- এই মুহূর্তে ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
- আগস্ট ৩০, ২০২৪
ইন্দ্রপতন। প্রয়াত গদ্য-পদ্যের কমল, ভালো পাহাড় অভিভাবকহীন
বাংলা সাহিত্যের আরেক ইন্দ্রপতন । আজ শুক্রবার, দুপুর তিনটেয়, জামশেদপুরের টাটা হাসপাতালে ভালোপাহাড়কে অনাথ করে দিয়ে, প্রিয়বন্ধুদের সঙ্গ ছেড়ে থমকে গেল কবি ও তাঁর বহুমাত্রিক লেখক কমল চক্রবর্তীর ইহজাগতিকতার সমস্ত অভিযান। বয়স হয়েছিল ৮০। দিনকয়েক আগে, হঠাৎ পড়ে গিয়ে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে, রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যায় মস্তিস্কের। টাটা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় কবিকে। চিকিৎসকরা বহু চেষ্টা করেও তাঁর জ্ঞান ফেরাতে পারেননি। টানা ৯দিন কোমায় থাকলেন। খবর ছড়িয়ে পড়ে ঘনিষ্ঠ মহলে। উদ্বেগ নিয়ে কেউ কেউ ছুটে গেলেন জামশেদপুর। ডাক্তাররা অসহায়, বলেই দিলেন জীবনবৃত্তে ফিরিয়ে আনা কঠিন। চেষ্টা চালিয়ে গেলেন, হার মানতে হল। শুক্রবার সকাল থেকে প্রাণস্পন্দন প্রায় হারিয়ে যায়, আশঙ্কা বাড়তে থাকে। তিনটেয় চিকিৎসকরা জানিয়ে দিলেন, কমল চক্রবর্তী প্রয়াত। তাঁর মৃ্ত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লো।
কমলের জন্ম জামশেদপুরে, ১৯৪৬ সালে। লেখাপড়াও ওখানে। টাটায় কাজ করতেন। পাশাপাশি কবিতা লিখতেন, কলকাতার সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগ তৈরি হয় কৌরব পত্রিকার মাধ্যমে। ষাটের, সত্তরের, এমনকি পঞ্চাশের এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ লেখক কবি নেই, যিনি কৌরবে লেখেননি।
কবিতা দিয়ে লেখা শুরু, পরে কমল নিজেকে ছাড়িয়ে গিয়ে গদ্য-পদ্যের পরীক্ষা নিরীক্ষায় ঢুকে পড়লেন। উপন্যাস, গল্প। আত্মকথা, কী বিচিত্র তাঁর লেখকসত্তার সফর।সাবলীল, তীক্ষ্ণ গদ্য। কখনো বিদ্রুপে পরিপূর্ণ, কখনো রোমান্টিকতায় আচ্ছন্ন। গত কয়েকবছর থেকে তাঁর রচনাসমগ্র প্রকাশ করছেন অভিযান পাবলিশার্সের মারুফ হোসেন। এসব লেখালেখির সংগ্রহ প্রমাণ করছে কমলের প্রাণচাঞ্চল্য আর যুক্তির তীক্ষ্ণতা। আবেগের যুক্তি যে কী প্রবল আর প্রগাঢ় হতে পারে, কমল তার এক উজ্জ্বলতর উদাহরণ। কবিতার শৈলী কিংবা গদ্য-প্রকরণে পুরোপুরি স্বতন্ত্র। সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়, তুষার রায়, কমলকুমার মজুমদার, দেবেশ রায়, বাসুদেব দাশগুপ্ত, মতিনন্দীর একান্ত পাঠক হয়েও কারো গদ্য তাঁকে প্রভাবিত করেনি। সম্ভবত শেষ বড়ো লেখা ‘বোহেমিয়ানের বত্রিশ ভাজা’ উৎসব সংখ্যা আরম্ভর জন্য লিখেছিলেন কমল। শীঘ্রই বের হবে। কমল বৃত্তান্তের সেরা নিদর্শন হয়ে থাকবে তাঁর এই বহুত্বময় আত্মজীবনী। কমলকে নিয়ে অনেকদিন থেকে একটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের কাজ করছেন গহন পত্রিকার সম্পাদক অধ্যাপক মোস্তাক আহমেদ। বের হবে, অনতিবিলম্বে। কমলের অশরীরী উপস্থিতিতে গহন অবশ্যই জানিয়ে দেবে, কমল চক্রবর্তী বলতে বাংলার পাঠক, বাঙালির সাহিত্যচর্যা কী বোঝে, গরুত্ব তাঁর কোথায় ? বহুদিন জুড়ে পুরুলিয়ার সীমান্তে পরম যত্নে ভালো পাহাড় নির্মাণ করে, সেখানেই থাকতেন কমল।দুঃস্থ ছাত্রছাত্রী আর তাঁর বৃক্ষনাথের সঙ্গে। এও তাঁর অন্যতম সেরা সৃষ্টি। কমলের মৃত্যুতে ভালোপাহাড় তার অভিভাবককে হারাল।আমরাও আপাতত স্বজনহারা। ৫৪ বছরের বন্ধুত্বকে মৃত্যুর মতো সামান্য ঘটনা কি ম্লান করে দেবে ? অসম্ভব ।
❤ Support Us






