- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ২১, ২০২৫
জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি সুজয় কৃষ্ণের, পরেশ পাল সহ ঘাসফুল শিবিরের দুই নেতার স্বস্তি ! আগাম জামিন ৪ পদ্ম নেতারাও
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আরো একবার স্বস্তি পেলেন কালীঘাটের কাকু। অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ বাড়ল সুজয় কৃষ্ণ ভদ্রর। অন্য দিকে, ২০২১-এ কাঁকুড়গাছিতে বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনায় আগাম জামিন পেলেন তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পাল-সহ দুই কাউন্সিলর। পাশাপাশি, নবান্ন অভিযানে পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত বিজেপি নেতা অর্জুন সিং, সজল ঘোষরাও পেলেন জামিনের রক্ষাকবচ।
বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে কালীঘাটের বাসিন্দা সুজয় কৃষ্ণ ভদ্রর অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদনের শুনানি ছিল। আদালত জানিয়ে দেয়, মামলার তদন্তে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার শর্তে, তাঁর জামিনের মেয়াদ আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। হাইকোর্ট জানায়, তদন্ত চলবে নিজস্ব গতিতে। কোনো অভিযুক্ত যাতে তদন্ত বা বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত না করতে পারেন, সে দিকেও নজর রাখা হবে। সিবিআই ও ইডি সূত্রে অভিযোগ, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কোটি কোটি টাকা ঘোরাফেরা করেছে ‘কালীঘাটের কাকু’র হাত দিয়ে। তবে এ দিন আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, তদন্তের গতি এবং অভিযুক্তের সহযোগিতার পরিপ্রেক্ষিতে জামিন মেয়াদ বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
এ দিকে, গত ৯ আগস্ট বিজেপির ডাকা নবান্ন অভিযানে পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে একাধিক বিজেপি নেতার নামে মামলা করে কলকাতা পুলিশ। সে মামলায় অভিযুক্তদের তালিকায় নাম ছিল অর্জুন সিং, সজল ঘোষ, শঙ্কুদেব পণ্ডা ও কালী ঘটিকের। অভিযুক্তরা গ্রেফতারি এড়াতে আগাম জামিনের আবেদন জানালে, বৃহস্পতিবার বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। আদালতের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ, প্রত্যেক অভিযুক্তকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে হাইকোর্ট জানিয়েছে, কোনোভাবে যেন তাঁরা সাক্ষীকে প্রভাবিত না করেন বা তদন্ত প্রক্রিয়ায় বাধা না দেন।
অন্যদিকে, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট পরবর্তী উত্তেজনার আবহে কাঁকুড়গাছিতে খুন হন বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার। মামলা দায়ের করেন তাঁর দাদা বিশ্বজিৎ সরকার। তাঁর অভিযোগ, শীতলাতলা লেনে গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বিবাদের জেরে তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পাল, কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর স্বপন সমাদ্দার ও পাপিয়া ঘোষের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী অভিজিতের বাড়ির সামনে উপদ্রব চালায়।বিশ্বজিৎয়ের অভিযোগ, গাড়ির উপর গাছের ডাল ফেলা, বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে ফেলা—এসবের পাশাপাশি তাঁকে মারধর করে খুনের হুমকি দেওয়া হয়। নারকেলডাঙা থানায় দায়ের হওয়া মামলায় তিন নেতার বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সে মামলায় শর্তসাপেক্ষে ৩ জনের আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। আদালত জানায়, অভিযুক্তরা শীতলাতলা লেনে প্রবেশ করতে পারবেন না, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং মামলার কোনো সাক্ষীকে প্রভাবিত করা চলবে না। এই ৩ শর্ত মেনেই জামিনের অনুমতি দেওয়া হয়। অভিযোগকারীর তরফে দাবি করা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে ওই হত্যাকাণ্ড। আবার অভিযুক্তদের পাল্টা দাবি, তাঁদের নাম রাজনৈতিক চক্রান্ত করে জড়ানো হয়েছে। পরেশ পাল জানিয়েছেন, তিনি বিশ্বজিৎ সরকারকে চিনতেনই না। তাঁদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, অভিজিৎ সরকার খুনের ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআই-এর হাতে। সেই তদন্তের অতিরিক্ত চার্জশিটে উঠে আসে পরেশ, স্বপন ও পাপিয়ার নাম। পরে খুনের চেষ্টার পৃথক মামলা করেন অভিজিতের দাদা। এ মামলাগুলিতে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, তদন্ত প্রক্রিয়া আইনি গতিপথে চলবে।
❤ Support Us






