Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জানুয়ারি ৬, ২০২৬

নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই শুরু বাংলা বিরোধী চক্রান্ত, রামপুরহাট থেকে বিজেপিকে তোপ অভিষেকের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই শুরু বাংলা বিরোধী চক্রান্ত, রামপুরহাট থেকে বিজেপিকে তোপ অভিষেকের

রামপুরহাটে জনসভায় যোগ দিতে গিয়ে হেলিকপ্টার ওড়ার অনুমতি না মেলায় বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্ধারিত সময়ের প্রায় দু’ঘণ্টা পরে সভাস্থলে পৌঁছেও তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “ধমকানি, চমকানি, ষড়যন্ত্র করে আমাকে আটকানো যাবে না। মাথা নত করব না।”

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার বেহালা ফ্লাইং ক্লাব থেকে হেলিকপ্টারে রামপুরহাটে যাওয়ার কথা ছিল অভিষেকের। তৃণমূলের অভিযোগ, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ডিজিসিএ তাঁর হেলিকপ্টার ওড়ার অনুমতি দেয়নি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সহায়তায় তাঁর সরকারের একটি কপ্টার ভাড়া করে অনুমতি সাপেক্ষে বীরভূমে উড়ে যান অভিষেক। এর ফলে রামপুরহাটের তিলাই ময়দানের সভায় পৌঁছতে প্রায় দু’ঘণ্টা দেরি হয়।

সভামঞ্চে পৌঁছে বিলম্বের জন্য জনতার কাছে ক্ষমা চেয়ে অভিষেক বলেন, সকাল থেকেই হাজার হাজার মানুষ মাঠে অপেক্ষা করেছেন—এটাই তাঁর লড়াইয়ের শক্তি। এরপরই তিনি বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, “নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা হয়নি। তার আগেই বাংলা-বিরোধী জমিদারদের চক্রান্ত শুরু হয়েছে।” তাঁর সংযোজন, “বিজেপির যত জেদ, তার ১০ গুণ জেদ আমার। কথা দিয়েছিলাম যাব—দেরি হলেও গেছি। ১০ জন মানুষ থাকলেও তৃণমূলের হয়ে কথা বলব।”

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মাসজুড়ে ‘আবার জিতবে বাংলা’ কর্মসূচিতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ঘুরছেন অভিষেক। রামপুরহাটের সভা থেকে তিনি ঘোষণা করেন, ২০২৬ সালে চতুর্থবার মা–মাটি–মানুষের সরকার গঠিত হবে। বীরভূমে সবক’টি আসনে তৃণমূলকে জেতানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, লক্ষ্যমাত্রা “১১-০” এবং রাজ্যজুড়ে ২১৪-এর বেশি আসন পেরিয়ে তৃণমূল আরও শক্তিশালী হবে।

লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প নিয়েও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বছরে প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা খরচ করে লক্ষ্মীর ভান্ডার চালু রেখেছে। বিজেপি এই প্রকল্প বন্ধ করতে চায়—এই অভিযোগ তুলে বিজেপি নেতাদের বক্তব্যের অডিয়ো সভামঞ্চে বাজান তিনি। অভিষেকের কণ্ঠে আশ্বাস, “মাসের প্রথমে যেমন পাচ্ছেন, তেমনই পাবেন। বিজেপির যত বড় নেতাই হোক, লক্ষ্মীর ভান্ডার আটকাতে পারবে না।”

কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগ তুলে অভিষেক বলেন, বাংলার প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া আটকে রেখেছে কেন্দ্র। একশো দিনের কাজ, আবাস যোজনা, সর্বশিক্ষা মিশন-সহ একাধিক প্রকল্পের টাকা বন্ধ করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মন্তব্য, “আগামী নির্বাচনে বিজেপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বন্ধ করতে হবে।”

এসআইআর নোটিস নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁর অভিযোগ, অমর্ত্য সেন, বাংলা চলচ্চিত্রের তারকা দেব ও ক্রিকেটার মহম্মদ সামির মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নোটিস পাঠিয়ে বাংলাকে ‘আনম্যাপ’ করার চেষ্টা চলছে। অভিষেক বলেন, “যারা বাংলার মানুষকে আনম্যাপ করতে চায়, তাদেরই বাংলা থেকে আনম্যাপ করে বিদায় করতে হবে।”

বীরভূমের বিজেপি নেতৃত্বকেও আক্রমণ করে একাধিক নেতার বিরুদ্ধে চিটফান্ড, আর্থিক তছরুপ ও গুরুতর অভিযোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। অভিষেকের বক্তব্য, “তথ্য আর পরিসংখ্যানের নিরিখেই লড়াই হবে।”

রামপুরহাটের সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল, কাজল শেখ, রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ এবং তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়। মঞ্চে উঠে অভিষেককে উত্তরীয় পরিয়ে সংবর্ধনা জানান অনুব্রত মণ্ডল।

ভাষণের শেষে অভিষেকের স্পষ্ট বার্তা, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতলে বাংলা শান্তিতে থাকবে। এই লড়াই শুধু তৃণমূলকে জেতানোর নয়—এটা বাংলার সম্মান ও অধিকার রক্ষার লড়াই।”


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!