Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬

‘উন্নয়নের জন্য এক পয়সাও নেই, এদিকে…’ : ভোটের আগে ‘খয়রাতি সংস্কৃতি’ নিয়ে রাজ্যগুলিকে ফের ভর্ৎসনা শীর্ষ আদালতের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘উন্নয়নের জন্য এক পয়সাও নেই, এদিকে…’ : ভোটের আগে ‘খয়রাতি সংস্কৃতি’ নিয়ে রাজ্যগুলিকে ফের ভর্ৎসনা শীর্ষ আদালতের

ভোটের আগে রাজ্যগুলিতে দেদার ‘খয়রাতি’, অথচ প্রকৃত উন্নয়ন প্রকল্পে ভাঁড়ারে টান, এমন প্রশ্ন তুলে ফের সরব শীর্ষ আদালত। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট তামিলনাড়ুর রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার করা একটি আর্জির প্রেক্ষিতে বিচারপতিরা বলেন, ‘দেশের অধিকাংশ রাজ্যে রাজস্ব ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও খয়রাতির রমরমা চলছে।’ আদালতের তীক্ষ্ণ প্রশ্ন, যেখানে কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিনামূল্যে খাবার, সাইকেল বা বিদ্যুৎ দেওয়া হয়, সেখানে উন্নয়নমূলক কাজ ও কর্মসংস্থান কীভাবে বাস্তবায়ন হবে!

তামিলনাড়ু রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা রাজ্যের সব নাগরিককে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। মামলার শুনানি হয় দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে। শীর্ষ আদালত সরাসরি প্রশ্ন তোলে, ‘দেশে আমরা কি ধরনের সংস্কৃতি তৈরি করছি?’ প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি, যাঁরা বিদ্যুতের বিল দিতে পারছেন না, তাঁদের জন্যই এ উদ্যোগ। কিন্তু যাদের দিতে সক্ষম, তাদের জন্যও একই সুবিধা দিলে, এটি কি সঠিক নীতি?’ তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বিনামূল্যে খাবার থেকে শুরু করে, বিনামূল্যে সাইকেল এবং তারপর বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়া হলে কর্মসংস্কৃতির কী হবে। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, ‘এভাবে যদি খয়রাতি বিতরণ চলতে থাকে, তবে কাজের কাজগুলো কে করবে?’

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি মন্তব্য করেছেন, ‘আমরা শুধু একটি রাজ্যের কথা বলছি না। এটি সমস্ত রাজ্যের জন্য প্রযোজ্য।’ আদালত রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে, তাদের বাজেটে পরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয় খরচের মধ্যে পার্থক্য করতে হবে এবং স্পষ্টভাবে দেখাতে হবে, কোন খাতে কত অর্থ ব্যয় করা হবে। রাজনীতিক ক্ষেত্রে ‘খয়রাতি’ বিতরণ দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের বিষয়। ভোটের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে— কেউ বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার কথা ঘোষণা করে, কেউ মাসিক অর্থসাহায্যের কথা জানায়।

সামনেই তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গসহ চার রাজ্যে নির্বাচন। এ প্রেক্ষাপটে তামিলনাড়ু সরকারের আর্জির ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট দেশের সব রাজ্যকেই বার্তা দিয়েছে যে, খয়রাতি বিতরণে সীমাহীন উদারতা দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্কৃতির জন্য ক্ষতিকর। আদালত সতর্ক করেছে, এ ধরনের উদ্যোগ বাজেটের ভারসাম্য নষ্ট করছে এবং উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থ উধাও করছে। এর আগে গত বছর, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই বলেছিলেন, এ ধরনের বিনামূল্য বিতরণ মানুষকে কাজ করতে অনিচ্ছুক করে তোলে এবং এক ধরনের ‘পরজীবী শ্রেণী’ তৈরি করতে পারে। তিনি উদাহরণ দিয়ে মহারাষ্ট্রের ‘লাডকি বাহিন’ প্রকল্পের উল্লেখ করেন, যেখানে ২১ থেকে ৬৫ বছরের মহিলা নির্দিষ্ট পারিবারিক আয়ের সীমার মধ্যে থাকলে মাসিক নগদ অর্থ পান।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!