- এই মুহূর্তে দে । শ
- নভেম্বর ১, ২০২৫
ভোটার তালিকায় পরিবারের নাম থাকা সত্ত্বেও ভিনদেশি তকমা, বীরভূমের অন্তঃসত্ত্বা সোনালি কবে ফিরবেন দেশে ? প্রশ্ন তুলে বিজেপিকে বিঁধলো তৃণমূল
বীরভূমের গর্ভবতী সোনালি খাতুনের বাংলাদেশে পুশব্যাকের ঘটনা ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, এটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক নিষ্ঠুরতার উদাহরণ নয়, বরং বিজেপি-নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনের এক সুচিন্তিত রাজনৈতিক কৌশল। সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “যখন এক গর্ভবতী মহিলাকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ বলা হয়, অথচ তাঁর বাবা-মা ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ভারতীয় নাগরিক হিসেবে তালিকাভুক্ত— তখন সেটি ভুল নয়, এটি আসলে এক নৈতিক অধঃপতন।”
তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির তথাকথিত “এস.আই.আর.” অভিযান প্রকৃতপক্ষে বাংলার মানুষের উপর এক পরিকল্পিত আঘাত। এই অভিযান ভয় ও বিভাজনের রাজনীতি ছড়িয়ে দিয়ে নাগরিকদের নাগরিকত্ব প্রশ্নে অপমানিত করছে এবং বাংলার সামাজিক ঐক্য নষ্ট করছে। দলের বক্তব্য, “একজন গর্ভবতী বাঙালি মহিলাকে অন্য দেশে নির্বাসিত করে বিজেপি শুধু সংবিধানের নীতিকেই নয়, প্রজাতন্ত্রের বিবেককেও কলঙ্কিত করেছে।”
এদিকে, বাংলাদেশের হাইকোর্ট সম্প্রতি নির্দেশ দিয়েছে— পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের অন্তঃসত্ত্বা সোনালি খাতুন ও তাঁর সহবন্দিদের ভারতে ফেরানোর জন্য ভারতীয় হাইকমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এই নির্দেশের কপি প্রকাশ্যে আসায় সোনালিদের পরিবারের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
উল্লেখ্য, গত জুনে দিল্লির বাসিন্দা সোনালি খাতুন, সুইটি বিবি-সহ মোট ছ’জনকে অসম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করার অভিযোগ ওঠে বিএসএফের বিরুদ্ধে। তাঁরা বর্তমানে বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সংশোধনাগারে ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে বন্দি।
এর আগে, সোনালি ও অন্যান্যদের পরিবারের দায়ের করা মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট ২৬ সেপ্টেম্বর নির্দেশ দেয়, চার সপ্তাহের মধ্যে ওই ছ’জনকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে হবে। একইসঙ্গে, দিল্লি পুলিশের আটক ও বিতাড়নের সিদ্ধান্তও বাতিল করা হয়। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সেই নির্দেশ বাস্তবায়নের কোনও অগ্রগতি এখনো স্পষ্ট নয়।
বাংলাদেশের আদালতে জামিন হলেও ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমায় তাঁরা কোথায় থাকবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এই অবস্থায় বাংলাদেশের হাইকোর্টের নতুন নির্দেশ তাঁদের স্বস্তি দিয়েছে।
তৃণমূল সাংসদ ও পরিযায়ী শ্রমিক উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান সামিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাঁর প্রতিনিধি মফিজুল শেখ বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন এবং সোনালিদের সহায়তায় কাজ করছেন।
সামিরুল ইসলাম ‘এক্স’ -এ লিখেছেন, “আমাদের দেশ যাদের বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করতে চেয়েছিল, তাদেরই এখন বাংলাদেশ আদালত ভারতীয় হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আদালত শুধু তাঁদের নাগরিকত্ব নয়, আধার নম্বর ও আবাসিক ঠিকানাও প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই রায় ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে পাঠানো হয়েছে, যেখানে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁদের— বীরভূমের অন্তঃসত্ত্বা সোনালি খাতুনকে নিরাপদে ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “বাংলা-বিরোধী বিজেপি দরিদ্র বাংলাভাষী মানুষকে বাংলাদেশি বলে নির্বাসিত করার চেষ্টা করছে। এমনকি বাংলার বিজেপি নেতারা তাঁদের রোহিঙ্গা হিসেবেও দেখাতে চেয়েছিলেন।”
সামিরুল ইসলাম বলেন, “এই আক্রমণ আমাদের পরিবারকেও ছাড়েনি। তবুও আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃঢ় নেতৃত্ব আমাদের লড়াইয়ের শক্তি জুগিয়েছে।”
শেষে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কলকাতা হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছে সোনালি ও অন্যদের চার সপ্তাহের মধ্যে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাহলে কেন্দ্রীয় সরকার কবে সেই নির্দেশ পালন করবে ?”
❤ Support Us






