- এই মুহূর্তে দে । শ
- নভেম্বর ২৫, ২০২৫
সময় দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন । চলতি সপ্তাহেই ভোটার তালিকা নিয়ে ইসি’র সঙ্গে বৈঠক তৃণমূলের
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য আগামী শুক্রবার সকাল ১১টায় দিল্লি যাচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল। দল সূত্রে জানা গেছে, ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত অভিযোগ উত্থাপন ও উদ্বেগ জানাতে এই বৈঠক আয়োজন করা হচ্ছে। সোমবারই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছেন, তাঁরা ১০ জন সাংসদের প্রতিনিধি দল পাঠাবে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আত্মঘাতী বিএলও এবং ভোটারদের চিঠি ও ভিডিও কমিশনের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ চালিয়ে যেতে তারা আগ্রহী। সে প্রেক্ষিতেই তৃণমূলের ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলকে বৈঠকে ডাকা হয়েছে। কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, অনুমোদিত প্রতিনিধির সঙ্গে আরও ৪ জন সদস্য বৈঠকে যোগ দিতে পারবেন। এছাড়া দলের পক্ষ থেকে বৈঠকে অংশ নেওয়ার সকল সদস্যের নাম এবং ব্যবহৃত গাড়ির বিবরণ কমিশনের নির্ধারিত ইমেল ঠিকানায় পাঠাতে হবে।
গত জুলাই মাসে কমিশন রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আরও সুসংগঠিত যোগাযোগ গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছিল। এরপর ২৩ নভেম্বর তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য সময় চেয়ে আবেদন করেছিলেন। চিঠির প্রেক্ষিতেই শুক্রবারের বৈঠক ঠিক করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে দুটি ‘উদ্বেগজনক’ সিদ্ধান্ত নিয়ে কড়া ভাষায় চিঠি পাঠিয়েছিলেন। এরপর দ্বিতীয় চিঠি পাঠিয়ে তিনি আরও তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। দুটি সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে: রাজ্যের সিইও দফতরের উদ্যোগে বাইরে থেকে ১,০০০ ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এবং ৫০ জন সফটওয়্যার ডেভেলপার নিয়োগের পরিকল্পনা এবং বেসরকারি আবাসন কমপ্লেক্সের ভিতরে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব।
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, এতদিন জরুরি ডেটা এন্ট্রি সংক্রান্ত কাজ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সম্পন্ন হতো এবং বর্তমানে বিএসকে কর্মী ও চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি অপারেটররা স্বাভাবিকভাবে কাজ চালাচ্ছেন। সে পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে এত বড়ো সংখ্যক কর্মী নিয়োগের দরপত্র কেন আনা হলো, তা সন্দেহজনক বলে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। মমতার বক্তব্য, ‘যে দায়িত্ব এতদিন জেলা স্তরের অফিসেরা সামলাত, তা হঠাৎ কেন কেন্দ্রীয়ভাবে সিইও দফতর নিতে চাইছে? কি কোনও বিশেষ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য এই সিদ্ধান্ত?’—এমনই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। পাশাপাশি বেসরকারী আবাসন ও সংস্থার ভবনে ভোটকেন্দ্র করবার কমিশনের প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পরপর দুটি চিঠি পাঠানোর পরই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের উদ্যোগ তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে। কমিশনের সঙ্গে এই সরাসরি সংলাপ দলের উদ্বেগ ও অভিযোগগুলি সামনে আনতে কার্যকর একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে।
❤ Support Us






