- এই মুহূর্তে দে । শ
- মার্চ ৬, ২০২৬
অসমে প্রশিক্ষণ উড়ানে ভেঙে পড়ল সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমান। নিহত ভারতীয় বায়ুসেনার দুই পাইলট
অসমে প্রশিক্ষণ উড়ান চলাকালীন ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখে পড়ল ভারতীয় বায়ুসেনার সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান। কার্বি আংলং জেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভেঙে পড়ে বিমানটি। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বিমানটির দুই পাইলট— স্কোয়াড্রন লিডার অনুজ এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পূর্বেশ দুরাগকর। শুক্রবার সকালে ভারতীয় বায়ুসেনা আনুষ্ঠানিক ভাবে তাঁদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
বায়ুসেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অসমের জোড়হাট বায়ুসেনা ঘাঁটি থেকে একটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ মিশনে উড়েছিল দুই আসনের যুদ্ধবিমানটি। উড্ডয়নের কিছু ক্ষণের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে বিমানের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রাত ৭টা ৪২ মিনিট নাগাদ শেষবারের মতো রাডারে ধরা পড়েছিল বিমানটির অবস্থান। তার পরই হঠাৎ করে তা রাডার থেকে উধাও হয়ে যায়। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তৎপর হয়ে ওঠে বায়ুসেনা। সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় তল্লাশি অভিযান।

বায়ুসেনার হেলিকপ্টার এবং বিশেষ উদ্ধারকারী দল রাতভর কার্বি আংলং জেলার দুর্গম পাহাড়ি ও জঙ্গলঘেরা এলাকায় খোঁজ চালায়। অবশেষে শুক্রবার ভোরে জোড়হাট বিমানঘাঁটি থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে ওই জেলার এক পাহাড়ি অঞ্চলে যুদ্ধবিমানটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকেই দুই পাইলটের দেহও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বায়ুসেনা। মর্মান্তিক ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকপ্রকাশ করেছে ভারতীয় বায়ুসেনা। তাদের তরফে জানানো হয়েছে, সহকর্মী দুই বায়ুসেনা আধিকারিকের অকালমৃত্যুতে গোটা বাহিনী গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে এই কঠিন সময়ে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহও দুর্ঘটনায় নিহত দুই পাইলটের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বায়ুসেনা। প্রযুক্তিগত ত্রুটি, নাকি অন্য কোনো কারণ— সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, সুখোই-৩০ ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম প্রধান মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান। রাশিয়ার সুখোই সংস্থা এই যুদ্ধবিমানটির নকশা তৈরি করলেও ভারতের হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড লাইসেন্সের মাধ্যমে দেশে এটি নির্মাণ করে। টুইন-ইঞ্জিন বিশিষ্ট এই ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান আকাশ থেকে আকাশ এবং আকাশ থেকে ভূমিতে আক্রমণ চালাতে সক্ষম। মাঝ আকাশে জ্বালানি ভরার সুবিধা থাকায় দীর্ঘ দূরত্বের অভিযানে এটি বিশেষ কার্যকর। পাশাপাশি ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনের ক্ষমতাও রয়েছে এই যুদ্ধবিমানের।
বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার বহরে ২৬০টিরও বেশি সুখোই-৩০ বিমান রয়েছে। দেশের আকাশসীমা রক্ষায় এই যুদ্ধবিমানগুলিই অন্যতম প্রধান ভরসা। তবে অতীতেও একাধিক বার এই মডেলের যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার মুখে পড়েছে। ২০১৭ সালে অসমের তেজপুর বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পর অরুণাচল প্রদেশের পশ্চিম কামেং জেলার জঙ্গলে ভেঙে পড়েছিল একটি সুখোই বিমান। সেই দুর্ঘটনাতেও দুই পাইলটের মৃত্যু হয়েছিল। নতুন করে অসমে এই দুর্ঘটনার ঘটনায় বায়ুসেনার প্রশিক্ষণ উড়ান ও প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও বায়ুসেনা জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ তদন্তের রিপোর্ট সামনে এলেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
❤ Support Us






