- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
ভারতীয় পণ্যে ৫০% মার্কিন শুল্ক ‘সম্পূর্ণ বেআইনি’, প্রত্যাহারের দাবিতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব
ভারতীয় পণ্যের উপর একের পর এক শুল্ক চাপিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে এ বার সরব হল মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস। ভারতের উপর আরোপিত ট্যারিফকে ‘সম্পূর্ণ বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবিতে রেজ়োলিউশন পেশ করেছেন তিন কংগ্রেস সদস্য—ডেবোরা রস, মার্ক ভিসি ও রাজা কৃষ্ণমূর্তি।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (IEEPA)-এর আওতায় ভারতীয় পণ্যের উপর প্রথমে ২৫ শতাংশ সেকেন্ডারি ট্যারিফ আরোপ করে। অভিযোগ ছিল, ভারত আমেরিকান পণ্যের উপর চড়া হারে শুল্ক বসানোর ফলে সেগুলি ভারতীয় বাজারে অত্যন্ত দামী হয়ে যাচ্ছে এবং মার্কিন ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। এর পর রাশিয়া থেকে তেল কেনার অভিযোগে ভারতের উপর আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়। ফলে দুই দফায় ভারতীয় পণ্যের উপর মোট ট্যারিফ দাঁড়ায় ৫০ শতাংশ, যার জেরে আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের আমদানি খরচ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে যায়।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে পেশ করা রেজ়োলিউশনে বলা হয়েছে, এই ট্যারিফ শুধু ভারতের জন্য নয়, আমেরিকার শ্রমিক, গ্রাহক এবং সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পক্ষেও ক্ষতিকর। ডেবোরা রসের দাবি, নর্থ ক্যারোলিনায় ভারতীয় সংস্থাগুলির বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে এবং সেখানকার অর্থনীতি ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে জড়িত। ভারতীয় কোম্পানিগুলির বিনিয়োগের ফলে রাজ্যে হাজার হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে, কিন্তু ট্যারিফের কারণে সেই অর্থনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মার্ক ভিসি জানান, এই ‘অবৈধ ট্যারিফ’-এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ আমেরিকান পরিবারগুলির উপর। তাঁর কথায়, “ট্যারিফের জেরে টেক্সাসের মানুষের মাসিক খরচ বেড়ে যাচ্ছে। কার্যত বাড়তি করের বোঝা চাপছে সাধারণ গ্রাহকদের উপর।”
রাজা কৃষ্ণমূর্তিও একই সুরে বলেন, ট্যারিফের ফলে আমেরিকার শ্রমিক ও সাধারণ ভোক্তাদের ক্ষতি হচ্ছে। তাঁর মতে, এই শুল্ক প্রত্যাহার করা হলে আমেরিকা-ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়বে।
প্রসঙ্গত, এর আগেও মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেটে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতির বিরুদ্ধে রেজ়োলিউশন পেশ করেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, বাণিজ্য সংক্রান্ত সাংবিধানিক ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে ফিরিয়ে আনা এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করাই এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য।
এখন প্রশ্ন উঠছে—কংগ্রেসে এই বিরোধিতার ফলে কি ট্রাম্প প্রশাসনের ট্যারিফ নীতিতে কোনও পরিবর্তন আসবে, নাকি ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যিক সম্পর্কে টানাপড়েন আরও বাড়বে?
❤ Support Us






