Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ২৮, ২০২৫

চন্দননগরে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল ‘সবচেয়ে বড়ো’ জগদ্ধাত্রী মণ্ডপ, প্রতিমা ! আহত অন্তত ৭। তোরণ ধসে তমলুকেও বিপত্তি, ‘মান্থা’র প্রভাবেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
চন্দননগরে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল ‘সবচেয়ে বড়ো’ জগদ্ধাত্রী মণ্ডপ, প্রতিমা ! আহত অন্তত ৭। তোরণ ধসে তমলুকেও বিপত্তি, ‘মান্থা’র প্রভাবেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা

জগদ্ধাত্রী পুজোয় মাতোয়ারা হুগলির চন্দননগরে সপ্তমীর বিকেল পরিণত হলো প্রবল আতঙ্কের পরিবেশে। কানাইলালপল্লির জগদ্ধাত্রী পুজো মণ্ডপ, যা এ বছর ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় জগদ্ধাত্রী মূর্তি’র দাবি তুলেছিল, সেই বিশাল মণ্ডপ কাঠামো হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল আচমকাই। মণ্ডপের তলায় চাপা পড়ে জখম অন্তত ৭ জন দর্শনার্থী, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিচারক মণ্ডলীর এক সদস্যও। আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গিয়েছে। সবাইকে দ্রুত চন্দননগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার বিকেলে দমকা হাওয়া শুরু হয় চন্দননগর এলাকায়। সে সময় মণ্ডপে উপস্থিত ছিলেন বহু দর্শনার্থী ও বিচারক মণ্ডলীর সদস্যরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাওয়ার দমকে প্রথমে ফাইবারের বিশাল জগদ্ধাত্রী মূর্তিটি দুলতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই মণ্ডপের কাঠামো হেলে পড়ে, তারপরই বিকট শব্দে গোটা প্যান্ডেলটি ভেঙে পড়ে পড়ে যায়। ভেভে গেছে প্রতিমাটিও । মুহূর্তে শুরু হয় চিৎকার-চেঁচামেচি ও হুড়োহুড়ি। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। চন্দননগর পুলিশ কমিশনার অমিত পি জাভালগি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ তদারকি করেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা পৌঁছাই। কয়েকজন দর্শনার্থী চাপা পড়েছিলেন, তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্যান্ডেলের কাঠামো সরিয়ে দেখা হয়েছে, নীচে আর কেউ আটকে নেই। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।’

দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান চন্দননগরের মেয়র রাম চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। ৩জন গুরুতর আহত হয়েছেন, বাকিদের অবস্থা স্থিতিশীল। মণ্ডপের উচ্চতা যথেষ্ট বেশি ছিল, সম্ভবত সেই কারণেই দমকা হাওয়ায় ভারসাম্য হারায় কাঠামোটি। আপাতত দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে।’ স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এবছর কানাইলালপল্লির পুজো মণ্ডপের উচ্চতা ছিল প্রায় ৭৫ ফুট। সামনে তৈরি হয়েছিল ফাইবারের জগদ্ধাত্রী মূর্তি। উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরের শিল্পীরা মূর্তিটি তৈরি করেন। চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী প্রতিমা সাধারণত ২৫-৩০ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় জগদ্ধাত্রী’ উপাধি অর্জনের আশাতেই এবার সেই সীমা ছাড়িয়ে যায় কানাইলালপল্লি। পুজো কমিটির দাবি ছিল, এ বছর তাঁদের পুজো ৫২ বছরে পা দিল। তাই দর্শনার্থীদের জন্য কিছু ভিন্ন কিছু উপহার দিতে চেয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেই ‘চমক’ই শেষ পর্যন্ত রূপ নিল বিপর্যয়ে। ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। পুলিশ বিশাল বাহিনী নামিয়ে এলাকা ঘিরে ফেলে। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে উদ্ধারকাজ।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’র প্রভাবে মঙ্গলবার দুপুর থেকেই দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বিক্ষিপ্ত ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। বিকেলের দিকে পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের হাকোল্লা এলাকায় জগদ্ধাত্রী পুজোর জন্য তৈরি বিশাল তোরণটি দমকা হাওয়ায় ভেঙে পড়ে রাজ্য সড়কের উপর। এর জেরে দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ থাকে তমলুক–পাঁশকুড়া সড়ক। তবে সৌভাগ্যবশত সেখানে কেউ আহত হননি। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুজো কমিটির সদস্যরা মিলে রাস্তা পরিষ্কার করেন। আবহাওয়া অফিস বলছে, ঘূর্ণিঝড় ‘মান্থা’ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়লেও তার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে আগামী কয়েক দিন। চন্দননগর ও তমলুকের দুর্ঘটনা সেই প্রাকৃতিক দাপটেরই ফল, এমনটাই মনে করছেন আবহবিদরা।

চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো মানেই আলো, ঐতিহ্য, আর জাঁকজমকের এক অন্য দুনিয়া। কিন্তু সপ্তমীর এই মর্মান্তিক ঘটনা তাতে ছায়া ফেলল। প্রশ্ন উঠছে, চমকের নেশায় নিরাপত্তার দিকটি কতটা অবহেলিত হলো? প্রশাসন ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছে, বড়ো মণ্ডপ বা উঁচু প্রতিমা তৈরি করার আগে প্রতিটি পুজো কমিটিকে ইঞ্জিনিয়ারদের দিয়ে কাঠামো পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। চন্দননগরের বাসিন্দা দেবাশিস ঘোষের কথায়, ‘এ পুজো আমাদের গর্ব। কিন্তু যদি এইরকম দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে আনন্দটা হারিয়ে যায়। আশা করছি, এমন বিপদ যেন ভবিষ্যতে আর না আসে।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!