Advertisement
  • দে । শ
  • মার্চ ১৩, ২০২৬

ফাল্গুনের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড ডুয়ার্স, জলপাইগুড়িতে বাড়িঘর ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি । ক্ষতিগ্রস্ত বালুরঘাট স্টেশন

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ফাল্গুনের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড ডুয়ার্স, জলপাইগুড়িতে বাড়িঘর ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি । ক্ষতিগ্রস্ত বালুরঘাট স্টেশন

ফাল্গুন মাসের এক রাতের প্রবল ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কার্যত তছনছ হয়ে গেল উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স অঞ্চল। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। তার জেরে জলপাইগুড়ি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি ও বানারহাট ব্লকের বিভিন্ন এলাকা। প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে বহু বাড়ির টিনের চাল উড়ে গিয়েছে, কোথাও আবার সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ভেঙে পড়েছে বসতবাড়ি। ধূপগুড়ি ব্লকের বানারহাট এলাকার কেরানিপাড়ায় অন্তত দশটি বাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঝড়ের তীব্রতায় বড় বড় গাছ উপড়ে বাড়ির উপর পড়ে যায়, ফলে ঘরবাড়ির পাশাপাশি আসবাবপত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

ঝড়ের তাণ্ডবে শুধু বাড়িঘরই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিভিন্ন পোল্ট্রি ফার্মের শেডও। অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে চালসা সংলগ্ন মহাবাড়ি এলাকায় প্রবল ঝড়ে রাস্তার উপর গাছ ভেঙে পড়ায় রাত থেকেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ওই এলাকাতেও প্রায় ২০ থেকে ২৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার সকাল হতেই স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ির উপর ও রাস্তায় পড়ে থাকা গাছ কেটে সরানোর কাজে নেমে পড়েন।

এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছেন এলাকার কৃষকরা। ধূপগুড়ি ও বানারহাট ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় টানা বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির ফলে বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি জলের তলায় চলে গেছে। খেতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আলু, শিম ও মটরশুঁটির মতো বিভিন্ন ফসল। আগে থেকেই আলুর বাজারদর কম থাকায় চিন্তায় ছিলেন কৃষকরা, তার উপর এই দুর্যোগ তাঁদের আরও বিপাকে ফেলেছে।

শিলাবৃষ্টির তীব্রতায় বহু বাড়ির টিনের চাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও আবার ঝড়ে চাল উড়ে গিয়ে পাশের জমিতে পড়ে রয়েছে। ফলে মাথার গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত এলাকায় বৃষ্টির দাপট অব্যাহত রয়েছে। আকাশে ঘন কালো মেঘ জমে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, আবার ভারী বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীরা এখন প্রশাসনের ত্রাণ ও সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!