবিএসসি বোর্ডের উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ‘আইন-শৃঙ্খলা’ বিঘ্নিত হবার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পুলিশের মতে, মাহবুবুল হকের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নমূলক সংস্থা ইআরডি ফাউন্ডেশন যেটি ইউএসটিএম ইউনিভার্সিটিও চালায়, পরিচালিত একটি স্কুলের ২১৪ জন পরীক্ষার্থী ওই পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার বসেছিল। অভিযোগ, ইআরডি ফাউন্ডেশন পরীক্ষার সময় পরিক্ষার্থীদের বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সে কথা রখেন নি তাঁরা। ফলে ছাত্রদের একাংশ পরীক্ষাকেন্দ্রে ভাঙচুর করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। পরে পুলিশ ও সিআরপিএফ বাহিনীর কর্মীরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে, এটিকে বিশাল অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা বলে মনে হচ্ছে।

এ নিয়ে, ইআরডি ফাউন্ডেশন পরিচালিত স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিরামণি সৈকিয়া শিক্ষার্থীদের বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেবার প্রতিশ্রুতি দেবার অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘সিবিএসসি বোর্ডের নির্দিষ্ট কিছু নিয়মকানুন আছে। পরীক্ষায় যে কোনো জালিয়াতি আটকাতে স্কুল কর্তৃপক্ষ সর্বদা সচ্চেষ্ট থাকে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমেও চলে নজরদারি।’ ঘটনার দিন অন্যত্র, রামকৃষ্ণ নগরের রাতাবাড়ি জহর নবোদয় স্কুলের পরীক্ষক হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন, ফলে ছাত্রদের বেআইনি সুযোগ পাইয়ে দেবার কোনো প্রশ্নই ওঠে না- জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে বহুদিন ধরে ঠাণ্ডা যুদ্ধ চলছে মাহবুবুল হকের। গ্রেপ্তারির পিছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। গত সপ্তাহে, মুখ্যমন্ত্রী শর্মা অভিযোগ করেছিলেন, ইউএসটিএম ছাত্রছাত্রীদের ‘জাল সার্টিফিকেট’ ও ‘জাল ডিগ্রি’ প্রদান করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে অবশ্য এই অভিযোগগুলিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলা হয়েছিল। গত বছরের আগস্টে, গুয়াহাটিতে প্রবল জলাবদ্ধতার কারণে ওই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। হেমন্ত বিশ্বশর্মা অভিযোগ করেন, গুয়াহাটির উপকণ্ঠে জোরাবাট পাহাড়ে ইউএসটিএম বিশ্ববিদ্যালয় ও তাঁদের অধীনস্থ স্কুলগুলির কারণে বনজঙ্গল ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। যার ফলে আকস্মিক বন্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে গুয়াহাটিবাসীকে। নতুন ভবন তৈরির সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনও স্থপতির সাহয্য নেয় নি বলে অভিযোগ। এটিকে ‘বন্যা জিহাদ’ বলে মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, জানা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মার স্ত্রী রাজ্যে একটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় চালু করতে চেয়ে আবেদন করে, অনুমতি পান নি। অন্যদিকে সে বরাত পেয়ে যান মাহবুবুল হোক। মেঘালয়ের সিএম-এর নামে মেডিক্যাল কলেজের নামকরণ করা হয়। ঘটনা পরম্বরা দেখে তাই এ প্রশ্ন উঠে আসা খুব স্বাভাবিক যে, নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হলেন বাঙালি উদ্যোগপতি না কি আসামে বাঙালি উদ্যোগপতিদের দমিয়ে রাখবার জন্য, এর পিছনে রাজনৈতিক কোনো স্বার্থ রয়েছে, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!