- দে । শ
- আগস্ট ১০, ২০২৬
৯৮ শতাংশ দাবি পূরণের দাবি সরকারের, তবু অনড় পড়ুয়ারা ! সোমবার বিধানসভা অভিযানের ডাক, সিবিআই তদন্তে জোর
সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের আন্দোলন আরও জোরাল হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সরকারের দাবি, আন্দোলনকারীদের প্রায় ৯৮ শতাংশ দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই তিনটি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের এই দাবি মানতে নারাজ আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা। তাঁদের মূল দাবি, নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করতে হবে সিবিআইকে দিয়ে। সেই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
রবিবার রাঁচীর মোরাবাদির সরকারি অতিথিশালায় আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের সঙ্গে সরকারপক্ষের বৈঠক হলেও কোনও সমাধানসূত্র বেরোয়নি। বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবং রাজ্যপাল সন্তোষকুমার গাঙ্গোয়ার ফের আন্দোলনকারীদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তাতেও অবস্থান বদলাননি পড়ুয়ারা। সোমবার পুরনো বিধানসভা ভবন থেকে নতুন বিধানসভা ভবন পর্যন্ত মিছিল করার সিদ্ধান্তে তাঁরা অনড়। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে রাঁচীকে ইতিমধ্যেই কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে।
আন্দোলনকারী ছাত্রনেতা সঞ্জয় মেহতা জানিয়েছেন, তিন দফা আলোচনার পরেও তাঁদের সব দাবি পূরণ হয়নি। তাঁর কথায়, ‘‘সরকার আমাদের ১০০ শতাংশ দাবি মানেনি। সোমবারের বিধানসভা মার্চ কর্মসূচিতে ঝাড়খণ্ডের সব জেলার প্রতিবাদীরা নৈতিক সমর্থন জানিয়েছেন। পুরনো বিধানসভা ভবন থেকে নতুন বিধানসভা ভবন পর্যন্ত আমরা মিছিল করব। কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ থাকবে।’’
সঞ্জয় জানান, তাঁদের মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (জেএসএসসি)-এর নিয়োগ পরীক্ষা-সহ স্নাতক স্তরের কমন গ্র্যাজুয়েট লেভেল (সিজিএল) পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, সিবিআই তদন্ত এবং পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার। তাঁর দাবি, এই তিনটি বিষয়ের কোনওটিতেই সরকার তাঁদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ‘‘এই তিনটির মধ্যে একটি দাবিও যদি সরকার মানতে না চায়, তা হলে আন্দোলন চলবে।’’
একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করার বার্তা দিয়েছেন সঞ্জয়। পুলিশের সঙ্গে কোনও রকম সংঘাতে না জড়ানোর জন্যও তিনি আবেদন করেছেন। পাশাপাশি, বিভিন্ন ধরনের জল্পনায় কান না দেওয়ার জন্যও আন্দোলনকারীদের সতর্ক করেছেন তিনি।
অন্য দিকে, গত আট দিন ধরে পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো। সোমবারের বিধানসভা অভিযানে ঝাড়খণ্ডের সমস্ত পড়ুয়া এবং তাঁদের অভিভাবকদের যোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘সোমবার ঝাড়খণ্ডের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ দিন।’’
বর্তমানে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত করছে ঝাড়খণ্ড সিআইডি। এই মামলায় সম্প্রতি ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি)-এর তিন আধিকারিক—অজিতা ভট্টাচার্য, জামাল আহমেদ এবং অনিমা হাঁসদাকে নোটিস পাঠিয়েছিল তদন্তকারী সংস্থা। বিতর্কের মধ্যেই তাঁরা জেপিএসসি-র সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন। তাঁদের ইস্তফা ইতিমধ্যেই গ্রহণ করেছেন রাজ্যপাল সন্তোষকুমার গাঙ্গোয়ার।
তবে পড়ুয়ারা সিবিআই তদন্তের দাবিতে অনড় থাকলেও সেই দাবি নিয়ে সরকার সরাসরি কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি। বৈঠকের পর কারিগরি ও উচ্চশিক্ষামন্ত্রী সুদিব্য কুমার জানান, সিআইডি তদন্তের উপর নজরদারির জন্য কোনও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব সরকার দিয়েছিল। কিন্তু আন্দোলনকারীরা সেই প্রস্তাব মেনে নেননি।
মন্ত্রী জানান, ফৌজদারি বিষয়গুলির তদন্ত চালাবে রাজ্যের সিআইডি। পাশাপাশি আর্থিক অনিয়ম বা অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ সামনে এলে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-কে তদন্তের অনুরোধ জানানো হবে।
সরকার আরও জানিয়েছে, মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন করা হবে। সুদিব্য কুমারের দাবি, ৯০ দিনের মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি নিয়োগ পরীক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের আশ্বাসও দিয়েছে সরকার। আইআইটি-সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
সরকারের দাবি, আন্দোলনকারীদের ৯৮ শতাংশ দাবি ইতিমধ্যেই পূরণ করা হয়েছে এবং তিনটি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু সিবিআই তদন্ত-সহ বাকি দাবিগুলি পূরণ না হওয়ায় আন্দোলন থামাতে রাজি নন পড়ুয়ারা। ফলে সোমবারের বিধানসভা অভিযান ঘিরে রাঁচীতে এখন টানটান উত্তেজনা। আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির কথা জানালেও প্রশাসনের তরফে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
❤ Support Us






