Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ১৬, ২০২৫

নভেম্বরের গোড়াতেই কলকাতায় মমতা-অভিষেকের প্রতিবাদ সভা । ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার বিরোধীতা হবে জেলায় জেলায়

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নভেম্বরের গোড়াতেই কলকাতায় মমতা-অভিষেকের প্রতিবাদ সভা । ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার বিরোধীতা হবে জেলায় জেলায়

পুজোর মরশুম চলছে। দুর্গাপুজো পেরিয়ে বাঙালির ঘরে জ্বলতে শুরু করেছে দীপাবলির আলোর রোশনাই। পাল্লা দিয়ে চড়তে শুরু করেছে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ। কালীপুজো ও ভাইফোঁটা শেষ হলে রাজ্য রাজনীতিতে নামতে চলেছে ভোটের ঘনঘটা। নভেম্বরের গোড়াতেই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ শুরু হওয়ার কথা। আর সে সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই উত্তাল হতে পারে রাজ্য রাজনীতি। সূত্রের খবর, সংশোধন প্রক্রিয়ার বিরোধিতায় নভেম্বরের গোড়াতেই প্রতিবাদ সভার ডাক দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

নির্বাচন কমিশনের তরফে ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত মিলেছে, ২ নভেম্বর, সোমবার থেকে রাজ্যে শুরু হতে পারে ভোটার তালিকার এই নিবিড় সংশোধন। ওই দিনই বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার সম্ভাবনা। এরই মধ্যে প্রবল বিরোধিতায় মাঠে নামার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে শাসক দল। দলীয় সূত্রের খবর, সবদিক বিচার করে নভেম্বরের গোড়াতেই কলকাতায় বড়োসড় প্রতিবাদ সভার আয়োজন করতে পারেন দুই তৃণমূল শীর্ষনেতা। যদিও দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দলনেত্রীর বার্তা নিয়ে তারপরই জেলাস্তরের নেতৃত্বরা রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচী করবেন বলে অনুমান রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের।

নির্বাচন কমিশন বলছে, ভোটার তালিকার সংশোধন প্রশাসনিক দিক থেকে একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। প্রতি নির্বাচনের আগে নতুন ভোটার যুক্ত করা, পুরনো বা মৃত ভোটার বাদ দেওয়ার কাজই এর মূল উদ্দেশ্য। তবে এ বছর বিষয়টি নিয়ে রাজ্যে রাজনৈতিক তরজায় ঘৃতাহুতি দিয়েছে বিজেপি নেতাদের একাধিক বক্তব্য। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর সম্প্রতি দাবি করেছেন, ‘এই সংশোধনের ফলে প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাবে।’ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীরও দাবি, ‘কমপক্ষে ১ কোটি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বেন, যাঁদের অনেকেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী।’ গেরুয়া শিবিরের এহেন বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল। তাদের প্রশ্ন, ‘সংশোধন শুরু হওয়ার আগেই বিজেপি কীভাবে এমন নির্দিষ্ট সংখ্যা বলছে? কী করে জানছে কে বাদ যাবে?’ শাসক দলের অভিযোগ, এই সমস্ত ইঙ্গিত থেকেই পরিষ্কার, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে এক প্রকার ‘টার্গেটেড এক্সক্লুশন’ বা পরিকল্পিত বাদ দেওয়ার ছক কষছে বিজেপি।

তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, এই সংশোধনের মূল লক্ষ্য বাংলার গরিব, দলিত, আদিবাসী ও প্রান্তিক সম্প্রদায়ের ভোটারদের বাদ দেওয়া। তাঁদের দাবি, ঠিক যেভাবে বিগত কয়েক বছরে কেন্দ্র একশো দিনের কাজ ও আবাস যোজনার মতো প্রকল্পের টাকা বন্ধ করেছে, এবার সেই ষড়যন্ত্র পৌঁছেছে ভোটার তালিকা পর্যন্ত। তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতার বলেছেন, ‘এটা বাংলার গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর বড়ো আঘাত। গরিব মানুষদের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, এবার তাঁদের নাগরিক অধিকারও কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।’ এই ইস্যুতে কংগ্রেস ও বামফ্রন্টও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বামফ্রন্টের তরফে বলা হয়েছে, সংশোধনের নামে জাতপাত, শ্রেণি ও ধর্মের ভিত্তিতে বাদ দেওয়ার খেলা চলছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ভয় পাচ্ছেন বহু মানুষ। প্রশ্ন উঠছে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও।

প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্ট ২০২২ সালে নির্দেশ দিয়েছিল, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটিতে থাকতে হবে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলনেতা ও প্রধান বিচারপতিকে। কিন্তু ২০২৩ সালে পাশ হওয়া নতুন আইনে সে কাঠামো বদলে ফেলে মোদি সরকার। তাতে বলা হয়, কমিটিতে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার একজন সদস্য এবং বিরোধী দলনেতা। বিরোধীদের অভিযোগ, এই বদলের ফলে সিইসি নির্বাচন কার্যত কেন্দ্রীয় সরকারের ইচ্ছানুযায়ী হচ্ছে। বিতর্ক আরো জোরদার হয় যখন জ্ঞানেশ কুমারকে নতুন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তাঁর নেতৃত্বেই শুরু হয়েছে এই বছরের ‘এসআইআর’। প্রথমে বিহারে, পরে পশ্চিমবঙ্গে। বিহারকে কেন্দ্র করে এ বিষয়ে মামলাও চলছে সুপ্রিম কোর্টে।

তৃণমূলের দাবি, এ ইস্যুতে দল বড়োসড়ো রাজনৈতিক বার্তা তৈরি করতে চলেছে। এক তৃণমূল সাংসদের কথায়, ‘বাংলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। সে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে রাজপথে নামতে প্রস্তুত তৃণমূল।’ অর্থাৎ, একথা স্পষ্ট যে দুর্গাপুজো মিটতেই রাজ্যে রাজনৈতিক ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে শুরু করেছে। কালীপুজো ও ভাইফোঁটা পেরোনোর পরেই, নভেম্বরের গোড়ায় ঝড়জঞ্ঝা আরো তীব্রতর হতে পারে বলেই আশঙ্কা রাজনৈতিক মহলের। বিধানসভা ভোটের আবহে এসআইআর-কে সামনে রেখে একদিকে যখন বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ ইস্যু সামনে আনছে, অন্যদিকে তখন রাজ্যের শাসক দল বিষয়টিকে তুলে ধরছে ‘গরিবের অধিকার’ বনাম ‘বহিরাগতদের ষড়যন্ত্র’ হিসাবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!