Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাংলায় এসআইআর-এর সময়সীমা বৃদ্ধি। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পিছনোর সম্ভাবনা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাংলায় এসআইআর-এর সময়সীমা বৃদ্ধি। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পিছনোর সম্ভাবনা

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া, বা এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট সোমবার এক গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করেছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিল, স্ক্রুটিনির জন্য আরও ৭ দিনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে নির্বাচন কমিশনের পূর্ব ঘোষণার ভিত্তিতে ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের যে কথা ছিল, তা আর সময় অনুযায়ী করা সম্ভব নয়। কমিশনের সূত্রের ইঙ্গিত অনুযায়ী, নতুন সময়সীমার পরে তালিকা প্রকাশ ২১ ফেব্রুয়ারির পরেও পিছোতে পারে। এদিন শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের, সংক্ষেপে ইআরওদের, নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হওয়া সব নথি যাচাই করার জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া উচিত। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যাচাই প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে এবং সেটাই সময়সীমা বৃদ্ধির মূল কারণ।

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে কমিশনের সূত্র জানাচ্ছে যে, শুনানি শেষ হওয়ার পর ৭ দিনের স্ক্রুটিনির প্রক্রিয়া চলবে এবং এরপর ডিইও মূল্যায়ন করবেন। তার পরেই সিইও দফতর চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করে কমিশনকে জানাবে। সবশেষে নির্বাচন কমিশন সে তালিকা প্রকাশ করবে। সমস্ত ধাপ মিলিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারির পরেই চূড়ান্ত তালিকা হাতে আসার সম্ভাবনা বেশি। সুপ্রিম কোর্ট এও স্পষ্ট করেছে, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র অধিকার থাকবে ইআরওদের হাতে। মাইক্রো অবজারভাররা শুধুমাত্র সহায়তা দেবেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনও ক্ষমতা থাকবে না। আদালতের এই পর্যবেক্ষণে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। এদিন, শুনানির সময় মাইক্রো অবজারভারদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বাদানুবাদ হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, মাইক্রো অবজারভাররা ইআরওদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত না হলে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন, যা বেআইনি। প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, তাহলে কি ইআরওরা মাইক্রো অবজারভারদের মন্তব্যের জন্য অপেক্ষা করবেন? আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়, মাইক্রো অবজারভাররা কেবল সাহায্য করবেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদের নেই।

রাজ্য এবং কমিশনের মধ্যে আধিকারিক সরবরাহ সংক্রান্ত বিরোধও শোনা যায়। রাজ্য দাবি করেছে যে কমিশনকে ৮,৫০০ থেকে ৮,৫৫৫ জন গ্রুপ-বি আধিকারিক দেওয়া হয়েছে। যদিও কমিশনের অভিযোগ, পুরো তালিকা এখনো হাতে আসেনি। তাদের বক্তব্য, প্রয়োজন ছিল প্রায় ৩০০ জন গ্রুপ-বি অফিসারের, কিন্তু পাওয়া গেছে মাত্র ৮০ জন। বাকিরা ছিল গ্রুপ-সি বা অন্যান্য শ্রেণির কর্মী। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, কর্মী দেওয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু নামের তালিকা কোথায়? বাংলায় জানাশোনা কর্মী থাকা জরুরি। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল ৫ টার মধ্যে রাজ্য থেকে পাঠানো ৮,৫০৫ জন গ্রুপ-বি অফিসার সংশ্লিষ্ট ডিইও বা ইআরওর কাছে রিপোর্ট করবেন। কমিশন জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রম বুঝতে অন্তত ১০ দিনের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন, তবে প্রয়োজনে এক বা দুই দিনের সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণও দেওয়া যেতে পারে। প্রধান বিচারপতি আবার জোর দিয়ে বলেছেন, এই অফিসাররা শুধুমাত্র সহায়ক ভূমিকা পালন করবেন, সিদ্ধান্ত নেবেন না।

শুনানিতে ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের ব্যবহৃত সফটওয়্যার ব্যবহার সম্পর্কেও প্রশ্ন তোলা হয়। বিচারপতি বাগচী মন্তব্য করেন, নামের সামান্য বানান ভুলের জন্য নোটিশ পাঠানো হচ্ছে, বাংলায় ‘কুমার’ প্রায়ই মধ্যনাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু সফটওয়্যার তা ধরে নিচ্ছে না। এছাড়া, ৫০ বছরের বয়স ব্যবধানকে ‘দাদু-নাতি সম্পর্ক’ ধরে নেওয়া হচ্ছে, যা বাস্তবে সঠিক নয়। কমিশনের আইনজীবীরা জানান, এখনও প্রায় ১৪ লক্ষ শুনানি বাকি। ভোটারদের বাদ পড়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, নামের বানান ভুলের কারণে কোনো ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিত নয়। প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন, এ মুহূর্তে সাধারণ নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয়। সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রীর সওয়াল নিয়ে আনা আবেদনের প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই। এটি সংবিধানের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রকাশ। রাজনীতিকরণের কোনো সুযোগ নেই।

অন্যদিকে, আদালতে নির্বাচন কমিশন অভিযোগ করেছে, রাজ্য সরকার ‘এসআইআর’-এ অসহযোগিতা করছে। এফআইআর বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সম্প্রতি এনুমারেশন ফর্ম পোড়ানোর ঘটনা নিয়ে রাজ্যের ডিজি-কে শোকজ করা হয়েছে এবং হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিনই, ‘এসআইআর’ সংক্রান্ত মামলার অন্যতম পিটিশনার মোস্তারি বানু জানান, তাঁর নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল, বাবার সঙ্গে ২৭ বছরের, মায়ের সঙ্গে ২২ বছরের ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও বাবার সঙ্গে ১৫ বছরের ব্যবধান দেখিয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় জানান, একেকটি বুথ থেকে ৫০০ জনকে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। অভিযোগকারীর ঠিকানা দেওয়া হচ্ছে অস্তিত্বহীন, এবং ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সি’র নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের শেষ পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট। এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনও বাধা বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনে আদালত আবার হস্তক্ষেপ করবে। তবে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক কর্তব্য পালনে কোনো প্রতিবন্ধকতা মানা হবে না।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!