Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ডিসেম্বর ১, ২০২৫

দিল্লি দূষণ মামলায় কেন্দ্রকে তীক্ষ্ণ প্রশ্ন শীর্ষ আদালতের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দিল্লি দূষণ মামলায় কেন্দ্রকে তীক্ষ্ণ প্রশ্ন শীর্ষ আদালতের

দিল্লির আকাশে ধোঁয়াশার ঘনচাদর। শ্বাসরোধী বাতাসে অতিষ্ঠ রাজধানীড় আমজনতা। ঠিক এমন পরিস্থিতিতেই সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চে বসে প্রধান বিচারপতি সুর্যকান্ত তীব্র ক্ষোভ ক্ষোভ উগরে দিলেন। তাঁর কণ্ঠে ছিল বিস্ময়, বিরক্তি এবং সর্বোপরি, বৈজ্ঞানিক অনুশাসন উপেক্ষার হতাশা। দিল্লি-এনসিআর দূষণ মামলার শুনানিতে সোমবার প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত বললেন, ‘আমরা চুপ করে বসে থাকতে পারি না। কোনো সমাধান নেই, এমন বক্তব্যও চলবে না। কোভিডের সময় মানুষ নীল আকাশ, এমনকি রাতের তারা পর্যন্ত দেখেছিলেন। তখনও তো ফসলের গোড়া পোড়ানো হচ্ছিল! তা হলে আকাশ নীল হয়েছিল কী করে?’ এরপরই সিএকিউএম বা বায়ুর গুণমান ব্যবস্থাপনা কমিশন-সহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর, সময়সীমাবদ্ধ এবং বাস্তবায়নযোগ্য রূপরেখা নিয়ে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছে বেঞ্চ।

শুনানির শুরুতেই প্রধান বিচারপতি কঠোর ভাষায় জানিয়ে দেন যে, দিল্লির দূষণকে মৌসুমি মামলার তালিকায় রেখে ‘অক্টোবর এল তো শুনানি’–এমন ছকে আর ফেলা যাবে না। তাঁর সোজা কথা, যখন যানবাহন থেমে গিয়েছিল, নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল, শিল্পকারখানা স্তব্ধ ছিল, তখনই দূষণ কমেছিল। সুতরাং স্টাবল পোড়ানোকে একমাত্র দোষী করে দায়সারা ভাব দেখালে হবে না। অর্থাৎ শীর্ষ আদালত যে দিনে দিনে ক্ষতবিক্ষত হতে থাকা দূষণ-পরিস্থিতিকে আর কোনোভাবেই চলতে দিতে রাজি নয়, তা আজ পরিস্কার হয়ে গিয়েছে। সিএকিউএম এবং দিল্লি-সংলগ্ন রাজ্যের কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এখনই একটি বাস্তবসম্মত, সময়বদ্ধ এবং প্রয়োগযোগ্য পরিকল্পনা আদালতে জমা দিতে হবে। শুধু পরিকল্পনা নয়, তার বাস্তবায়নও প্রমাণ করতে হবে। বিচারপতি সুর্য কান্ত বলে দিলেন, আদালত বিজ্ঞানী নয়, আদালত প্রযুক্তির ভাষা বলেও না। কিন্তু এ প্রতিষ্ঠান সমস্ত পক্ষকে একত্রে বসিয়ে একটি কার্যকর সমাধান বার করতে পারে, এবং তা করতে সকলে বাধ্য।

এদিকে, সিএকিউএম জানিয়েছে তারা সব রাজ্য সরকার ও সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করেছে। ফসলের গোরা পোড়ানো, গাড়ির ধোঁয়া, রাস্তার ধুলো, নির্মাণের ধুলিকণা, বায়োমাস পোড়ানো, সব বিষয়ই খতিয়ে দেখা হয়েছে। কিন্তু আদালত এসব যুক্তি শুনে সন্তুষ্ট হয়নি। বাস্তবায়নের ঘাটতি যে স্পষ্ট সে কথা বারবার উঠে আসে বিচারপতির মুখে। কেন্দ্রীয় অ্যাটর্নি জেনারেলও স্বীকার করলেন, পরিকল্পনা আছে, কিন্তু তার প্রয়োগই হচ্ছে না। এই স্বীকারোক্তির পরই প্রধান বিচারপতি কঠোর ভাবে বলেন, যে পদক্ষেপ কার্যকর হয়েছে তাকে বাড়াতে হবে, আর যে পদক্ষেপ ফল দেয়নি তাকে সরিয়ে দিতে হবে। পুরনো ব্যর্থতার ওপর ভর দিয়ে নতুন করে মরসুমি কাজের অভিনয় চলবে না। সুপ্রিম আদালত আরো একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দূষণ কোনোভাবেই রাজনৈতিক দোষারোপের লড়াই হতে পারে না। কৃষকদের দিকে আঙুল তুলতে তুলতে রাজনৈতিক দল আর প্রশাসন নিজেদের দায় এড়িয়ে যাচ্ছে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। আদালত বলছে, কৃষকদের বিষয়ে প্রয়োজন সচেতনতা, সহায়তা ও যান্ত্রিক সমর্থন, দোষারোপ নয়। তাঁদের ওপর চাপিয়ে দিলে সমস্যাই বাড়বে, কমবে না।

পাশাপাশি আদালত প্রশ্ন তুলেছে সিএকিউএম-এর দূষণ মোকাবিলার পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়েও। বিচারপতি সূর্য কান্ত সরাসরি প্রশ্ন করেন, ‘চলতি পরিকল্পনাগুলো কি সত্যিই বায়ুগুণ উন্নত করেছে? যদি পরিকল্পনার ‘বৈধ প্রত্যাশা’ যদি পূরণ না হয়, তা হলে সেই পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে হবে, প্রয়োজনে বাতিল করতে হবে। পরিকল্পনা নেওয়া হলে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে, দিনের পর দিন তা ফেলে রাখা চলবে না। আর সর্বোপরি নতুন পথ খুঁজতে হবে, নতুন চিন্তার জায়গা তৈরি করতে হবে। সোমবারেরর এমন নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত ভারতের দূষণ-সমস্যার কেন্দ্রে থাকা মূল প্রশ্নটিকেই তুলে ধরল— দূষণের সবচেয়ে বড় উৎস কোনটি? গাড়ি? বাণিজ্যিক পরিবহন? নির্মাণের ধুলো? নাকি অন্য কিছু? আদালতের মতে, এখনই বিজ্ঞানসম্মত তথ্য দিয়ে দূষণের প্রধান উৎস চিহ্নিত করা প্রয়োজন। একমাত্র তাতেই বাস্তব সমাধানের পথ পাওয়া সম্ভব। আর শুধু ভাবনার পরিসরে নয়, দূষণ–উৎস নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট এক সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে। আদালতের দৃঢ় বিশ্বাস, সমাধান অবশ্যই আছে, সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। বসে বসে ‘কিছু করার নেই’ বললে চলবে না। এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে ১০ ডিসেম্বর।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!