Advertisement
  • দে । শ
  • এপ্রিল ২৬, ২০২৫

শিক্ষক তপনের নয়া নজির

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
শিক্ষক তপনের নয়া নজির

সব্যসাচী তাকেই বলে, দুই হাত সমান চলে যার। কিন্তু যার ২ হাত, ২ পা কিংবা হাত পায়ের সঙ্গে কান, নাক, চোখ লেখায় পটু তাকে কী বলা হবে ?‌ তার উত্তর ব্যকরণ বইতে মিলবে না। কিন্তু সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন বসিরহাটের একটি স্কুলের ইতিহাসের শিক্ষক তপন দে।

হাতের লেখা সবাই পড়তে পারে। বিশেষ ভাবে সক্ষম যাঁরা তাঁধের কেউ কেউ পা দিয়েও লিখতে পারেন। ললাট লিখন পড়তে গেলে জ্যোতিষী হতে হয়!‌ তাই বলে চোখ দিয়ে লেখা, কান দিয়ে লেখার কথা কখনও শুনেছেন কেউ। সেটাই করে দেখাচ্ছেন আশ্চর্য কলমচি তপন দে। দু’‌ হাত তো আছেই , দুই পা তো বটেই এমনকী কপালের ভাঁজে, চোখের পাতায়, কানের লতিতে কলম আটকে দিব্যি লিখে যান তপন। চুলের সঙ্গে কলম বেঁধেও লেখা চালিয়ে যান বসিরহাটের সর্দারহাটি গ্রামের তপন দে। এবং সেসব লেখা হাতের লেখার মতই স্পষ্ট এবং সুন্দর। যদিও এটা তপনবাবুর পেশা নয় , বলা যায় নেশা। ছাত্রজীবন থেকেই চর্চা করতে করতে তিনি এই ক্ষমতা অর্জন করেছেন।

পেশায় বসিরহাটের নৈহাটি এনসিএম হাইস্কুলের ইতিহাসের শিক্ষক তপনবাবু হাত পা, কান, নাক, চোখ, কপাল, চুলে কলম ধরে সাবলীল ভাবে বাংলা, ইংরেজি শব্দ, বাক্য লিখে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। এভাবে তাঁর সর্বাঙ্গ দিয়ে লেখার অনেক অনুগামী তৈরি করে ফেলেছেন। শুধু তাই নয় একই সঙ্গে ২ হাত ও ২ পা দিয়ে লেখা চালিয়ে যেতে পারেন তপনবাবু। আজব কলমচি তপন দে বলেন, ‘‌‘‌ছোটবেলায় দেখতাম কারও হাত নেই বা কলম ধরার মত হাতের আঙুল নেই। অথচ পা দিয়ে লিখে বড় বড় পরীক্ষা দিচ্ছে। আশ্চর্য লাগত। তার পর বাড়িতে সময় পেলেই একা একা চেষ্টা করতাম পায়ের আঙুলের ফাঁকে কলম আটকে লেখার। তারপর একে একে চোখ, কান, নাকে কলম আটকে লেখা অভ্যাস করলাম। নাক দিয়ে লিখতে গিয়ে কলম নাকে কলম বিঁধে ২ বার অপারেশন করতে হয়েছে। তাতেও অনুশীলন ছাড়িনি।’‌’‌ তপন জানান , স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি পাওয়ার পর এখন ছোটদের উৎসাহিত করতে হাত–‌পা, নাক, চোখ, চুল দিয়ে লেখা শেখান তিনি। এই লেখার সুবাদে লিমকা বুক অফ রেকর্ডে নাম তুলেছেন তপন দে। আমেরিকার ‘‌রিপ্লেস— বিলিভ ইট অর নট’‌ সংস্থার স্বিকৃতি মিলেছে এই আশ্চর্য কলমচির। ‌‌


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!