- এই মুহূর্তে দে । শ
- ডিসেম্বর ৫, ২০২৫
১০০ দিনের কাজে পাহাড়-প্রমাণ কেন্দ্রীয় বকেয়া, সংসদ চত্বরে ধারাবাহিক বিক্ষোভে তৃণমূল কংগ্রেস
পশ্চিমবঙ্গের একশো দিনের কাজ বা মনরেগা প্রকল্প এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পের প্রায় ২ লাখ কোটি টাকার বকেয়া আদায়ে সংসদ চত্বরে ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক আন্দোলনের নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। গত দিনগুলোর মতো, শুক্রবার সকালেও সংসদ শুরুর আগে দলের লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদরা একযোগে সংসদ চত্বরে এবং মকরদ্বারের সামনে বিক্ষোভ দেখান। হাতে ছিল ৫২ হাজার কোটি টাকার দাবির পোস্টার। তৃণমূল সাংসদরা হাতে প্ল্যাকার্ড ধরেই স্লোগান দেন, ‘বাংলার প্রাপ্য বকেয়া কেন মেটানো হচ্ছে না? জবাব চাই, জবাব দাও।’ বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, ‘কেন্দ্র সরকার বাংলাকে বঞ্চিত করছে। মোদি-অমিত শাহরা বাংলার মানুষকে শুকিয়ে মারতে চাইছে। এটাই আমাদের প্রতিবাদের মূল কারণ।’
সাংসদ দোলা সেন অভিযোগ করেন, ‘মধ্যসভার ৬৪ বার অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে। তবু কেন্দ্র টাকা মেলাতে নারাজ। এটি কোনো প্রশাসনিক ঢিলেমি নয়, এটা রাজনীতির শিকার বাংলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারে আঘাত।’ কলকাতা হাই কোর্টও ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছে, রাজ্যের সব বকেয়া ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পসহ মেটাতে হবে। লোকসভায় তৃণমূলের চিফ হুইপ কাকলি ঘোষদস্তিদার বলেন, ‘বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য নির্ধারিত দুই লাখ কোটি টাকার বকেয়া মেলাতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা অবিলম্বে বকেয়া অর্থ মেটানোর দাবিতে প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের কণ্ঠ আরো ঝাঁঝালো, তাঁর দাবি, পিএম আবাস যোজনা, জল জীবন মিশন ও মনরেগা—এই তিনটি প্রকল্পেই বাংলার ন্যায্য প্রাপ্য আটকে রেখেছে কেন্দ্র। অবিলম্বে বকেয়া মেটানো না, বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামতে বাধ্য হবে তৃণমূল।
গতকাল, রাজ্যসভায় দোলা সেন ও ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেছিলেন, ‘কেন্দ্র এখনো পর্যন্ত মনরেগা প্রকল্পে অর্থ মেলাতে ব্যর্থ। বাংলা বঞ্চনার শিকার।’ লোকসভায় জুন মালিয়া বলেন, ‘একশো দিনের কাজের বকেয়া ৪৩ হাজার কোটি টাকার বেশি, বাংলার ৫৯ লাখ কর্মী এখনও প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত।’ বিদ্যুৎ খাতেও কেন্দ্রের অসমান বরাদ্দ তুলে ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদে অভিযোগ তুলেছিলেন, ‘পুনর্গঠন প্রকল্পে বাংলার বরাদ্দ ৬,৪২৩ কোটি টাকা। কিন্তু শেষ তিন বছরে বাংলাকে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৮৭১ কোটি টাকা। অন্য রাজ্যগুলোর তুলনায় বাংলার অংশ অত্যন্ত নগণ্য। কেন এই বৈষম্য।’ তৃণমূল সাংসদের প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি মোদি সরকার।
সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে, পরবর্তীতে দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলেও তৃণমূলের কার্যক্রম দাপটের সঙ্গে চলছে। লোকসভায় কাকলি ঘোষদস্তিদার, শতাব্দী রায়, মহুয়া মৈত্র সহ অন্যান্য সাংসদরা জিরো আওয়ার ও প্রশ্ন–উত্তরের মাধ্যমে সরকারের কাছে চাপ তৈরি করে চলেছেন। রাজ্যসভায় ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেন কেন্দ্র সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে একের পর এক তোপ দাগছেন। এদিকে, পূর্ববর্তী অধিবেশনে কংগ্রেসের মেজাজ, দিল্লির শীতে কোথাও যেন উত্তাপ পাচ্ছে না। তৃণমূল স্পষ্ট করে দিয়েছে, তাঁরা ‘ইন্ডিয়া’ জোটে থেকে জাতীয় স্তরে বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করবে, তবে রাজ্যের আসন্ন ভোটের প্রেক্ষাপটে কংগ্রেসের সঙ্গে সরাসরি ঘনিষ্ঠতা এড়াবে। এর ফলেই তৃণমূল সাংসদের ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সংসদ বৈঠকে গড়হাজির থাকতে দেখা গেছে। জানা যাচ্ছে, শুক্রবার বন্দেমাতরম বিতর্কে দলের মুখ হবেন লোকসভায় সৌগত রায়, রাজ্যসভায় সুখেন্দু শেখর রায়। নির্বাচনী সংস্কার ও এসআইআর ইস্যুতে লোকসভায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায় ও মহুয়া মৈত্র, রাজ্যসভায় দোলা সেন ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের কোণঠাসা করবেন। এ থেকে স্পষ্ট, এই মুহূর্তে বাংলার নির্বাচনকে মাথায় রেখে ইস্যুভিত্তিক বিরোধী ঐক্যের অংশ হিসেবে শুধু বাংলার বঞ্চনা, নির্বাচনী সংস্কার, এসআইআর ও শ্রম আইন সংশোধন বিষয়ে আলাদা কর্মসূচি চালাবে জোড়াফুল শিবির।
❤ Support Us






