Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগে ফের র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ !

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগে ফের র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ !

বিভাগের কক্ষ থেকে ক্যাম্পাসের পথ, লাইব্রেরি থেকে হোস্টেল শিক্ষাক্ষেত্রে র‍্যাগিংয়ের ভয়াল ছায়া প্রায় সর্বত্র। সরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইআইটি-এআইএমএস, বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দশকের পর দশক ধরে বারবার সামাজিক এই ব্যাধি ডালপালা বিস্তার করেছে। যুক্ত হয়েছে মানসিক ও যৌন নির্যাতন। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে এর কড়াল ব্যপ্তি বহুমাত্রিক। কখনো সদ্য ভর্তি হওয়া পড়ুয়াকে ইন্ট্রো দিতে বাধ্য করা, কখনো হাসি-মস্করার গণ্ডি ছাড়িয়ে মানসিক অত্যাচার, কখনো যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, কখনো বা ভাষাভিত্তিক, জাতি-ধর্ম ভিত্তিক বৈষম্য। ছাত্র-গবেষক-শিক্ষক-কর্মচারী; অভিযুক্তের তালিকা দীর্ঘ। উন্নত মানুষ হবার লক্ষ্যে যে শিক্ষাক্ষেত্রের পরিসর, সেখানে এ ধরণের ঘটনা বারবার প্রশ্ন চিহ্ন তোলে ‘শিক্ষাক্ষেত্র’ গঠনের মৌলিক ভাবনা নিয়েই। প্রশ্ন ওঠে, কতখানি নিরাপত্তা রয়েছে পড়ুয়াদের? র‍্যাগিং-এর মতো দগদগে ঘা নিরাময়ে কী ব্যবস্থা নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা কেন্দ্র-রাজ্যের সরকারগুলো। খাতায় কলমে নিয়ম, শাস্তির কড়াকড়ি থাকলেও, কেন আজও হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন প্রতি মুহূর্তে!

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তচিন্তা, ভাবনা-চিন্তা-বোধের ত্রিবেণী সংগম, রাজনীতি-যুক্তি-তক্ক-গপ্পের আখড়া বলে পরিচিত। জাতীয় র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রায়শই তালিকার শীর্ষে থাকে যে ক্যাম্পাস, কেন সেখানে বিগত কয়েক বছর ধরে ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারীরা শারীরিক ও মানসিক হেনস্তার শিকার হচ্ছেন ? গত সপ্তাহেই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে চলা বিশৃঙ্খলা আটকাতে গিয়ে মার খেতে হয়েছিল অধ্যাপকদের। এক ছাত্রও গুরুতর জখম হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের এহেন অধঃপতন দেখে শঙ্কিত হয়েছিলেন বর্তমান পড়ুয়া-শিক্ষক থেকে প্রাক্তনীরা। সে রেশ কাটতে না কাটতেই আবারয় কলা বিভাগে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্র অভিযোগ করেছেন, কয়েকজন সহপাঠী ও সিনিয়র তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে হেনস্থা করেছেন।

ঘটনার দিন ১৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে। অভিযোগকারী ছাত্র তাঁর কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে ডিন অফ আর্টসের ঘরের পাশের একটি কক্ষে বসেছিলেন। অভিযোগ, আচমকাই কয়েকজন সহপাঠী ও সিনিয়র পড়ুয়া সেখানে তাঁকে ঘিরে ধরেন। তাঁকে লক্ষ্য করে চলে নানা কুরুচিকর মন্তব্য, হাততালি দিয়ে স্লোগান দেওয়া হয় এবং মারধরের হুমকিও দেওয়া হয়। এমনকি গণপিটুনি দেওয়ার হুমকির কথাও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগকারী ছাত্রের দাবি, এটি প্রথমবার নয়। এর আগেও নানাভাবে তাঁকে উত্যক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ পত্রে তিনি একাধিক প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করেছেন।

অভিযোগে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও উঠে এসেছে। বিশেষ করে বাংলা বিভাগের প্রাক্তনী, এসএফআইয়ের রাজ্য কমিটির এক সদস্যর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ, বর্তমানে ইউনিভার্সিটির পড়ুয়া না হলেও, সংগঠনের প্রতিটা ক্ষেত্রেই হস্তক্ষেপ করেন তিনি। শুধু তাই নয়, বর্তমান পড়ুয়াদের নানাভাবে হেনস্তা, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। কয়েকদিন আগে, এসএফআই-এর সভায় পড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। অমান্য করলে ভবিষ্যত নষ্ট হওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। হুমকির কারণে ছাত্রটি দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে পারেননি। পরে মনোবিদের সহায়তায় তিনি পড়াশোনায় ফিরতে পেরেছেন।

এ ঘটনায়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিন অফ স্টুডেন্টস অনুপম দেব সরকার জানান, ‘অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অ্যান্টি র‍্যাগিং স্কোয়াডে পাঠানো হয়েছে। তারা তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাগিং সংস্কৃতি নিয়ে উদ্বেগের সুর এবারও নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, এক ছাত্রের মৃত্যুর পরও কেন একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে, তা নিয়ে অভিভাবক ও প্রাক্তন পড়ুয়াদের মধ্যে ক্ষোভ জন্মাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা এবং অন্দরের পরিবেশ নিয়েও ফের প্রশ্নচিহ্ন উঠেছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!