Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ৯, ২০২৩

যত কাণ্ড শ্রীনগরে ! ‘আবায়া’ পোশাক পরে মেয়েদের স্কুলে আসা বারন ! জঙ্গিদের হুমকির মুখে ক্ষমা চাইলেন প্রধান শিক্ষক। তীব্র প্রতিক্রিয়া মেহবুবার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
যত কাণ্ড শ্রীনগরে ! ‘আবায়া’ পোশাক পরে মেয়েদের স্কুলে আসা বারন ! জঙ্গিদের হুমকির মুখে ক্ষমা চাইলেন প্রধান শিক্ষক। তীব্র প্রতিক্রিয়া মেহবুবার

ছাত্রীরা নিজেদের ধর্মীয় পোশাক পরিধান করে কেন বিদ্যালয়ে আসতে পারবেন না তা নিয়ে সরব হলেন, পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি। তিনি বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেকের নিজের ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ কী খাবেন , কী পড়বেন তা বাইরের কেউ ঠিক করে দিতে পারে না। স্কুল কর্তৃপক্ষের নির্দেশ সাংবিধানিক নীতিকে লঙ্ঘন করে। ইতিমধ্যেই এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন স্কুলছাত্রীরা।

প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, সম্প্রতি শ্রীনগরে একটি স্কুলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে সমস্ত ছাত্র- ছাত্রীরা তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম পরে স্কুলে আসবে। অন্য কোনো পোশাক পরে আসা চলবে না। পড়ুয়াদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন একটি সম্প্রদায়ের ছাত্রী যারা বিদ্যালয়ে অবয়া পরিধান করে আসত। সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের  নিদান, এমন পোশাক ধারাবাহিকভাবে পরে আসতে চাইলে তাঁরা যেন  মাদ্রাসায় চলে যায়।  ছাত্রীদের  যুক্তি, এখন বিদ্যালয়ে সহ পাঠক্রমিক শিক্ষা চালু হয়েছে। তাই পুরুষ ছাত্রদের সামনে সাধারণ পোশাকে আসতে তাঁরা অস্বস্তি বোধ করেন। তাই নিজেদের ধর্মীয় পোশাকেই তাঁরা স্বচ্ছন্দ। এমন নির্দেশে স্কুলের দরজা তাঁদের সামনে বন্ধ হয়ে গেছে। তাই তাঁরা এমন সিদ্ধান্তে বিরুদ্ধে অবস্থান বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। নিজেদের পড়াশোনার অধিকার কোনো মতেই ছাড়তে চান না তাঁরা।

প্রতিবাদী ছাত্রীদের বিক্ষোভে অবশ্য স্কুল কর্তৃপক্ষ পিছু হটেছে, তাঁদের বক্তব্য, স্কুলের একটি নির্দিষ্ট পোষাক বিধি আছে যা সকলের মেনে চলা উচিত। তাঁদের বক্তব্য, কোনো ধর্মীয় আচরণের বিরুদ্ধে নয়। যে নির্দেশ নিয়ে এত বিতর্ক , সে সম্পর্কে তাঁরা বলেছেন, এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা তাঁরা জারি করেননি। তাঁরা শুধু বলতে চেয়েছিলেন যারা ধর্মীয় পোশাক পরিধান করে আসবে তাঁদের পোশাকের নীচে যেন বিদ্যালয়ের ইউনিফর্মটা থাকে। এব্যাপারে ভুল বোঝাবুঝি থেকে গেছে হয়তো । যার জন্য এত বিতর্ক হচ্ছে। তবে, আন্দোলনকারীদের বিক্কখোভের থেকেও জঙ্গিগোষ্ঠীর কাছে থেকে পাওয়া হুমকি মূলত তাঁদের সুর বদলের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

কাশ্মীরের মানুষ অত্যন্ত উদার মনস্ক। আধুনিকতাকে গ্রহণ করতে তাঁদের মধ্যে বিশেষ সংকীর্ণতা দেখা যায় না। হিংসা ও হানাহানি কাশ্মীরের সংস্কৃতির মূল চরিত্রে কোনো পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি। সেখানে কর্নাটকের হিজাব কান্ডের ছায়া দেখতে পাওয়া অত্যন্ত দুঃখের । মেহবুবার মুফতির অবস্থান যথার্থ। গণতান্ত্রিক দেশে ব্যক্তি স্বাধীনতা ধর্মাচরণ প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কিন্তু যে কোনো প্রতিষ্ঠান, আদালত হোক বা স্কুল- তা নিয়মশৃঙ্খলা বর্জিত হয় না। তাই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মণ্ডলীর যেমন পোশাক বিধি নিয়ে ধর্মীয় আঘাত করা অনুচিত, তেমনই বিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট নিময় লঙ্গন করাও কাম্য নয়।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!