- দে । শ
- ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫
মেলেনি সুবিচার, কালীগঞ্জের মোলান্দিতে সন্তানহারার নিভৃত ক্রন্দন
কোল খালি হওয়ার সাত মাস কেটে গেলেও ক্ষতে প্রলেপ পড়েনি। বরং সময়ের সাথে সাথে বিচার পাওয়ার দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর মেয়ের স্মৃতি আরও যন্ত্রণাদায়ক হয়ে উঠেছে নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের বাসিন্দা সাবিনা বিবির কাছে। মঙ্গলবার সেই মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে বাড়িতেই ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। সময়মতো পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পাওয়ায় বর্তমানে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
গত ২৩ জুন কালীগঞ্জ উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশের দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মোলান্দি গ্রাম। দুপুরে আচমকা বোমাবাজির কবলে পড়ে প্রাণ হারায় ৯ বছরের নিষ্পাপ নাবালিকা তামান্না খাতুন। এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকপ্রকাশ করে পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
ঘটনার পরপরই পুলিশ সক্রিয় হয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে। এই মামলায় এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ জন জেলহাজতে রয়েছে। স্থানীয় বিধায়ক আলিফা আহমেদও পুলিশি তৎপরতার কথা স্বীকার করেছেন। কিন্তু পুলিশের পদক্ষেপে আশ্বস্ত হতে পারেনি তামান্নার পরিবার। দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবিতে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আশায় গত জুলাই মাসে তারা কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় এবং সিবিআই (CBI) তদন্তের আর্জি জানায়।
প্রতিবেশী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সাত মাস কেটে গেলেও মামলার চূড়ান্ত ফয়সালা না হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন সাবিনা। সারাক্ষণ মেয়ের স্মৃতি তাড়া করে বেড়াত তাঁকে। বিচার পেতে দেরি হওয়া সেই অবসাদকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। মঙ্গলবার অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলায় তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়েছিল, তবে আপাতত তিনি স্থিতিশীল।
নদিয়ার এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, রাজনৈতিক হিংসার বলি হওয়া পরিবারের সদস্যদের মানসিক ক্ষত শুধু গ্রেপ্তারি বা ক্ষতিপূরণে সারে না, দ্রুত বিচারই একমাত্র পথ।
❤ Support Us





