- এই মুহূর্তে দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬
ভোটের আগে সরগরম তামিলনাড়ুুর রাজনীতি ! ডিএমকে-তে যোগ দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, বহিষ্কৃত এআইএডিএমকে নেতা পন্নীরসেলভম
সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, আর আগে নতুন উত্তেজনায় সরগরম তামিলনাড়ুর রাজনীতি। দীর্ঘ দিন জল্পনা ও রাজনৈতিক অন্তর্দ্বন্দ্বের পর, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বহিষ্কৃত এআইএডিএমকে নেতা ও. পন্নীরসেলভম শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে শাসক দল ডিএমকে-তে যোগ দেন। চেন্নাইয়ে ডিএমকে সভাপতি ও মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিনের উপস্থিতিতে তিনি দল পরিবর্তন করলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পন্নীরসেলভমের এই পদক্ষেপ কেবল রাজনীতির দুনিয়ায় ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন নয়, বরং তামিলনাড়ুর আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য কৌশলগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ।
দক্ষিণ তামিলনাড়ুর থেনি এবং রামনাথপুরম অঞ্চলে থেভর জনগোষ্ঠীর মধ্যে পন্নীরসেলভমের গভীর প্রভাব রয়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে রামনাথপুরম থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়ে দ্বিতীয় স্থানে আসেন তিনি। সে নির্বাচনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এডাপ্পাড়ি কে. পলানিস্বামীর এআইএডিএমকে তৃতীয় স্থানে নেমেছিল। অনেকে মনে করছেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে পন্নীরসেলভমকে পাশে পাওয়া মানে ডিএমকে-এর পক্ষের জন্য বাড়তি সুবিধা হলো। ৭ মাস আগে, এম. কে. স্ট্যালিনের সঙ্গে প্রাতঃভ্রমণ-আলোচনার পর পন্নীরসেলভম ঘোষণা করেছিলেন তিনি এনডিএ জোট ছাড়বেন। শুক্রবার সেই ঘোষণা বাস্তবায়িত হলো। পন্নীরসেলভম দীর্ঘদিন জে. জয়ললিতার সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন অনুগত হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বহু সময় জয়ললিতার অনুপস্থিতে অন্তর্বর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১৬ সালে জয়ললিতার মৃত্যুর পর এআইএডিএমকে নেতৃত্বের মধ্যে বিভক্তি শুরু হয়। প্রথমে শশিকলার সমর্থনে কার্যনির্বাহী মুখ্যমন্ত্রী পন্নীরকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেন পলানিস্বামী। শশীকলার জেলযাত্রার পর দলের ক্ষমতা আরও অনিশ্চিত হয়ে ওঠে। পন্নীর ও পলানিস্বামীর গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বে দল ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির সক্রিয়তার মধ্যে ফের দুই গোষ্ঠী সাময়িকভাবে মিলিত হয়। পন্নীরসেলভম দলের সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পান, পলানিস্বামী সহ-সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে বিধানসভা নির্বাচনে দল হেরে যায়। এর পর ২০২২ সালে এআইএডিএমকে সাধারণ পরিষদে পন্নীর এবং তাঁর সমর্থকদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ পলানিস্বামীর শিবির একক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিজেপির সঙ্গে পন্নীরসেলভমের ব্যর্থ আলোচনার ইতিহাস। জানা যায়, দিল্লিতে একাধিক দফায় আলোচনার পরও ওপিএস নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেননি। বিজেপি জানিয়েছিল, ‘আমরা তাঁকে দলে নিতে রাজি ছিলাম না। তবে বিজেপির ভাগের আসনে লড়ার সুযোগ ছিল— হোক তা বিজেপির টিকিটে বা টি.টি.ভি. দিনাকরণের এএমএমকে-র মাধ্যমে। দিল্লিতে তিনি প্রস্তাব মেনে নিতেন, কিন্তু তামিলনাড়ু ফিরে এসে পিছিয়ে যেতেন। ফলে তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে।’ ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে ডিএমকে-র জোট রাজনীতি আরও তীব্র হয়েছে। কংগ্রেসের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে নীরব টানাপোড়েন চলছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ডিএমকে কংগ্রেসকে সর্বাধিক ২৮টি আসন দিতে পারে। শীর্ষ নেতারা বলছেন, সামান্য বৃদ্ধি হতে পারে এবং আসন সংখ্যা সর্বোচ্চ ২৮-এ রাখা যেতে পারে। যদিও চূড়ান্ত সমঝোতা এখনও হয়নি, দুই পক্ষই সমঝোতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ডিএমকে নেতাদের যুক্তি, কংগ্রেসকে বেশি আসন দিলে জোটে নতুন শরিকদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকবে না। তবে, রাজ্যসভা নির্বাচনের মনোনয়ন শুরুর আগেই সব জোটসঙ্গীর সঙ্গে আসন-বণ্টন চূড়ান্ত করতে চায় ডিএমকে। তামিলনাড়ুর ৬ টি সংসদীয় আসনও আলোচনার অংশ।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনও রাজ্যের ভোট প্রস্তুতি নিয়ে জোর দিচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার শুক্রবার জানিয়েছেন, তামিলনাড়ুর দলগুলো এক দফায় ভোটগ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সমস্ত বিষয় বিবেচনা করে। ভোট নির্ধারিত সূচি ঘোষণার পর তা স্পষ্ট হবে। সম্প্রতি তামিলনাড়ুর ভোটার তালিকার সংক্ষিপ্ত পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ার প্রশংসা করে তিনি এটিকে দেশের জন্য মডেল বলেও অভিহিত করেছেন। ৭৫,০০০ ভোটকেন্দ্রে সমস্ত প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এবারের ভোটগণনা সংক্রান্ত নতুন পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বাধ্যতামূলক ভিভিপ্যাট গণনা। ফল প্রকাশের পর ৭ দিনের মধ্যে যে কোনো প্রার্থী নির্ধারিত ফি দিয়ে ইভিএম ও ভিভিপ্যাট মিলিয়ে দেখতে পারবেন। আরও একটি উদ্যোগ হলো, পোস্টাল ব্যালট গণনা ইভিএম গণনার দুই ধাপ আগে সম্পন্ন করা হবে। সব মিলিয়ে, তামিলনাড়ুর রাজনীতি নতুন জোট সমীকরণ, পুরনো দ্বন্দ্ব এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির ত্রিমুখী প্রক্রিয়ার আবর্তে প্রবাহিত হচ্ছে। পন্নীরসেলভমের ডিএমকে-তে যোগদান সে আবর্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
❤ Support Us






