Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ৩১, ২০২৫

ফি বছর ১২ শতাংশ হারে বাড়ছে রাজ্যের অর্থনীতি, তথ্য পেশ অমিত মিত্রর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ফি বছর ১২ শতাংশ হারে বাড়ছে রাজ্যের অর্থনীতি, তথ্য পেশ অমিত মিত্রর

রাজ্যের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. অমিত মিত্র বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রের অর্থনৈতিক নীতি, কর্মসংস্থানের তথ্য ও পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক কৌশল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, “বাংলা এখন অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে দু’ পায়ে হাঁটছে—একদিকে বড় পুঁজিগত বিনিয়োগ, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য।”

দুটি পায়ে হাঁটার অর্থনীতি কি তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর্থিক উপদেষ্টা বলেছেন, “একদিকে আমরা অবকাঠামো ও শিল্প বিনিয়োগ বাড়াচ্ছি, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME), কৃষি এবং সামাজিক খাতকে সমান গুরুত্ব দিচ্ছি।”

তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, রাজ্যের পুঁজিগত ব্যয় ২০১০-১১ অর্থবছরে ২,৬৩৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২৩-২৪ সালে ২৯,৭৫৭ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। “এটি বাংলার অর্থনীতির মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করছে,” বলেন মিত্র।

কেন্দ্রের প্রতি তীব্র আক্রমণ করে অমিত মিত্র বলেন, “কেন্দ্র রাজ্যের প্রাপ্য অর্থ আটকে রেখেছে—যা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার।” তিনি আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব কর রাজস্ব ২০১০-১১ সালে ২১,১২৮ কোটি টাকা থেকে ২০২৩-২৪ সালে ৮৯,৯৮৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা রাজ্যের আর্থিক স্বনির্ভরতার প্রমাণ।”

বেকারত্ব প্রসঙ্গে ড. মিত্র কেন্দ্রের প্রকাশিত বেকারত্বের তথ্যকে “ভুল ও বিভ্রান্তিকর” বলে অভিহিত করেন। তাঁর বক্তব্য, “যে মানুষ সপ্তাহে মাত্র এক ঘণ্টা কাজ করেন, তাঁকেও কর্মরত ধরা হচ্ছে — এটা অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের বিকৃতি।”
তিনি বাজেটে ঘোষিত ১ কোটি ইন্টার্নশিপ প্রকল্পকেও “অবাস্তব প্রতিশ্রুতি” বলেন, উল্লেখ করে বলেন, “প্রতি বড়ো কোম্পানিকে বছরে প্রায় ৪,০০০ ইন্টার্ন নিতে হবে—এটা বাস্তবে সম্ভব নয়।”

বাংলার অর্থনৈতিক স্থিতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অমিত মিত্র দাবি করেন, কেন্দ্র ঋণ-জিডিপি অনুপাত নিয়ে বাংলাকে অপমান করতে চাইলেও প্রকৃত চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। “বাংলার অর্থনীতি বছরে প্রায় ১২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কর আদায় বেড়েছে, মানুষের আয়ও ধীরে ধীরে উন্নতি করছে। তাই ঋণের অজুহাত তুলে বাংলার উন্নয়নকে ছোট করা যাবে না।”

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসঙ্গে টেনে অমিত মিত্র আরও সতর্ক থাকার কথা উল্লেখ করে বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্কনীতি ও বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গের রপ্তানিনির্ভর শিল্পকে চাপে ফেলতে পারে। “ইঞ্জিনিয়ারিং, চামড়া ও সামুদ্রিক পণ্য খাতের রপ্তানি অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে—এখানে দ্রুত কূটনৈতিক পদক্ষেপ জরুরি।”

অমিত মিত্রের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, পশ্চিমবঙ্গ এখন নিজের অর্থনৈতিক পথেই দৃঢ়ভাবে এগিয়ে চলেছে। কেন্দ্রের আর্থিক নীতি ও তথ্যপ্রদানের ধরন নিয়ে তাঁর সমালোচনা রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ালেও, বাংলার উন্নয়নমুখী অর্থনীতি যে বাস্তবে এগোচ্ছে, তার প্রমাণ তিনি পরিসংখ্যানেই তুলে ধরেছেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!