- এই মুহূর্তে দে । শ
- নভেম্বর ৪, ২০২৫
এসআইআর নিয়ে পথে জোড়াফুল-পদ্ম শিবির । রেড রোডে মমতা-অভিষেকের মেগা মিছিল । বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে দিল্লিতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি অভিষেকের, পাল্টা তোপ শুভেন্দুর
রাজ্যে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়া শুরু হতেই উত্তপ্ত রাজনীতি। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরাট প্রতিবাদ মিছিল কলকাতার রাস্তায়, অন্যদিকে বিজেপির পাল্টা মিছিল সোদপুরে— দুই শিবিরের মুখোমুখি লড়াইয়ে কার্যত রণক্ষেত্র পশ্চিমবঙ্গের রাজপথ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এস আই আর -এর বিরোধিতা করে বিজেপিকে মানুষের, বাংলার শত্রু বলে আক্রমণ করেন। পাশাপাশি সোদপুরের মিছিল আগরপাড়ায় পৌঁছনোর পর বক্তব্য রাখতে উঠে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “তৃণমূলের মিছিল সংবিধান বিরোধী মিছিল, ওটা হিন্দুদের মিছিল নয়, জামাতদের মিছিল। হাবড়া, অশোকনগর, হিঙ্গলগঞ্জ সহ সীমান্তবর্তী জেলা থেকে মানুষ এনে এই মিছিল করেছে তৃণমূল। আমাদের মিছিল হিন্দুদের মিছিল।”
মঙ্গলবার রেড রোড থেকে জোড়াসাঁকো পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের এস আই আর-বিরোধী মেগা মিছিল ছিল নজরকাড়া মানুষের ভিড়ে ঠাসা। সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিতে বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিরা এই মিছিলে ছিলেন। ছিলেন সিনেমা, সিরিয়ালের অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বে বিশাল এই মিছিল শুরু হয় বি.আর. আম্বেদকরের মূর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। হাতে ভারতের সংবিধান, কণ্ঠে ইন্দ্রনীল সেনের গাওয়া প্রতিবাদের গান— যার কথা ও সুর দিয়েছেন নিজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এই ছিল মিছিলের চরিত্র।
রেড রোড থেকে শুরু হয়ে সেন্ট্রাল এভিনিউ পেরিয়ে মিছিল পৌঁছয় জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির মূল ফটকে, যেখানে মমতা ও অভিষেক দু’জনেই একাধিক ইস্যুতে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “২০০২ সালে শেষবার এসআইআর হয়েছিল। তার পর বাংলায় প্রায় আড়াই বছর ভোট বন্ধ ছিল। আজ হঠাৎ করে মোদিবাবু ও অমিত শাহকে খুশি করতে এই ঘোষণা করা হয়েছে। এটা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। বাংলার একজন যোগ্য ভোটারের নাম বাদ গেলেও বিজেপি সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দেব।”
তিনি আরও যোগ করেন, “বাংলার উপর ওদের প্রবল রাগ। ওরা চায় ১-২ কোটি মানুষকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাতে। বাংলার ভোট কেটে ক্ষমতা দখল করাই ওদের উদ্দেশ্য। কিন্তু আমি স্পষ্ট বলে দিচ্ছি, বাংলার মানুষকে কেউ ভয় দেখাতে পারবে না। আধারের নাম করে টাকা নিচ্ছে, এখন বলে আধার চলবে না, সবই এক বৃহৎ প্রতারণা।”
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মন্তব্য, “২০২৪-এর ভোটে ওরা জিততে পারত না, তাই কমিশন শতাংশ বাড়িয়ে দিল। এজেন্সির মাধ্যমে ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে। আমি চেয়ারকে সম্মান করি, কিন্তু দালালি করারও একটা সীমা আছে।”
মানুষকে সতর্ক করে মমতা বলেন, “কেউ যদি ব্যাঙ্ক বা কেন্দ্রীয় সংস্থার নামে ডেটা সংগ্রহ করতে আসে, ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না। তৃণমূল সরকার প্রতিটি এলাকায় হেল্প ডেস্ক করছে। কোনও সমস্যা হলে সেখানে যান, আমরা পাশে আছি।”
মিছিলের শেষ প্রান্তে জোড়াসাঁকোর মঞ্চে দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, “আগামী দিনে তৃণমূল দিল্লি যাবে। এস আই আর -এর নামে বাংলার মানুষের উপর অত্যাচারের জবাব আমরা রাজধানীতেই দেব। বিজেপি সরকার আজ ঠিক করছে কে ভোট দেবে, কে দেবে না। কিন্তু বাংলার মানুষ দেখিয়ে দেবে— তাদের ক্ষমতার উৎস এখানেই।”
তিনি আরও বলেন, “এই মাটি যেমন আমার, তেমন তোমারও। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যই ভারতের মূল মন্ত্র। ২০২৬ সালের লড়াই কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী করার লড়াই নয়, এটি বিজেপিকে বাংলায় শূন্য করার লড়াই।”
এস আই আর আতঙ্কে সাম্প্রতিক আত্মহত্যার ঘটনাগুলি উল্লেখ করে অভিষেক বলেন, “এস আই আর ঘোষণার পর মাত্র সাত দিনে আমরা সাতজন সহনাগরিককে হারিয়েছি। এই মৃত্যুর দায় বিজেপির। বাংলার মানুষ চুপ করে থাকবে না।”
তিনি আরও যোগ করেন, “দু’দিনের নোটিশে এই জনসমাগম, তাহলে ভেবে দেখুন ২ মাসের মধ্যে দিল্লি গিয়ে আমরা কী করতে পারি। জয় বাংলা বললেই বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া সরকারকে বাংলার মানুষ জবাব দেবে।”
অন্যদিকে, একই দিনে সোদপুরে বিজেপির পাল্টা মিছিলের নেতৃত্ব দেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে তিনি তীব্র আক্রমণ শানান মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে।
শুভেন্দু বলেন, “আমরা খেটে খাওয়া মানুষ, কেউ আমাদের লিফটে তোলে না, প্যারাসুটে নামায় না। কেউ একদিনে নেতা হয়ে যায়, আবার জনগণের ভোটে কেউ নেতা হয়— এই পার্থক্যটা মানুষ জানে।”
তৃণমূলের মিছিলকে “নাটক” বলে কটাক্ষ করে শুভেন্দু দাবি করেন, “যারা দুর্নীতির পাহাড় গড়েছে, তারাই আজ মানুষের অধিকার রক্ষার নাম করে রাজপথে নেমেছে। মানুষ সব বুঝে গেছে।”
❤ Support Us






