Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৫

কেন্দ্রের হিন্দি নীতির বিরোধিতা । দশম শ্রেণী পর্যন্ত তেলেগু ভাষা পাঠকে বাধ্যতামূলক করলো তেলেঙ্গানা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কেন্দ্রের হিন্দি নীতির বিরোধিতা । দশম শ্রেণী পর্যন্ত তেলেগু ভাষা পাঠকে বাধ্যতামূলক করলো তেলেঙ্গানা

জাতীয় শিক্ষা নীতিতে থাকা ‘তিন ভাষার নীতি’ নিয়ে তামিলনাড়ু সরকার ও বিজেপি-নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে একটি ‘ভাষা যুদ্ধ’ চলছে। ‘হিন্দি আগ্রাসন’ বিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যজুড়ে। এরই মধ্যে তেলেঙ্গানা সরকার রাজ্যের সমস্ত স্কুলে, সমস্ত বোর্ডের ১-১০ শ্রেণীর জন্য তেলেগু ভাষাকে বাধ্যতামূলক করবার ঘোষণা করেছে। চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই চালু হতে চলেছে এ নিয়ম। তেলেঙ্গানা স্কুলশিক্ষায় তেলেগু বাধ্যতামূলক-২০১৮ আইনের প্রয়োগ করবে রেবন্ত রেড্ডির কংগ্রেস সরকার। এর আগে ভারত রাষ্ট্র সমিতি সরকার এই আইনটি প্রণয়ন করেছিল, বিভিন্ন সমস্যার কারণে এটিকে সম্পূর্ণরূপে প্রয়োগ করা যায়নি।

বুধবার তেলেঙ্গানা সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সমস্ত স্কুলের জন্য তেলেগু বাধ্যতামূলক করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে কেন্দ্র-শাসিত সিবিএসসি-এর অধীনস্ত স্কুলগুলিও রয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে মাতৃভাষা পোড়াশোনা করতে পারে, শিখতে পারে সেই জন্যই এই পদক্ষেপ। রাজ্যের বাইরে থেকে আসা ছাত্রছাত্রীরা এতে আঞ্চলিক ভাষা শিখতে পারবে। আরো বলা হয়েছে, নবম এবং দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যক্রম কিছুটা কমিয়ে দেওয়া হবে – ‘সহজ তেলেগু’ থেকে স্ট্যান্ডার্ড তেলেগু’ শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। যাতে যাঁদের মাতৃভাষা তেলেগু নয় তাঁরাও সহজে ভাষাটি শিখতে পারে। সিবিএসই, আইসিএসই, আইবি ও তেলেঙ্গানার অন্য সমস্ত স্কুল বোর্ডকে মানতে হবে এই নিয়ম।

২৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে সরকারি স্কুল শিক্ষা সচিব ডঃ যোগিতা রানা একটি বিবৃতি জারি করেছিলেন। তাতে উল্লেখ রয়েছে, তেলেগু ভাষার পাঠ্যক্রম ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে পরিবর্তিত হবে। নির্দেশনামায় ২০২৫-২৬ এ নবম শ্রেণির জন্য এবং ২০২৬-২৭ থেকে ১০ শ্রেণির জন্য ‘ভেনেলা’ বা সরল তেলেগু এবং ‘সিঙ্গিদি’ অর্থাৎ স্ট্যান্ডার্ড তেলেগু ভাষায় শিক্ষাদানের কথা বলা হয়েছে। তেলেঙ্গানার বিভিন্ন স্কুল বোর্ডে তেলেগু ভাষার পাঠদানকে উন্নত করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ।

উল্লেখ্য, জাতীয় শিক্ষানীতির মাধ্যমে ‘জোর করে’ হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এই অভিযোগে তামিলনাড়ুর স্ট্যালিন সরকারের সঙ্গে কেন্দ্র সরকারের বিরোধ চরমে উঠেছে। তামিলনাড়ুর স্কুলগুলিতেও তামিল ভাষায় শিক্ষাদান বাধতামূলক করা হয়েছে। নয়া শিক্ষানীতির নিয়ম অনুসারে, স্কুলগুলিকে আঞ্চলিক বা স্থানীয় ভাষা, দ্বিতীয় ভাষা হিসাবে ইংরেজি এবং তৃতীয় ভারতীয় ভাষা, আদর্শভাবে হিন্দি, অ-হিন্দি-ভাষী রাজ্যগুলিতে শিক্ষা দিতে হবে। যার বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে তামিলনাড়ু সরকার। তেলেঙ্গানা সরকার তেলেগু ভাষা শিক্ষাকে এমনভাবে প্রচার করতে চাইছে যাতে ওই রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা বোর্ডের অধীনে স্কুল পাঠ্যক্রমের একটি স্বাভাবিক অংশ হয়ে ওঠে। হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া বিতর্কের মাঝে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন বলেছিলেন, ‘আমরা আরেকটি ভাষা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।’ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ভাষা আগ্রাসনের অভিযোগ তিনি বলেছেন, নতুন নীতি গ্রহণ করায় যদি কেন্দ্র আমাদের ২ হাজার কোটি টাকার পরিবর্তে ১০ হাজার কোটি টাকাও দেয় তাহলেও এ কাজ আমি করব না। এই নীতিতে সই করলে তামিল সমাজ ২ হাজার বছর পিছনে চলে যাবে।’ স্ট্যালিন মনে করিয়েছেন ‘দ্রাবিড় আন্দোলন ৮৫ বছর ধরে তামিল ভাষার রক্ষায় লড়াই করছে। গত ৭৫ বছরে ভারতে ৫২টি ভাষা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে হিন্দি আগ্রাসনে। শুধুমাত্র হিন্দি বলয়ে ধ্বংস হয়েছে ২৫ টি ভাষা। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য আমাদের রাজ্যের দুই চোখ। এখানে জাতীয় শিক্ষানীতির মাধ্যমে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া আমরা মানব না।’ মাতৃভাষার উদযাপনের মাসে তামিল-তেলুগু ভাষার, মাতৃভাষায় শিক্ষালাভ, সংস্কৃতি রক্ষা, ও কর্মক্ষেত্রে নিজের ভাষায় কথা বলবার অধিকারের দাবিতে জানকবুল লড়াই ভাষা রক্ষা আন্দোলনের নতুন ইতিহাস রচনা করতে পারে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!