- এই মুহূর্তে দে । শ
- মার্চ ২১, ২০২৫
প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছেন উপভোক্তারা, ঘর পাচ্ছেন ভূমিহীনরা । আবাস প্রকল্পের কাজ শুরু পূর্ব বর্ধমানে
মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি মতোই আবাস যোজনা প্রকল্পে গৃহহীনদের বাড়ির টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। জেলাজুড়ে প্রথম কিস্তির টাকা মোটামুটি সব উপভোক্তা পেয়ে গিয়েছেন। জেলা প্রশাসন এখন ভূমিহীনদেরও বাংলা আবাস যোজনায় ঘর দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সরকারি জমি বা অন্যের জমিতে অস্থায়ীভাবে ত্রিপল খাটিয়ে, কেউ চালাঘর করে বাস করছেন। যেকোনো সময়ে উচ্ছেদের আতঙ্কে সিঁটিয়ে থাকা ওইসব পরিবারগুলিকে জমির পাট্টা দিয়ে আবাসের টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রাথমিকভাবে জেলাজুড়ে ৩১৩টি পরিবারকে জমি ও বাড়ি দেওয়ার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই পরিবারগুলির কর্তাদের অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই প্রথম কিস্তির টাকা ঢুকে গিয়েছে।শুরু হয়েছে বাড়ি তৈরির কাজও।
যাদের নিজস্ব জমি রয়েছে, তারা টাকা পাওয়ার সময় যাতে কোনওভাবেই কেউ আঙুল তুলতে না পারে, সে ব্যাপারে বাড়তি সতর্ক পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন জেলাজুড়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে।
জেলায় এই প্রকল্পে টাকা পাওয়ার জন্য ৭৯ হাজার ৩০৯ জনের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে। এই উপভোক্তারা সবমিলিয়ে ২ ধাপে ৪৭৫ কোটি ৮৫ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা পাবেন। প্রথম কিস্তির জন্য বরাদ্দ ৬০ হাজার টাকা। বাকি টাকা মিলবে দ্বিতীয় কিস্তিতে। এই টাকায় যাতে বাড়িই তৈরি হয়, সে ব্যাপারে নজরদারি চালাবে প্রশাসন। অন্য খাতে খরচ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে বলে উপভোক্তাদের কাছ থেকে মুচলেকাও নেওয়া হয়েছে। অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকলেই উপভোক্তা সঙ্গে সঙ্গেই মেসেজ পেয়ে যাবেন।
উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টও যাচাই করে নেওয়া হয়েছে। এই টাকার প্রাপকদের যাতে কাউকে কাটমানি দিতে না হয়, সে ব্যাপারে পঞ্চায়েত কার্যালয় থেকে শুরু করে জেলা স্তর পর্যন্ত সর্বত্র সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। কোনও অভিযোগ থাকলে জানাতে বলা হয়েছে। কাটোয়ার বিধায়ক তথা পূর্ব বর্ধমান জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি বলছিলেন, ‘যে টাকা দেওয়ার কথা কেন্দ্রের। সেই টাকা দিচ্ছেন মমতা ব্যানার্জি। পুরো প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনের তরফে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
এদিকে আবাস প্রকল্পের তালিকায় নাম নথিভুক্তির যোগ্যতার পরিসর বাড়িয়েছে রাজ্য সরকার। এতদিন নিয়ম ছিল, নিজস্ব জমি থাকলে তবেই বাড়ি করার জন্য আবাস যোজনার টাকা মিলবে। এর ফলে হতদরিদ্র ভূমিহীনরা এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারতেন না। সূত্রের খবর, বিষয়টি নজরে আসতেই তৎপর হন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। ঠিক হয়েছে, হতদরিদ্র ভূমিহীনদের জমির পাট্টা দিয়ে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে নথিভুক্ত করা হবে। পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, জেলাজুড়ে হতদরিদ্র ভূমিহীন ও গৃহহীন মোট ৪৯৬টি পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। তাদেরকে পাট্টা জমি দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে ৮২টি প্লট চিহ্নিত করা হয়েছে।
এছাড়াও বাংলার বাড়ি প্রকল্পের কাজে নজরদারি চালানোর জন্য বিশেষ অ্যাপস চালু করেছে জেলা প্রশাসন। বাড়ি তৈরির কাজ কতটা এগোল, ওই অ্যাপসের সাহায্যে নবান্নে বসেই আধিকারিকরা জানতে পারবেন।
❤ Support Us






