- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ১১, ২০২৫
তেলেঙ্গনা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পন তিন শীর্ষ মাওবাদী নেতার
মাওবাদী সংগঠনের কাছে আরও একটা বড় ধাক্কা। তেলেঙ্গনায় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পন করলেন রাজ্য কমিটির তিনজন সিনিয়র সদস্য। তিনজনই সিপিআই (মাওবাদী) কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যারা কয়েক দশক ধরে সশস্ত্র সংগ্রামে ছিলেন। শুক্রবার হায়দরাবাদে তেলঙ্গানার পুলিশের ডিজি বি শিবধর রেড্ডির কাছে আত্মসমর্পণ করেন তাঁরা। মাওবাদীদের তিনজন সিনিয়র রাজ্য কমিটির সদস্যর এই আত্মসমর্পণকে রাষ্ট্রের মাওবাদী দমনে অভিযানে নৈতিক বজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আত্মসমর্পণকারী মাওবাদী নেতারা হলেন, সিদ্দিপেট জেলার কুনকাটি ভেঙ্কটাইয়া (৫২), যিনি রমেশ এবং বিকাশ নামেও পরিচিত। ৩৬ বছর ধরে তিনি আন্ডারগ্রাউন্ড ছিলেন এবং দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটির অধীনে দক্ষিণ বস্তার বিভাগীয় কমিটির ইনচার্জ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দ্বিতীয় জন হলেন, হনুমাকোন্ডা জেলার মোগিলিচের্লা ভেঙ্কটরাজু (৪৫), যিনি রাজু এবং চান্দু নামে পরিচিত ছিলেন। ভেঙ্কটরাজু ৩৫ বছর ধরে আন্ডারগ্রাউন্ড ছিলেন এবং দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটির চেতনা নাট্য মঞ্চের ইনচার্জ ছিলেন। তৃতীয়জন হলেন, থোডেম গঙ্গা (৪২), যাকে গঙ্গাভা এবং সনি নামে ডাকা হয়। তিনি ছত্তিশগড়ের বাসিন্দা। থোডেম ২১ বছর ধরে আন্ডারগ্রাউন্ড ছিলেন। তিনি দক্ষিণ বস্তার ডিভিসির জননাথন সরকারের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
তেলেঙ্গনা পুলিশের ডিজি বি শিবধর রেড্ডি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘শুক্রবার তিন শীর্ষ মাওবাদী নেতা আত্মসমর্পন করেছে। এই আত্মসমর্পণ মাওবাদী আন্দোলনের জন্য একটা বড় ধাক্কা। মাওবাদী সদস্যদের মধ্যে ক্রমশ উপলব্ধি হচ্ছে যে তাদের আদর্শ আর প্রাসঙ্গিক নয়। দলটি তাদের সশস্ত্র সংগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেছে এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও আদর্শের বিভেদে জর্জরিত।’
শিবধর রেড্ডি সিপিআই (মাওবাদী) পলিটব্যুরো সদস্য মাল্লুজুলা ভেনুগোপাল ওরফে সোনুর সাম্প্রতিক একটা বিবৃতি তুলে ধরেন। সেই বিবৃতিতে মাল্লুজুলা স্বীকার করেছেন যে, দল পথ হারিয়ে ফেলেছে। ডিজিপি রেড্ডি মাল্লুজুলার বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। বলেছেন যে, এটি চরমপন্থী গোষ্ঠীর মধ্যে পরিবর্তিত চিন্তাভাবনার প্রতিফলন ঘটায়। তিনি বলেন, ‘মাওবাদী নেতৃত্ব মূলত তেলেঙ্গানার লোকদের হাতে। ১২ জন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যের মধ্যে ৮ জনই রাজ্যের আদিবাসী। তেলেঙ্গানা মাওবাদীদের জন্মভূমি হলেও এখন আর তাদের তাদের কর্মভূমি নয়।’
তেলেঙ্গনা পুলিশের ডিজি রাজ্যের সাফল্যের মাত্রা প্রকাশ করে বলেন, ‘শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই ৪১২ জন মাওবাদী তেলেঙ্গানা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। এই আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে প্রায় ৯০% ছত্তিশগড়ের মাওবাদী। যা ইঙ্গিত দেয় যে, তেলেঙ্গানা নীতি রাজ্যের সীমান্ত জুড়ে একটা বড় প্রভাব ফেলছে।’ রেড্ডি আত্মসমর্পণের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য কয়েকটি কারণের কথা জানিয়েছেন। একদিকে যেমন রয়েছে, রাজ্যের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতি। যা ১৯৯১ সাল থেকে কার্যকর এবং অন্যান্য রাজ্যগুলি এটি অনুকরণ করেছে। অন্যদিকে, আন্তঃরাজ্য সীমান্তে ‘অপারেশন কাগার’–এর মতো তীব্র দমন অভিযান।
শিবধর রেড্ডি বলেন, ‘আমরা আত্মসমর্পণকে উৎসাহিত করি। আরও বেশি সংখ্যক মাওবাদী আত্মসমর্পণের জন্য আবেদন জানাচ্ছে। সরকার তাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার সাথে জীবন পুনর্গঠনে সহায়তা করার জন্য প্রত্যেককে ২০ লক্ষ টাকা নগদ পুরস্কারসহ সকল সুবিধা প্রদান করবে। আমরা ভবিষ্যতে আরও আত্মসমর্পণের আশা করছি, এবং তেলেঙ্গানায় মাওবাদীদের পুনরায় সংগঠিত হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।’
❤ Support Us








