- এই মুহূর্তে দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৫
জাতিবিদ্বেষী মন্তব্যের জেরে আটক চার আধিকারিকের জামিন। ভুবনেশ্বর কেআইআইটি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রতিবাদী পড়ুয়াদের বিক্ষোভ অব্যাহত
রবিবার ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলের ঘর থেকে উদ্ধার হয় নেপালি ছাত্রীর দেহ। খবর প্রকাশ্যে আসতেই কর্তৃপক্ষকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন পড়ুয়ারা। কর্তৃপক্ষের তরফে নেপালি ছাত্রদের হোস্টেল থেকে বের করে দেওয়া হয়। ‘জাতিবিদ্বেষী মন্তব্য’করবার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ৫ কর্মকর্তা, তাঁরা জামিন পেয়েছেন। প্রতিবাদী ছাত্ররা ভাঙচুর চালিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়য় চত্বরে। ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয়েছে প্রচুর পুলিশ।
ভুবনেশ্বর কলিঙ্গ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজি বা কেআইআইটি-তে নেপালি ছাত্রীর রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় বিতর্কের ঝড় উঠেছে নানা মহলে। নেপাল সরকারের তরফেও নেওয়া হয়েছে উপযুক্ত ব্যবস্থা। দিল্লিতে অবস্থিত নেপাল দূতাবাস থেকে আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গেছেন। কর্তৃপক্ষের তরফে নেপালি ছাত্রদের হোস্টেল থেকে বের করে দেওয়ার সময় ‘জাতিবিদ্বেষী মন্তব্য’করা হয়েছে, এই অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ কর্মকর্তা। তাঁরা জামিন পেয়েছেন। সেই আবহে নেপাল সরকারের তরফে জানানো হয়, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ওড়িশায় উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চাওয়া নেপালি পড়ুয়াদের ছাড়পত্র দেওয়া বন্ধ করা হবে। ঘটনার জেরে ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে ভাঙচুর চালিয়েছে প্রতিবাদী ছাত্ররা। ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয়েছে প্রচুর পুলিশ।
VIDEO | Few protestors on Tuesday vandalised a signboard outside KIIT where a 20-year-old Nepali student allegedly died by suicide in her hostel.
Alongside the damage to property, they raised slogans in protest, expressing their anger and frustration over the incident.
In… pic.twitter.com/SSPsXFZ45P
— Press Trust of India (@PTI_News) February 18, 2025
পড়ুয়াদের অভিযোগ, ওই ছাত্রীর আত্মহত্যার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এই মৃত্যু নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তোলেন তাঁরা। অভিযোগ, ঘটনার পরেই বিক্ষোভকারী নেপালি ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশে নানা রকমের ‘জাতিবিদ্বেষী’ এবং ‘অপমানজনক’ মন্তব্য করা হয়। পড়ুয়াদের জোর করে হস্টেল থেকে বার করে দেওয়ার ঘটনায় কর্তৃপক্ষ এবং নিরাপত্তারক্ষী-সহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। যদিও পর দিনই তাঁরা জামিন পেয়ে গিয়েছেন। তবে কেআইআইটি কর্তৃপক্ষ বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে নেপালের ছাত্রীর মৃত্যু ঘটনায় নিরাপত্তাকর্মী ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া নেওয়া হয়েছে। অযাচিত মন্তব্যের জন্য তাঁরা ক্ষমাও চেয়েছেন। ২ জন হোস্টেল সুপার, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক অফিসার ও অভিজ্ঞ প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে ১৬ ফেব্রুয়ারির মর্মান্তিক ঘটনার জন্য গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। তিনি শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ফিরে আসবার আহ্বান জানিয়েছেন। কর্মীদের মন্তব্যের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করে উপাচার্য লিখেছেন, ‘আমাদের কর্মীদের এ হেন আচরণে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী, পড়ুয়াদের মনে দুঃখ দেবার কোনো অভিপ্রায় আমাদের নেই। আমরা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুস্থ পরিবেশকেই প্রাধান্য দিই।’
Deeply mourning the untimely passing of our beloved student, Prakriti Lamsal. Today, all senior functionaries of KIIT gathered to express our heartfelt condolences and stand in solidarity with her family, friends, and the student community. We are committed to ensuring justice… pic.twitter.com/UabS9fmCE4
— KIIT – Kalinga Institute of Industrial Technology (@KIITUniversity) February 18, 2025
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, পুলিশ অভিযুক্ত ছাত্রকে গ্রেফতার করেছে। আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। ছাত্ররা যেন আইন নিজেদের হাতে তুলে না নেয়। যেসব নেপালি পড়ুয়ারা ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেছেন বা যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের ফিরে আসবার আবেদন করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হোস্টেল ও ক্যম্পাসের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ও দ্রুত শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এখন নরম সুরে কথা বললেও, সহপাঠীর মৃত্যুর ঘটনার আমরা যখন প্রতিবাদ করছিলাম, তখন আমাদের উপর নিপীড়ন ও কটু মন্তব্য কম করা হয় নি। এমনকি নেপালি পড়ুয়াদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এক ডিভিওতে দেখা যায়, হুমকির সুরে কলেজ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, তারা ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বিনামূল্যে খাবার সরবরাহ করে, যা নেপালের মোট আয়ের চেয়েও বেশি। যা ঘিরে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশি দেশ থেকে আগত পড়ুয়াদের মধ্যে। নিহত ওই পড়ুয়ার কীভাবে মৃত্যু হল তা এখনো সঠিকভাবে জানা যায়নি, ঘটনার তদন্ত করছে ভুবনেশ্বরের পুলিশ-প্রশাসন। মৃতা ছাত্রীর বাবা, এই ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত ও বিচার চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন।
❤ Support Us






