- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ১৪, ২০২৫
বিহার ভোটে বামদলের প্রার্থী সুশান্ত সিং রাজপুতের বোন দিব্যা গৌতম
প্রয়াত বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের স্মৃতি এখনো দগদগে। স্মৃতির ভার বয়ে বেড়াচ্ছেন তাঁর অগুনতি ভক্ত। এরইমধ্যে বিহারের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দিঘা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার এক দিন পর, সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে আবেগে ভেঙে পড়লেন সিপিআই (এমএল)-এর প্রার্থী সুশান্তের তুতো বোন দিব্যা গৌতম। বললেন, ‘আমি সুশান্তের নাম আমার রাজনীতিতে ব্যবহার করিনি, কখনো করব না।’
দীর্ঘদিন ধরে বাম ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত দিব্যা। পাটনা কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। পরে পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তরও শেষ করেন। কলেজজীবন থেকেই অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বা আইসা-র সক্রিয় সদস্য ছিলেন তিনি। ২০১২ সালে পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে আইসার হয়ে সভাপতি পদের জন্য লড়েছিলেন, যদিও শেষমেশ দ্বিতীয় স্থানেই থেমে যেতে হয় তাঁকে। শিক্ষক হিসেবে পাটনা উইমেন্স কলেজে যুক্ত ছিলেন কিছুদিন। এর পাশাপাশি বিহার সরকারের খাদ্য ও উপভোক্তা সুরক্ষা দফতরে ‘সাপ্লাই ইনস্পেক্টর’ পদে কিছু সময় কাজ করেছেন। বর্তমানে পিএইচডি করছেন।
প্রার্থীতার ঘোষণার এক দিন পর সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ব্যক্তিগত পরিচয়ের প্রসঙ্গ তুলতেই আবেগে ভেঙে পড়েন দিব্যা। বলেন, তিনি গর্বের সঙ্গে বলতে পারেন, তিনি সুশান্ত সিং রাজপুতের বোন। কিন্তু নিজের রাজনৈতিক পরিচয় গড়ার ক্ষেত্রে কখনো অভিনেতার জনপ্রিয়তা ব্যবহার করেননি, ভবিষ্যতেও করবেন না। তাঁর কথায়, প্রতি বছর সুশান্তের জন্মদিনে একটি থিয়েটার প্রযোজনায় অংশ নেন তিনি, সেটাই তাঁর ভালবাসা, সেটাই শ্রদ্ধা। কিন্তু ভোটের ময়দানে সুশান্তের নাম টেনে আনাকে তিনি নৈতিকভাবে সমর্থন করেন না। দিব্যার চোখেমুখে তখন স্পষ্ট আবেগ। কণ্ঠস্বর ভারী হয়ে আসে। বলেন, ‘অনেকেই সুশান্তের নামকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে। আমি সেই পথে হাঁটতে চাই না।’ সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পরে দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। সেই আবেগ আজও অনেকের মনে তাজা। কিন্তু তা রাজনৈতিক মঞ্চে না টেনে, দিব্যা বেছে নিয়েছেন নিজের আলাদা পরিচয়। মাটি থেকে উঠে আসা, ছাত্র রাজনীতি ও সমাজকর্মের পথ বেয়ে রাজনীতিতে নিজের অবস্থান গড়ে তুলতে চাইছেন তিনি।
রাজনীতিতে তাঁর যাত্রাপথ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক পরিসরের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে দিব্যার অবস্থান বাম রাজনীতিতে এক অনন্য পরিচয় তৈরি করেছে। তাঁর প্রার্থীতার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে সিপিআই(এম-এল) লিবারেশন। সোমবার রাতে দলটির বিহার রাজ্য কমিটির সোশ্যাল মিডিয়া পেজ থেকে একটি ছবি পোস্ট করে জানানো হয়, দিঘা কেন্দ্র থেকে দলের প্রতীকে লড়াই করবেন দিব্যা গৌতম। সে ছবিতে দেখা যায়, তাঁকে ঘিরে রয়েছেন রাজ্যের একাধিক বাম নেতৃত্ব। বিহারের রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে দিঘা কেন্দ্রটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ঐতিহাসিকভাবে বামপন্থীদের শক্ত ঘাঁটি হলেও, ২০২০ সালের নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী সঞ্জীব চৌরাসিয়া এই আসনে জয় পান। সিপিআই(এম-এল) তখন দ্বিতীয় স্থানে নেমে গিয়েছিল। এবার হারানোর জমি পুনরুদ্ধারে তৎপর বামপন্থীরা। দিব্যার দাবি, এই কেন্দ্রের নাগরিক সমস্যাগুলি দিনের পর দিন অবহেলিত থেকে গিয়েছে। জলজট, রাস্তার আলোর অভাব, নিয়মিত ট্র্যাফিক জ্যাম, সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। তাঁর কথায়, মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁরা পরিবর্তন চাইছেন। আর সে পরিবর্তনের দাবিতেই তিনি ভোটের ময়দানে নেমেছেন।
উল্লেখ্য, বিহারে এবার দুই দফায় বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হবে আগামী ৬ নভেম্বর। সেই দফায় মোট ১২১টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট নেওয়া হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৭ অক্টোবর। যাচাই-বাছাই হবে ১৮ অক্টোবর এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য সময় থাকছে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ১১ নভেম্বর। এই দফায় মোট ১২২টি আসনে নির্বাচন হবে। মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত এবং তা প্রত্যাহার করা যাবে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত। উভয় দফার ভোটগণনা অনুষ্ঠিত হবে ১৪ নভেম্বর। তবে এই নির্বাচনে বৃহত্তর বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র মধ্যেই এখনো আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হয়নি। কিন্তু ছোটও দলগুলোর মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রার্থী নির্বাচনের কাজ এগিয়ে গিয়েছে অনেকটাই। সিপিআই(এম-এল) লিবারেশনও তারই ধারাবাহিকতায় দিঘা থেকে দিব্যাকে মাঠে নামিয়েছে।
❤ Support Us








