Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫

জল জীবন মিশনেও বঞ্চনার অভিযোগ, বকেয়া আদায়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দফতরে তৃণমূল সাংসদরা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জল জীবন মিশনেও বঞ্চনার অভিযোগ, বকেয়া আদায়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দফতরে তৃণমূল সাংসদরা

দেশের প্রান্তিক অঞ্চলে নিরাপদ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘জল জীবন মিশন’-এও বাংলাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, এমনই অভিযোগ তুলে সরব তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের প্রাপ্য ২,৫২৫ কোটি টাকা দীর্ঘদিন ধরে আটকে রেখেছে কেন্দ্র, এমনই দাবি বাংলার শাসকদলের। আর সেই বকেয়া আদায়ের দাবিতে বুধবার কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিলের সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূল সাংসদদের প্রতিনিধি দল। তৃণমূলের অভিযোগ, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের পর থেকে জল জীবন মিশন প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গের জন্য আর কোনও অর্থ বরাদ্দ করেনি কেন্দ্র। অথচ ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পে রাজ্যের পাওয়ার কথা ছিল মোট ৫,০৫০ কোটি টাকা। শেষ পর্যন্ত মিলেছে মাত্র ২,৫২৫ কোটি টাকা। বাকি টাকা এখনো মেটায়নি কেন্দ্র।

বুধবার, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তৃণমূলের ১০ জন সাংসদ অংশ নেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদার, বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়-সহ ৮ জন লোকসভার সাংসদ এবং রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ-সহ ২ জন সাংসদ। বৈঠকে চিঠি দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে জানানো হয়, জল জীবন মিশনের অর্থ না মেলায় রাজ্যের গ্রামীণ পানীয় জল প্রকল্পগুলি কার্যত থমকে যাওয়ার মুখে। বৈঠক শেষে সৌগত রায় জানান, আলোচনার পরিবেশ ইতিবাচক হলেও কবে বকেয়া টাকা মিলবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট আশ্বাস মেলেনি। তাঁর কথায়, ‘আমরা দ্রুত বাংলার প্রাপ্য টাকা মেটানোর দাবি জানিয়েছি। আলোচনা ভাল হয়েছে। তবে কবে টাকা দেওয়া হবে, তা মন্ত্রী বলতে পারেননি। ক্যাবিনেটের অনুমোদন মেলেনি বলে জানানো হয়েছে।’

তৃণমূলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের এই অর্থ আটকে রাখার ফলে গ্রামীণ এলাকায় বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে। নিরাপদ পানীয় জল মানুষের মৌলিক অধিকার হওয়া সত্ত্বেও, রাজনৈতিক কারণে বাংলাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলেই অভিযোগ শাসকদলের। দলের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়েছে, ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের জন্য কেন্দ্র জল জীবন মিশনে পশ্চিমবঙ্গের নামে কোনো অর্থই বরাদ্দ করেনি। এ পরিস্থিতিতেও রাজ্য সরকার প্রকল্প সচল রাখতে নিজেদের দায়িত্বের চেয়েও বেশি বোঝা বহন করেছে। রাজ্যের নিজস্ব তহবিল থেকে অতিরিক্ত ২,৪০১ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে, যাতে পানীয় জল সরবরাহের কাজ বন্ধ না হয়। ফলে রাজ্যের আর্থিক পরিকাঠামোর উপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

১০ কোটিরও বেশি মানুষের রাজ্যকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে শাস্তি দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। বিরোধী দল পরিচালিত রাজ্যগুলির প্রতি কেন্দ্রের এই ধারাবাহিক বৈষম্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেই মত শাসকদলের। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বিবৃতিতে তৃণমূল জানায়, পানীয় জলের মতো অত্যাবশ্যক পরিষেবার অর্থ আটকে রাখা কেবল প্রশাসনিক উদাসীনতা নয়, এটি সাধারণ মানুষের স্বার্থ ও দেশের ফেডারেল কাঠামোর উপর সরাসরি আঘাত। বাংলার ন্যায্য পাওনা আদায়ের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে শাসকদল। এদিকে সংসদে পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশল ঠিক করতে বুধবারই দলের লোকসভার সাংসদদের নিয়ে বৈঠকে বসছেন তৃণমূলের লোকসভা দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সংসদের অন্দরে ও বাইরে এই বঞ্চনার ইস্যু আরও জোরালোভাবে তোলা হবে বলেই ইঙ্গিত তৃণমূল সূত্রের।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!